বিশ্বজিৎ দাস
অনুপ্রবেশ ইস্যুতে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে মেঘালয়ের রাজধানী শিলঙে৷ বেছে বেছে বাঙালি বসতি এলাকা হামলা, গাড়িতে অগ্নিসংযোগ থেকে শুরু করে বাংলার মনিষীদের মূর্তি ভাঙচুর করছে একদল উন্মত্ত যুবক। বুধবার সকাল থেকে শিলঙে আইনশৃংখলা পরিস্থিতি কার্যত ভেঙে পড়েছে। রাস্তায় লাঠিসোঁটা নিয়ে ঘুরছে বাইক বাহিনী। কিন্তু কনরাড সাংমা নেতৃত্বাধীন বিজেপি-এনপিপি সরকারের পুলিশ কার্য নীরব দর্শক। হামলা হুজ্জতির জন্য উগ্রজাতীয়তাবাদী সংগঠন খাসি ছাত্র সংস্থার দিকে আঙুল উঠেছে৷ পাঁচটি দাবিতে বিগত পনেরোদিন ধরে আন্দোলন করছে খাসি ছাত্র সংস্থা।
এই দাবি গুলির মধ্যে রয়েছে ১, রাজ্যে ইনার লাইন পারমিট(আইএলপি) শীঘ্রই কার্যকর করা। আইএলপি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে 'মেঘালয় রেসিডেন্টস সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাক্ট, ২০১৬' অবিলম্বে এবং কঠোরভাবে কার্যকর করা।
২, পরিযায়ী শ্রমিকদের আসা নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি করতে সংশোধিত 'মেঘালয় মাইগ্রেন্ট ওয়ার্কমেন অ্যাক্ট, ২০২০' অবিলম্বে কার্যকর করার দাবি তোলা হয়েছে।
৩, শিলংয়ের উত্তর-পূর্ব ইন্দিরা গান্ধী আঞ্চলিক স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিজ্ঞান সংস্থায় (নিগ্রিমস) হাসপাতালে নার্স নিয়োগের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের অনুপাত ৮০:২০ রাখা এবং স্থানীয় আদিবাসীদের জন্য আসন সংরক্ষণ করা। ৪, সরকারি নিয়োগ বোর্ডে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর চালু করা এবং গ্রেড-বি, সি ও ডি পদের জন্য মৌখিক ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া বাতিল করে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
৫, পূর্ব জয়ন্তিয়া পাহাড় জেলায় অনুষ্ঠিত শ্রী সিমেন্ট কারখানায় সংক্রান্ত গণশুনানিটি পূর্ব-পরিকল্পিত ছিল বলে অভিযোগ তুলে তা বাতিল করার দাবি এবং আন্দোলনকারীদের বাধা দেওয়ার অপরাধে সংশ্লিষ্ট ডিসি , এসপি ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া৷ এই দাবিতে ১৮ আগস্ট চূড়ান্ত সময়সীমা বেধে দিয়ে রাজ্যজুরে আন্দোলন গড়ে তুলে ছাত্র সংস্থা। কিন্তু তাদের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা পেড়িয়ে গেলেও সরকার থেকে ইতিবাচক সাড়া না-পাওয়ায় বুধবার সকাল থেকে ডাইরেক্ট একশনে নেমে পড়ে খাসি ছাত্র সংস্থা। তাদের হামলার প্রধান লক্ষ্য রাজ্যে বসবসারত বাংলাভাষীরা। 'বাঙালিভাষিরা বাংলাদেশি' এই স্লোগান তুলে বাঙালি তাড়াও অভিযানে নেমে পড়েছে একদল উন্মত্ত ছাত্রযুবরা। বাঙালিদের দোকানপাট, বাড়িতে হামলা চালাচ্ছে। বাংলাভাষী শ্রমিকদের উপর শারীরিক আক্রমণ করছে বলে খবর পাওয়া গেছে। গুয়াহাটি থেকে শিলং হয়ে আসা বরাক উপত্যকা ও ত্রিপুরাগামী গাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করছে। শিলং শহরের রিনজা এলাকায় আর আর কলোনিতে নেতাজী ও বিবেকানন্দের মূর্তি ভাঙচুর করে আন্দোলনকারীরা। শিলঙের আসাম-মেঘালয় সীমান্তবর্তী জোরাবাটে জাতীয় সড়ক অবরোধ করে রেখেছে খাসি ছাত্র সংস্থার কর্মীরা। এরফলে বরাক উপত্যকা ও ত্রিপুরাগামী কয়েক শো গাড়ি জোরাবাটে আটকা পড়েছে৷
বরাক উপত্যকা ও ত্রিপুরা থেকে যাওয়া গুয়াহাটিগামী গাড়ি মেঘালয়ের উপর দিয়ে যাওয়ার সাহস পাচ্ছে না৷ রাজ্য কর্মরত বাংলাভাষী শ্রমিক বিশেষ করে বরাক উপত্যকার শ্রমিকরা মেঘালয় থেকে পালাচ্ছেন৷ পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশের কোনো ভূমিকা পরিলক্ষিত হচ্ছে না৷ তবে মেঘালয় পুলিশের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে, তিনজন হামলাকারীকে আটক করা হয়েছে ।
Comments :0