TMC Corruption

রেলের মালবাহকের আয়ের থেকেও কাটমানি তৃণমূল নেতার

জেলা

রাজ্যে কাজ নেই, বন্ধ হচ্ছে একের পর এক কারখানা, নেই ভারী শিল্প, বন্ধ একাধিক চা বাগান। সঙ্কটের ক্যানভাসে দুর্নীতি হয়ে উঠছে মূলস্রোতে আয়ের অংশ। এটাই সব থেকে বিপজ্জনক প্রবণতা। যার প্রভাব পড়ছে সমাজ জীবনে। সরকারি মদতে দুর্নীতি সামাজিক বৈধতা পাচ্ছে। সামাজিক ভাবে দুর্নীতিকে সহজবোধ্য করে তুলেছে শাসক তৃণমূল যা আসলে ধান্দার ধনতন্ত্রেরই অন্যতম উপসর্গ। তৃণমূল মানেই দুর্নীতি, কাটমানি, তোলাবাজি বলছেন মানুষ। কয়লা, গরু, আবাস, শিক্ষাব্যাবস্থা থেকে সমস্ত কিছুতেই (জন্ম থেকে মৃত্যু) কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শাসকদলের নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে। শাসকদল জানে কি ভাবে দুর্নীতি করে গরীব খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষকে বিপদে ফেলা যায়। তাদের থেকেও টাকা রোজগার করা যায়। এই রকম একটি ছবি ধরা পড়ল ধূপগুড়িতে।  তৃণমূলে নেতার বিরুদ্ধে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগে শ্রমিকদের বিক্ষোভ ধূপগুড়িতে। শ্রমিকদের মজুরি থেকে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সোমবার সকালে উত্তেজনা ছড়ায় ধূপগুড়ি রেলওয়ে স্টেশন চত্বরে। পেঁয়াজবোঝাই মালগাড়ির রেক স্টেশনে পৌঁছলেও প্রায় তিন ঘণ্টা মাল খালাসের কাজ বন্ধ রেখে বিক্ষোভে সামিল হন শ্রমিকরা।
শ্রমিকদের দাবি, বস্তা পিছু ৭ টাকা করে মজুরি ধার্য থাকলেও তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে মাত্র সাড়ে ৬ টাকা। বাকি ৫০ পয়সা করে কেটে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। শ্রমিকদের আরও অভিযোগ, তাঁদের অন্ধকারে রেখেই এই কাটমানি নেওয়া হচ্ছিল মালিকদের থেকে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁরা এবং পেঁয়াজ নিয়ে আসা মালিক পক্ষকে ঘিরে বিক্ষোভ শুরু করেন। অভিযোগের তির তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের ব্লক সভাপতি আলম রহমানের দিকে। শ্রমিকদের বক্তব্য, তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠনের ব্লক সভাপতি হিসেবে বস্তা পিছু এই টাকা নিচ্ছিলেন।

মালিককে ঘিরে শ্রমিকদের বিক্ষোভ। ছবি সঞ্জিত দে।


ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্টেশন চত্বরে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে মালগাড়ির র্যা ক। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে মালিক পক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসেন শ্রমিকরা। শ্রমিকদের দাবি মেনে নিয়ে মালিক পক্ষ জানায়, এবার থেকে সরাসরি শ্রমিকদের হাতেই সম্পূর্ণ মজুরি তুলে দেওয়া হবে। এরপরই বিক্ষোভ প্রত্যাহার করে পুনরায় কাজে ফেরেন শ্রমিকরা। এলাকার স্থানীয়  মানুষর একাংশের বক্তব্য শাসকদল তৃণমূলের আমলে কাটমানির অভিযোগ নতুন নয় এবং শ্রমিকদের হাঁড় ভাঙ্গা মেহনতের থেকেও টাকা লুট করেছে। ন্যায্য মজুরি থেকেও টাকা খাচ্ছে নেতারা। এটা টাকা মারা কোম্পানি। তৃণমূলের ব্যানারে শ্রমিক সংগঠনের ব্যানারে আসলে এরা তোলাবাজি করছে।
শ্রমিক রেজাউল রহমান বলেন, ‘‘ আমাদের বস্তা পিছু ৭ টাকা মজুরি পাওয়ার কথা। কিন্তু আমাদের হাতে দেওয়া হচ্ছিল সাড়ে ৬ টাকা। বাকি ৫০ পয়সা কোথায় যাচ্ছে, সেটা আমাদের জানানো হয়নি। আর জানতে পারলাম ব্লক সভাপতি ৫০ পয়সা করে পকেটে ভরেছে। তাই কাজ বন্ধ করে আমরা বিক্ষোভ দেখিয়েছি।’’
আইএনটিটিইউসি নেতা দীনবন্ধু রায় এই কাজের খাতা মাস্টার অভিযোগ করেন, ‘‘শ্রমিকদের না জানিয়ে বস্তা পিছু ৫০ পয়সা করে কাটা হচ্ছিল। মালিকদের কাছ থেকে পুরো টাকা নেওয়া হলেও শ্রমিকদের কম দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হতেই শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। আইএনটিটইউসি ধূপগুড়ি ব্লক সভাপতি আলম রহমান সেই টাকা নিজে খাচ্ছিলেন।’’
ব্যবসায়ী রাজু শাউবলেন, ‘‘আমরা বস্তা পিছু ৭ টাকা হিসেবেই টাকা দিই। কারও যদি মাঝখানে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ থাকে, তা খতিয়ে দেখা উচিত। কারণ শ্রমিকরা কম মজুরি পাওয়ার ফলে সমস্যায় আমাদের পড়তে হচ্ছে, এখন থেকে সরাসরি শ্রমিকদের হাতেই পুরো টাকা দেওয়া হবে।’’
অভিযুক্ত তৃণমূলে নেতা আলম রহমান বলেন, ‘‘আমার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি কোনও কাটমানি নিইনি। বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।’’ ঘটনাকে কেৃন্দ্র করে ধূপগুড়ি জুড়ে শ্রমিক মহল ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

Comments :0

Login to leave a comment