Tamil Nadu

তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ুয়াদের বিক্ষোভে নিষেধাজ্ঞার নির্দেশ প্রত্যাহার বিজয় সরকারের

জাতীয়

তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে শিক্ষার্থীদের বামপন্থী দল এবং তামিলনাড়ু ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র আয়োজিত বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ঠেকাতে জারি করা বিতর্কিত নির্দেশ প্রত্যাহার করল বিজয়ের নেতৃত্বাধীন তামিলনাড়ু সরকার। গত ১৪ আগস্ট স্কুল শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষা দফতরকে ওই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। বুধবার তা প্রত্যাহার করা হয়।
প্রত্যাহার করা নির্দেশে স্কুল ও কলেজের পড়ুয়া এবং যুবকদের বাম দল ও সিজেপি-র বিক্ষোভ ও আন্দোলনে যোগ দেওয়ার প্রবণতা থেকে বিরত রাখতে সমন্বিত পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এমনকী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার রিপোর্ট ২০ আগস্টের মধ্যে সরকারের কাছে জমা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল। নির্দেশটিকে অত্যন্ত জরুরি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
এই নির্দেশ ঘিরে তীব্র প্রতিবাদ জানায় সিজেপি। দলের জাতীয় সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস নির্দেশটিকে অসাংবিধানিক, অযৌক্তিক এবং অবিবেচনাপ্রসূত বলে আক্রমণ করেন। যদিও বিজেপি এই নির্দেশকে সমর্থন করে। বিজেপি নেতা বিনোজ পি সেলভম সিজেপি ও বামপন্থী সংগঠনগুলিকে বিশৃঙ্খলার এজেন্ট বলে কটাক্ষ করেন।
তবে শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক চাপ ও সমালোচনার মধ্যেই নির্দেশ প্রত্যাহার করে নেয় তামিলনাড়ু সরকার।
ঘটনাটি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। কারণ, জুন মাসে তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে বিজয়ের দল টিভিকে-কে নিঃশর্ত বাইরে থেকে সমর্থন দিয়েছিল বামপন্থী দলগুলি। তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে টিভিকে একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এলেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ফলে কংগ্রেস এবং ভিসিকে-র মতো ছোট দলগুলির সমর্থনের উপর সরকারকে নির্ভর করতে হয়।
এদিকে, সিজেপি-র রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। জুন মাসে আইনজীবী সি ব্রহ্মা বালাসুব্রহ্মণিয়মের নেতৃত্বে একটি গোষ্ঠী নির্বাচন কমিশনের কাছে তামিলনাড়ু ককরোচ জনতা পার্টি নামে একটি আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল হিসেবে নথিভুক্তির আবেদন জানায়। পরে বালাসুব্রহ্মণিয়ম দাবি করেন, তার সংগঠন অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বাধীন সিজেপি-র থেকে আলাদা।
তামিলনাড়ু সরকারের নির্দেশ প্রত্যাহারের ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পরীক্ষা ও শিক্ষা সংক্রান্ত নানা সমস্যাকে কেন্দ্র করে জেন-জি এবং জেন-আলফা’র বিক্ষোভ ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে। দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপি-র নেতৃত্বে হওয়া ছাত্র আন্দোলনের প্রভাবও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পড়েছে।
পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে প্রায় এক মাস ধরে চলা ছাত্র আন্দোলন শেষ পর্যন্ত তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পথ তৈরি করে। ২০ জুলাই সংসদ ভবনের দিকে ছাত্রদের মিছিল ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করা হয়। পরে আন্দোলনকারীদের শরীরে ছররা গুলির আঘাতের ছবি ও ভিডিওও প্রকাশ্যে আসে।
এরপর আন্দোলনের পরিধি আরও বাড়ে। বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ যন্তর মন্তরের আন্দোলনে যোগ দিতে শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত ৩০ জুলাই শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ হয়।
দিল্লির আন্দোলনের পর ঝাড়খণ্ডেও সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে যুব আন্দোলন শুরু হয়। পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান ও চণ্ডীগড়ের বিভিন্ন এলাকায় স্কুলের সামনে শিশুদের বিক্ষোভের ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। 
২০১০ সাল থেকে ২০২০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে জন্ম নেওয়া প্রজন্মকে সাধারণত জেন-আলফা বলা হয়। শিক্ষা ও পরীক্ষা সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে তরুণ প্রজন্মের এই ধারাবাহিক আন্দোলন আগামী দিনে দেশের রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Comments :0

Login to leave a comment