Umar Khalid

উমর খালিদকে ৩ দিনের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিল দিল্লি হাইকোর্ট

জাতীয়

২০২০ সালের দিল্লি হিংসার ঘটনায় উমর খালিদকে তিন দিনের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিল দিল্লি হাইকোর্ট। বিচারপতি প্রতিভা এম সিং এবং বিচারপতি মধু জৈনের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, শর্ত সাপেক্ষে আগামী ১ জুন থেকে ৩ জুন পর্যন্ত তাকে মুক্তি দেওয়া হবে।
কাকার মৃত্যুর পর শোক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এবং মায়ের অস্ত্রোপচারের সময় পাশে থাকার জন্য ১৫ দিনের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন উমর। আগামী ২ জুন উমরের মায়ের অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা রয়েছে।
গত ১৯ মে ট্রায়াল কোর্ট বা নিম্ন আদালত উমর খালিদের জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন করেন তিনি।
আদালতে খালিদের পক্ষে সওয়াল করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট ত্রিদীপ পেস। তিনি জানান, এর আগে বোনের বিয়ের সময় এবং আরও দু'বার খালিদকে অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়া হয়েছিল। তিনি কখনোই জামিনের শর্ত লঙ্ঘন করেননি।
অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এস.ভি. রাজু জামিনের বিরোধিতা করেন। তিনি যুক্তি দেন, খালিদের মায়ের অস্ত্রোপচারটি খুব সাধারণ এবং তার বোনেরাই মায়ের যত্ন নিতে সক্ষম। তিনি আরও বলেন যে, চাইলে পুলিশি নিরাপত্তায় খালিদ একদিনের জন্য মায়ের সঙ্গে দেখা করে আবার জেলে ফিরে আসতে পারেন।
দুই পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর হাইকোর্ট এই বিষয়ে একটি সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করে। আদালত নির্দেশে জানায়, ‘আবেদনকারী যাতে তার মায়ের সঙ্গে সময় কাটাতে পারেন, তার জন্য ১ থেকে ৩ জুন পর্যন্ত ৩ দিনের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করা হল।’
জামিনের শর্ত হিসেবে আদালত জানিয়েছে উমর খালিদ তার সঙ্গে শুধুমাত্র একটি মোবাইল ফোন রাখতে পারবেন। তাকে প্রতিনিয়ত তদন্তকারী আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলতে হবে। 
নিম্ন আদালত এর আগে তার পর্যবেক্ষণে জানিয়েছিল যে, অভিযুক্ত অতীতে জামিনের শর্ত লঙ্ঘন করেননি মানেই যে প্রতিবার আবেদন করলে জামিন দিতে হবে, তার কোনও বাধ্যবাধকতা নেই।
আদালতের মতে, কাকার শেষকৃত্যর অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়াটা এতটা জরুরি নয়। কারণ, সম্পর্ক সত্যিই ঘনিষ্ঠ হলে মৃত্যুর পরপরই তিনি জামিনের আবেদন করতেন। মায়ের অস্ত্রোপচারের বিষয়েও নিম্ন আদালত জানিয়েছিল যে, পরিবারে বাবা এবং অন্যান্য বোনেরা রয়েছেন, যারা তার মায়ের যত্ন নিতে পারবেন।
দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের দায়ের করা ৫৯/২০২০ এফআইআর-এ উমর খালিদের বিরুদ্ধে একাধিক কঠোর ধারা রয়েছে। এর মধ্যে ইউএপিএ-এর ১৩, ১৬, ১৭ এবং ১৮ নম্বর ধারা, অস্ত্র আইনের ২৫ ও ২৭ নম্বর ধারা এবং জনসম্পত্তি ক্ষতি প্রতিরোধ আইনের ৩ ও ৪ নম্বর ধারার পাশাপাশি ভারতীয় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা যুক্ত রয়েছে।

Comments :0

Login to leave a comment