ডুয়ার্সের বনাঞ্চল সংলগ্ন শহর ও গ্রামাঞ্চলে হাতির হানা ক্রমেই বাড়ছে। খাদ্য ও উপযুক্ত বাসস্থানের অভাবে বন ছেড়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে বুনো হাতির দল- এই চিত্রই ফের সামনে এসেছে জলপাইগুড়িতে।
রবিবার গভীর রাতে জলপাইগুড়ি শহর থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে করলাভ্যালি চা বাগানে চলে আসে তিনটি হাতি। সোমবার ভোর হতেই চা বাগান এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। শহরের এত কাছে হাতির উপস্থিতিতে আতঙ্ক ছড়ায় জলপাইগুড়ি শহর জুড়েও।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৈকুণ্ঠপুর বনাঞ্চল থেকে খাবারের সন্ধানে চা বাগানের শ্রমিক মহল্লায় ঢুকে পড়ে হাতির দলটি। রাতভর ঘোরাঘুরির মধ্যেই চা বাগানের ভেতরে থাকা একটি গভীর পরিত্যক্ত কুয়োয় পড়ে যায় প্রায় দশ বছরের একটি বাচ্চা হাতি। কুয়োয় পড়ে যাওয়া সঙ্গীর আর্ত চিৎকারে ও উদ্বিগ্ন গর্জনে গোটা চা বাগান এলাকা জেগে ওঠে। বাকি দু’টি গজরাজ কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে পড়ে সঙ্গীকে উদ্ধারের অপেক্ষায়।
সোমবার সকালে চা শ্রমিকরা বিষয়টি নজরে আনতেই দ্রুত পৌঁছে যায় বন দপ্তরে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন পরিবেশকর্মী বিশ্বজিৎ দত্ত চৌধুরী। তিনি জানান, একটি কমবয়সী হাতি গভীর কুয়োর মধ্যে আটকে পড়েছিল। দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ায় হাতিটিকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।‘
বন দপ্তরের কর্মীরা জেসিবি এনে কুয়োর পাশের মাটি কেটে দীর্ঘ চেষ্টার পর হাতিটিকে উপরে তুলতে সক্ষম হন। উদ্ধার হওয়ার পর স্বস্তি ফেরে চা বাগান এলাকার বাসিন্দাদের পাশাপাশি জলপাইগুড়ি শহরবাসীর মধ্যেও।
তবে উদ্বেগের বিষয় হলো হাতির দল এখনও চা বাগান এলাকায় ঘোরাফেরা করছে। বন দপ্তরের পক্ষ থেকে হাতিগুলিকে নিরাপদে বনাঞ্চলে ফেরানোর চেষ্টা চলছে।
এই প্রসঙ্গে পরিবেশকর্মী বিশ্বজিৎ দত্ত চৌধুরী আরও বলেন, ‘‘বনে হাতির উপযুক্ত বাসস্থান ও খাদ্যের অভাব ক্রমশ প্রকট হচ্ছে। তারই জেরে ডুয়ার্সের বনাঞ্চল লাগোয়া শহর ও গ্রামাঞ্চলে বারবার হাতির হানা বাড়ছে।‘‘
ডুয়ার্স জুড়ে লাগাতার এই ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলে দিল বন ও বন্যপ্রাণ সংরক্ষণে প্রশাসনের চরম গাফিলতিতে।
Elephant Jalpaiguri
খাদ্যের খোঁজে চা-বাগানে, কুয়োয় পড়ল হস্তিশাবক
জেসিবি দিয়ে উদ্ধার করা হচ্ছে হস্তিশাবককে।
×
Comments :0