উত্তরবঙ্গের পর্যটন শিল্পকে নতুন গতি দিতে এবং পাহাড়–ডুয়ার্সকে বিশ্ব পর্যটন মানচিত্রে আরও দৃঢ়ভাবে তুলে ধরতে আগামী ৩০ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে চলেছে তিন দিনব্যাপী ‘ষষ্ঠ বেঙ্গল হিমালয়ান কার্নিভাল’। হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড টুরিজম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের (HHTDN) উদ্যোগে এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পর্যটন দপ্তরের সহযোগিতায় এই মেগা পর্যটন উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।
শনিবার মেটেলি ব্লকের বাতাবাড়ির একটি বেসরকারি রিসোর্টে কার্নিভাল উপলক্ষে চূড়ান্ত প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ছিলেন গরুমারা ট্যুরিজম ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন, মূর্তি জিপসি অ্যাসোসিয়েশন, বাতাবাড়ি ট্যাক্সি অ্যাসোসিয়েশন-সহ পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা। সভায় নিরাপত্তা, পরিবহণ, আবাসন এবং পর্যটকদের সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
কার্নিভালের সূচনা হবে ৩০ জানুয়ারি চালসায়। এদিন সকালে চালসা থেকে মূর্তি পর্যন্ত একটি ম্যারাথন দৌড়ের আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি চালসার বীর বীরসা মুন্ডা পার্কে বসে আঁকো প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। সন্ধ্যায় থাকছে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে স্থানীয় শিল্পীরা অংশ নেবেন।
উৎসবের দ্বিতীয় দিন, ৩১ জানুয়ারি, কার্নিভালের আসর বসবে কালিম্পং জেলার কাফেরগাঁও ও লোলেগাঁওতে। পাহাড়ি প্রকৃতি, সংস্কৃতি এবং গ্রামীণ পর্যটনের সম্ভাবনাকে তুলে ধরাই এই দিনের মূল লক্ষ্য। ১ ফেব্রুয়ারি দার্জিলিং জেলার সিটংয়ে সমাপ্তি অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে এবারের কার্নিভালের।
HHTDN-এর কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সায়ন চক্রবর্তী জানান, আগামী ২৭ জানুয়ারি শিলিগুড়ি জার্নালিস্ট ক্লাবে সাংবাদিক বৈঠকের মাধ্যমে কার্নিভালের বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তাঁর কথায়, “আজকের প্রস্তুতি সভায় স্থানীয় সংগঠনগুলির সক্রিয় অংশগ্রহণ আমাদের আশাবাদী করছে।”
গরুমারা ট্যুরিজম ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদিকা মহাশ্বেতা রায় বলেন, “এই কার্নিভাল ডুয়ার্স ও পাহাড়ের পর্যটনকে নতুন দিশা দেখাবে। আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।”
কার্নিভাল ঘিরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পর্যটন মহলে ইতিমধ্যেই ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। পাহাড় ও সমতলের মেলবন্ধনে এই উৎসব উত্তরবঙ্গের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেই আশা সংশ্লিষ্ট মহলের।
Bengal Himalayan Carnival 2026
পর্যটনে জোয়ার আনতে চালসায় শুরু হচ্ছে ষষ্ঠ বেঙ্গল হিমালয়ান কার্নিভাল
×
Comments :0