CIVIC POLICE TEACHER

ভর্ৎসনার মুখে স্থগিত সিভিক দিয়ে পড়ানো

রাজ্য জেলা

Civic police primary teacher bankura west bengal police tmc government bengali news এই সাংবাদিক বৈঠক থেকেই যাবতীয় সমস্যার সূত্রপাত। ছবি: সংগৃহীত

ঠিক করা হয়েছিল, প্রাথমিকে পড়াবেন সিভিক ভলান্টিয়াররা। তার জন্য বেশ কয়েকটি সরকার পোষিত স্কুলও চিহ্নিত করা হ‍‌য়েছিল। বাঁকুড়া পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তি জারি করে বাঁকুড়া পুলিশ প্রশাসন সেকথা জানিয়েও দেয়। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিরোধীদের তীব্র ভৎর্সনার মুখে পড়তে হয় রাজ্যের তৃণমূল সরকারকে। তার জেরে তড়িঘড়ি সরকারের পক্ষ থেকে নতুন বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বাঁকুড়া পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগকে স্থগিত করে দেওয়া হলো।

 
শিক্ষা মন্ত্রী ব্রাত্য বসুও এই উদ্যোগ স্থগিতের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। ব্রাত্য বসু বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘‘এটা স্থানীয় স্তরে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ছিল। স্কুল শিক্ষা দপ্তরের কোনও অনুমোদন ছিল না। তাই এই কর্মসূচি আপাতত স্থগিত থাকছে।’’ এরপরেই বাঁকুড়া জেলা পুলিশ এদিন নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।


বাঁকুড়া জেলা পুলিশ প্রশাসনের আগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, সামাজিক কর্মসূচিটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘অঙ্কুর’। এটি পুলিশের একটি সম্মিলিত কর্মসূচি। তাতে ঠিক হয়েছিল যে, স্কুলের বাইরে প্রাথমিকের ছাত্রছাত্রীদের বিশেষ পাঠ দেবেন প্রশিক্ষিত সিভিক ভলান্টিয়াররা। জেলার পুলিশ সুপার স্পষ্ট করে এও জানিয়েছিলেন, অঙ্ক ও ইংরাজী শেখানোর ভার তুলে দেওয়া হচ্ছে এই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সিভিক ভলান্টিয়ারদের কাঁধে। এর জন্য বাঁকুড়ার ৪৮টি স্কুলকে চিহ্নিত করেছিল বাঁকুড়া পুলিশ প্রশাসন।

এদিন একশো আশি ডিগ্রি ঘুরে গিয়ে বাঁকুড়া জেলা পুলিশ নতুন বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে যে, স্কুল নয়, আপাতত গ্রামের কোনও এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের ক্লাস নেবেন সিভিক ভলান্টিয়াররা। স্কুলের ক্লাসের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই। এটি ‘সাপ্লিমেন্টারি ক্লাস’। অর্থাৎ স্কুলের নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে পড়ুয়াদের দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ‘বিশেষ পাঠ’ দেওয়ার জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


সিভিক ভলান্টিয়ারদের দিয়ে পড়ানোর উদ্যোগ এর আগেও সরকার নিয়েছিল। শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির ফলে রাজ্যের সরকার পোষিত স্কুলগুলিতে শিক্ষকের অভাবে বেহাল দশা হয়েছিল। সেই করুণ দশা কাটাতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি স্কুলগুলিতে ইন্টার্ন শিক্ষক নিয়োগের কথা বলেছিলেন। তা নিয়ে রাজ্য জুড়ে তোলপাড় হয়। শিক্ষাবিদ সহ সমাজের নানা স্তরের মানুষ ইন্টার্ন শিক্ষক নিয়োগের বিরোধিতায় নামেন। সরকার তখন স্কুলে ইন্টার্ন শিক্ষক নিয়োগ থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়। এবারও প্রবল বিরোধিতার চাপে স্কুলে সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়োগের উদ্যোগ থেকে পিছু হটতে হলো।

ভোলবদলে এদিন বাঁকুড়া জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিবেক ভার্মা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানান, এই কোচিং নিয়ে কিছু বিভ্রান্তিমুলক প্রচার চালানো হচ্ছে। তা ঠিক নয়। স্কুল শিক্ষার সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই। কোনও স্কুলে এই ক্লাস হবে না। কোথায় ক্লাসগুলি হবে, তা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করে ঠিক করা হবে। শিশু শিক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকদের সুবিধা অনুযায়ী নির্বাচিত স্থানগুলি থেকেই এগুলি পরিচালনা করা হবে। স্কুলে পড়াশোনা করার পর ছাত্রছাত্রীরা এই কোচিং সেন্টারে পড়াশোনা করবে। স্কুলের ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের ইচ্ছার উপর নির্ভর করছে, কারা এই কোচিং সেন্টারে পড়াশোনা করতে আসবে। 

পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, শিশু জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারপার্সেন বসুমিত্রা সিং জানান, তাঁর এই বিষয়ে কিছু জানা নেই। তিনি হোয়াটসঅ্যাপ আর সংবাদ মাধ্যম থেকেই যা জানার জেনেছেন।  

Comments :0

Login to leave a comment