KUMARTULI

আসছে না মাটি, সঙ্কটে কুমারটুলি

রাজ্য কলকাতা

নেই মাটির যোগান, সঙ্কটে কুমারটুলি সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মৃত শিল্পীরা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে আসতো মাটি। ওই এলাকার জমি কাটা মাটি পৌঁছে যেতো কুমারটুলি সহ বিভিন্ন জায়গায়। রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর বন্ধ হয়েছে সেই মাটি যোগান। যার ফলে সঙ্কটে পড়েছে মৃৎশিল্পীরা।
কুমারটুলি মৃৎশিল্পী সাংস্কৃতির সমিতির কোষাধ্যক্ষ সুজিত পালের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘শুধু কুমারটুলি নয় গোটা দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় ডায়মন্ড হারবার সহ দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকার জমি কাটা মাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরি থেকে শুরু করে মৃৎশিল্পের বিভিন্ন কাজ করা হয়ে থাকে। নতুন প্রশাসন সেই মাটি কাটা বন্ধ করে দিয়েছে। যার ফলে একটা সঙ্কট তৈরি হয়েছে।’ 
তিনি বলেন, আগামী সাত দশ দিনের মধ্যে যদি এই সমস্যার সমাধান না করা হয় তবে গোটা মৃৎশিল্প চরম সঙ্কটের মধ্যে পড়বে। এমনকি শারোদৎসবেও তার প্রভাব পড়তে পারে। সুজিত পাল জানিয়েছেন কুমারটুলিতে কাজ হলেও তা খুবই ধীর গতিতে হচ্ছে।
কুমারটুলির ছোট বড় সব শিল্পীই সঙ্কটের মুখে পড়েছেন। তাদের কথায় কাঁচা মালের দাম যেমন বেড়েছে সেই অনুযায়ী তারা বাড়াতে পারেনি প্রতীমার দাম। ছোট শিল্পীদের কথায়, কাজ না থাকলে তাদের সহযোগীরা কাজ ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে পারেন। যার ফলে আরও সঙ্কটের মুখে তারা পড়বেন। তার কারণ একার পক্ষে এই কাজ চালিয়ে যাওয়া কারুর পক্ষেই সম্ভব নয়। 
সুজিত পালের কথায়, বাংলাদেশ থেকে পাট না আসায় দাম বেড়েছে পাটের। ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি পাট তাদের এখন কিনতে হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দামে। বেড়েছে দড়ির দামও। এই পরিস্থিতিতে মাটির দাম যদি বৃদ্ধি পায় তবে প্রতীমার দাম বাড়বে। সেখানে দাঁড়িয়ে পুজো কমিটি গুলো কী করবে সেই দিকে তাদের তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে।
কুমারটুলি মৃৎশিল্পী সাংস্কৃতির সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে ইতিমধ্যে তাদের সমস্যার কথা তারা শ্যামপুকুর বিধানসভার বিধায়ক পূর্ণিমা চক্রবর্তীকে জানিয়েছেন। এর পাশাপাশি প্রশাসনের কাছেও তারা আবেদন জানাচ্ছেন এই সংঙ্কট থেকে তাদের মুক্ত করার জন্য।

Comments :0

Login to leave a comment