২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে কাকদ্বীপে খুন হওয়া সিপিআই(এম) কর্মী দেবু দাস এবং উষা দাসের খুনের ঘটনায় দশজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কাকদ্বীপের বুদাখালি গ্রামের সিপিআই(এম) কর্মী ছিলেন দেবু দাস এবং তার স্ত্রী উষা দাস। নির্বাচনের আগে তাদের বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়ে আগুনে পুড়িয়ে খুন করেন তৃণমূলের দুষ্কৃতিরা। সেই সময় তাদের সন্তান দীপঙ্কর দাস এবং সিপিআই(এম) নেতৃত্ব থানায় একাধিক তৃণমূলে কর্মীদের বিরুদ্ধে এই ঘটনায় জড়িত থাকার জন্য অভিযোগ দায়ের করে। প্রথমে থানা অভিযোগ নিতে অস্বীকার করেন। পরবর্তীকালে হাইকোর্টের নির্দেশের ঘটনার তদন্তের জন্য সিট গঠন করে রাজ্য প্রশাসন। কিন্তু একজনও অভিযুক্ত সেই সময় গ্রেপ্তার হয়নি।
উল্লেখ্য তৎকালিন প্রশাসন দুই কমরেডের দেহ শৎকারের জন্য তাদের সন্তানের হাতে তুলে দিতে চায়নি ময়নাতদন্তের পর পুলিশ দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছিল মেডিকেল কলেজ। আইনী লড়াইয়ের পর মা বাবার দেহ হাতে পায় দীপঙ্কর।
অন্যদিকে কালীগজ্ঞে তামান্না’র খুনের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে মূর্শিদাবাদ থেকে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনায় আগে দশজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ২০২৫ সালে কালীগজ্ঞ বিধানসভা উপ-নির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন সিপিআই(এম) সমর্থক সাবিনা ইয়াসমিন (তামান্না’র মা) বাড়ি লক্ষ করে বোমা ছোঁড়ে তৃণমূলের দুষ্কৃতি বাহিনী। সেই বোমায় আহত হয়ে মৃত্যু হয় তামান্নার। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করলেও দীর্ঘদিন ধরে তারা জেলের বাইরে ছিলেন।
উল্লেখ্য গতকাল বিধানসভায় সিপিআই(এম) বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান, সিপিআই(এম) নেত্রী মীনাক্ষী মুখার্জি তামান্নার মা, দীপঙ্কর দাস এবং আনিস খানের বাবাকে সাথে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সাথে দেখা করেন। তারা ঘটনা গুলোর তদন্তের দাবি জানান।
এদিন এই দুই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সিপিআই(এম) বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘গতকাল আমরা দেখা করেছিলাম। মুখ্যমন্ত্রী ডিজির কাছে পিঠিয়ে ছিল সেখানেও গিয়েছিলাম। তারপর অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার হয়েছে। এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানাচ্ছি। উনি আইনের শাসক প্রতিষ্ঠার কথা বলেন। আশা করবো আগামী পাঁচবছর সরকার এই মনোভাব নিয়েই চলবে।’
Comments :0