সমাবেশ বৃন্দাবনী মাঠে করার অনুমতি দেয়নি প্রশাসন। মালদহ শহরের রাস্তাতেই হয়েছে সিপিআই(এম)’র সমাবেশ। সেই সমাবেশেই সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখার্জির আহ্বান, বিধানসভারও দখল নিতে হবে। হটাতে হবে দুর্নীতিগ্রস্ত এবং দাঙ্গাবাজ, দুই দল দলকেই।
মীনাক্ষী বলেন, ধূপধুনো দিয়ে তৃণমূল বিজেপিকে উৎসাহিত করছে। তৃণমূলের যদি এতই দম ছিল তাহলে বিধানসভার ভিতরে একটা অধিবেশন ডেকে এসআইএর বিরুদ্ধে কেন একটাও প্রস্তাব দাখিল করল না। তিনি বলেন, আইপ্যাক-কে বাঁচাতে মুখ্যমন্ত্রী দৌড়ে যান। কিন্তু যখন বাংলার মায়েরা, শিশুরা জাল ওষুধের জন্য মারা যায়, তখন একটাও জাল ওষুধের কোম্পানিতে মুখ্যমন্ত্রীকে যেতে দেখা গেছে? তিনি বলেন, মালদায় আজকে আমরা রাস্তার দখল নিয়েছি। বিধানসভার দখলও নিতে হবে। চোর আর দাঙ্গাবাজদের সরাতে হবে।
পশ্চিমবঙ্গে এই তৃণমূল কংগ্রেসের রাজত্বে যারা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কথা বলবে, মানুষের রুটিরুজি, ইস্কুল- কলেজের কথা বলবে, চাকরি পার্মানেন্ট করার, জিনিসপত্রের দাম কমানোর কথা বলবে তাদের জন্য এই প্রশাসনের সহযোগিতা থাকবে না। কিন্তু বিজেপির জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টিটা দরজা খুলে রেখে দিয়েছে।
মীনাক্ষী বলেন, আমাদের নেতা কমরেড জ্যোতি বসু বলেছিলেন বিজেপি একটি একটি অসভ্য বর্বর দল। আজ তা ফের স্পষ্ট। এরা রাজ্যে, ভারতবর্ষে শুধু মন্দির-মসজিদ আর সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়াচ্ছে তাদেরই বুকে আপন করে নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। পশ্চিমবঙ্গে তো বিজেপির ভালো নেতা নেই। তাই তৃণমূল বলল আমাদের শুভেন্দুকেই দিলাম বিজেপি করার জন্য। বিজেপি বলুক মালদা, মুর্শিদাবাদ সহ গোটা রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকরা শুধুমাত্র বাংলাভাষাতে কথা বলার জন্য বিজেপি শাসিত রাজ্যেগুলিতে কেন মার খাবে? জবাব আছে বিজেপির কাছে ?
মীনাক্ষী বলেন, নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে এসআইআর'র নামে মানুষকে হয়রান করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাস, ঐতিহ্য, আমাদের নামের বানান, পদবি, আমাদের এখানে বিয়ে হলে মেয়েরা কোথায় বাবার নাম আর কোথায় স্বামীর নাম ব্যবহার করে তার কিচ্ছু জানে না, আর চলে এসেছে এসআইআর করতে।
সিপিআই(এম) রাজ্য কমিটির সদস্য শতরূপ ঘোষ বলেন, তৃণমূলের দালালি করেও পুলিশ এই সমাবেশকে আটকাতে পারেনি। আপনারা সঙ্গে থাকলে বিধানসভায় যাওয়াও আটকাতে পারবে না। ভোটের ফয়দা লুটতে মন্দির রাজনীতির জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির কড়া সমালোচনা করেন তিনি। তিনি বলেন, সরকারের টাকায় মন্দির তৈরি হচ্ছে। বেকার ছেলেমেয়েরা যারা কাজ চেয়ে কাজ পাচ্ছে না। নিজের কাজের জন্য সঠিক দাম পাচ্ছেন না, শ্রমিক ঘামের দাম পাচ্ছে না। আর রাজ্যজুড়ে দেখা যাচ্ছে রাজনীতির নামে সার্কাস।
শতরূপ বলেন, আমরা বামপন্থীরা মন্দির-মসজিদের রাজনীতিকে সরিয়ে রেখে নতুন করে ভাত কাপড়ের কথা বলতে পশ্চিমবাংলার বিধানসভায় যেতে চাই। বিজেপি রাজনীতি বলতে বোঝে কাজ না করে ধর্মের নামে সুড়সুড়ি দিয়ে ভোট। যতদিন বিজেপি আছে ততদিন এই রাজনীতিই চলবে। মালদায় ২০২৯ সাল থেকে বিজেপি এমপি রয়েছে, একাধিক এমলএ রয়েছে। নতুন একটাও জাতীয় সড়ক, একটা নতুন বিশ্ববিদ্যালয়, কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন কোনো হাই ভোল্টেজ প্রজেক্ট, বা শিল্প হয়নি।
আমরা বামপন্থীরা গোটা বাংলাকে সহ মালদায় অনেক কাজ আমরা করতে চাই, আপনাদের কথা আমরা বিধানসভার ভিতরে গিয়ে বলতে চাই।
MEENAKSHI MUKHERJEE
দখল নিতে হবে বিধানসভারও, রাস্তা দখলের জনসভায় বললেন মীনাক্ষী
ছবি-মালদার রথবাড়ি মোড়ে বক্তব্য রাখছেন মীনাক্ষী মুখার্জি
×
Comments :0