রাজস্থানে ভবন ছাড়াই চলছে ৬১১টি সরকারি স্কুল। শুক্রবার বিধানসভায় রাজ্য সরকার জানিয়েছে, এই স্কুলগুলির মধ্যে ১০টি বালিকা বিদ্যালয়ও রয়েছে। সমগ্র শিক্ষা অভিযানের আওতায় ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ইউনিফায়েড ডিস্ট্রিক্ট ইনফরমেশন সিস্টেম ফর এডুকেশন (UDISE)-এর তথ্য অনুযায়ী এই পরিসংখ্যান সামনে এসেছে।
বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা টিকা রাম জুল্লির প্রশ্নের জবাবে সরকার এই তথ্য জানায়। স্কুলগুলির পরিকাঠামোগত দুরবস্থার জন্য আগের অশোক গেহলটের নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস সরকারকে দায়ী করেছে বর্তমান বিজেপি সরকার। ঝালাওয়াড়ের স্কুল দুর্ঘটনার পর হওয়া অডিটের উল্লেখ করে বিজেপির দাবি, সেই রিপোর্টে সরকারি স্কুলগুলির পরিকাঠামোর বেহাল দশা প্রকাশ্যে এসেছে। আগের সরকারের ভুল সংশোধনের চেষ্টা বর্তমান সরকার করছে বলেও দাবি করা হয়।
গতকাল জয়পুরের কাছে বাগরুতে একটি সরকারি স্কুল পরিদর্শনে যাওয়ার সময় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রানকার নেতৃত্বাধীন দলের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। স্কুলটি গোশালায় চলছে এমন অভিযোগ খতিয়ে দেখতেই ওই দল সেখানে যাচ্ছিল। জানা গিয়েছে, স্কুলের মূল ভবনটি গত বছর বিপজ্জনক ঘোষণা করে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর পড়ুয়াদের একটি অস্থায়ী কাঠামোয় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
রাজ্যজুড়ে পরিকাঠামোগত সমস্যার চিত্রও বিধানসভায় উঠে এসেছে। জয়পুরে নিজস্ব ভবন নেই এমন স্কুলের সংখ্যা ৩৮। ঝালাওয়াড়ের আকলেরা ব্লকে এই সংখ্যা সর্বাধিক ২৩। খানপুরে ১৬ এবং ঝালরাপাটনে ১১টি স্কুলের নিজস্ব ভবন নেই। ফলোদির বাপ এলাকায় ১১টি এবং বাঁশওয়াড়ার ছোটিসারভানে ১০টি স্কুল ভবনহীন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে নিজস্ব ভবন রয়েছে এমন ৬৪,৪৮৪টি সরকারি স্কুলের মধ্যে ২,০৪৭টি স্কুলে এখনও শৌচাগারের ব্যবস্থা নেই। ১,০৪৯টি স্কুলে নেই পানীয় জলের সুবিধাও। শৌচাগারহীন স্কুলের সংখ্যায় শীর্ষে বাঁশওয়াড়া ১৮৮টি। এরপর ডুঙ্গারপুরে ১২৪ এবং উদয়পুরে ৯৮টি স্কুলে শৌচাগারের অভাব রয়েছে। পানীয় জলের সুবিধা নেই এমন স্কুলের সংখ্যায় এগিয়ে দৌসা ৯৬টি।
পরিকাঠামো উন্নয়নে অর্থ বরাদ্দের কথাও জানিয়েছে রাজ্য সরকার। স্কুল মেরামত ও সংস্কারের জন্য ৫৫০ কোটি টাকা এবং নিজস্ব ভবনবিহীন স্কুল বা জরাজীর্ণ ভবনে চলা স্কুলগুলির জন্য নতুন ভবন নির্মাণে ৪৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন উৎস থেকে প্রতি বছর ২,৫০০ কোটি টাকা করে পাঁচ বছরে মোট ১২,৫০০ কোটি টাকা স্কুল ভবন নির্মাণ, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় করা হবে বলে জানিয়েছে সরকার।
তবে সরকারের বক্তব্যে সন্তুষ্ট নন বিরোধী দলনেতা টিকা রাম জুল্লি। একই অডিট রিপোর্টের উল্লেখ করে তিনি সরকারের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, রাজ্যে ৩,৭৬৮টি সরকারি স্কুলকে সম্পূর্ণ জরাজীর্ণ ও বিপজ্জনক ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি ৮৩,৭৮৩টি স্কুলঘরও ব্যবহারের অনুপযুক্ত বলে চিহ্নিত হয়েছে।
জুল্লির অভিযোগ, স্কুলগুলির বেহাল পরিকাঠামোর কারণে বহু স্কুল বন্ধ করে দিতে হয়েছে অথবা অন্যত্র সরিয়ে নিতে হয়েছে। এর ফলে পড়ুয়াদের ভর্তি সংখ্যাতেও প্রভাব পড়ছে। তার দাবি, স্কুলগুলির পরিস্থিতি নিয়ে রাজস্থান হাইকোর্টও রাজ্য সরকারকে ভর্ৎসনা করেছে।
যদিও রাজ্য সরকারের বক্তব্য, স্কুল ভবন, শৌচাগার, পানীয় জল-সহ প্রাথমিক পরিকাঠামোর উন্নয়ন তাদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। বরাদ্দ অর্থের মাধ্যমে ধাপে ধাপে রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলির পরিকাঠামোগত ঘাটতি পূরণ করা হবে বলেই সরকারের দাবি।
Rajasthan
রাজস্থানের ৬০০-র বেশি স্কুলের নেই নিজস্ব ভবন, মানছে সরকার
×
Comments :0