বামপন্থীদের কাছে বিকল্প মানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, লুটেরাদের বিরুদ্ধে সমবেত হওয়া। কৃষক, শ্রমিকের লড়াইয়ের পাশে দাঁড়াতে হবে। মানুষের অভিজ্ঞতাকে সঙ্গে নিয়েই এই লড়াই লড়তে হবে। ‘ইনকিলাব’ সমাবেশ থেকেই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জোরালো প্রস্তুতি নিতে হবে।
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ধর্মতলায় ‘ইনকিলাব সমাবেশের মঞ্চ থেকে এই আহ্বান জানিয়েছেন ডিওয়াইএফআই’র দুই প্রাক্তন রাজ্য সম্পাদক আভাস রায়চৌধুরী ও মীনাক্ষী মুখার্জি। এদিন সভায় বক্তব্য রাখেন ডিওয়াইএফআই’র সাধারণ সম্পাদক হিমগ্নরাজ ভট্টাচার্য, রাজ্য সম্পাদক ধ্রুবজ্যোতি সাহা এবং রাজ্য সভাপতি অয়নাংশু সরকার।
মীনাক্ষী মুখার্জি বলেন, ২০২১’র ফেব্রুয়ারি। সেদিনের রাজ্য পুলিশ ব্যারিকেড করেছিল। আমরা দাবি করেছিলাম, কাজ দিতে হবে, না হলে রাস্তা ছাড়তে হবে। সেদিন ১৬ জন পুলিশ মিলে মইদুল (মইদুল মিদ্দ্যা)-কে কেড়ে নিয়েছিল। সেদিন রাস্তা ছাড়িনি, আর এখন ব্রিটিশের দালালরা রয়েছে তাদের জন্য রাস্তা ছাড়ার প্রশ্নই নেই।
মীনাক্ষী বলেন, রাজ্যে আসীন হয়েছে ‘ডবল ইঞ্জিন‘ সরকার। অনেকে ভাবল উন্নয়ন হবে। দেখলাম রেল বেচে দিচ্ছে, বিএসএনএল কর্মী ছাঁটাই করছে। এরা চাকরি দেবে? তৃণমূল রাজ্যের স্কুলগুলিতে তালা দিয়েছিল। আর বিজেপি দেশের স্কুলগুলিতে তালা দিচ্ছে। তাঁরা চাকরি দেবে? এদের বিশ্বাস করলে ঠকতে হবে।
মীনাক্ষী বলেন, এদের আর চেনার বাকি নেই। পশুহাট বন্ধ , হকারদের পেটে লাথি পড়েছে, চিনির দাম বেড়েছে। আবার বলছে ‘শারদোৎসব’ বলা যাবে না, বুকস্টল করতে দেবে না। বই বেচা কমলে, মদ বেচা বাড়বে। তাই বই বিক্রি করেও লড়াই জারি রাখতে হবে।
মীনাক্ষী বলেন, লড়াইটা দেশ বাঁচানোর, সরকারের নীতি বদলানোর। সরকারে চাকরি দিতে হবে। পশ্চিমবঙ্গের মাটিতেই পশ্চিমবঙ্গের ছেলেমেয়েদের কাজের ব্যবস্থা করে দিতে হবে।
মীনাক্ষী বলেন, এই সমাবেশ প্রস্তুতি নেওয়ার সমাবেশ। এখান থেকে প্রস্তুতি নিয়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়তে হবে।
এদিন সমাবেশ থেকে সংবিধানের প্রস্তাবনা সম্বলিত যুবশক্তি-র বুলেটিন প্রকাশ করা হয়।
আভাস রায়চৌধুরী বলেন, ‘আজাদি’ শব্দ শুনলেই সরকারের কষ্ট হয়, কারণ স্বাধীনতার সংগ্রাম থেকে আরএসএস নিজেদের সরিয়ে রেখেছিল। বরং, ঐক্যবদ্ধ লড়াইকে ভাঙার জন্য বিভাজন করেছিল। তাদের ‘আজাদি’ শুনলে গা জ্বলবেই।
বামপন্থী ছাত্র সংগঠন ডিওয়াইএফআই’র কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তোমরা ভগৎ সিং, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদর, ক্ষুদিরাম, সুভাষের উত্তরাধিকারী। সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন তাঁরা। আর এই বিজেপি-আরএসএস’র তো তাঁদের নাম শুনলে তাদের সমস্যা হবেই।
আভাস রায়চৌধুরী বলেন, তৃণমূল এরাজ্যে বিজেপিকে সাহায্য করেছে। আরএসএস তৈরি করেছিল তৃণমূলকে। সরকার থেকে তৃণমূল চলে গেছে। এখন আসীন হয়েছে বিজেপি। তিনি বলেন, মানুষের রোজগার নেই, মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। বামপন্থীদের কাছে বিকল্প মানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, লুটেরাদের বিরুদ্ধে সমবেত হওয়া। কৃষক, শ্রমিকের লড়াইয়ের পাশে দাঁড়াতে হবে। মানুষের অভিজ্ঞতাকে সঙ্গে নিয়েই এই লড়াই লড়তে হবে। যতদিন শোষণ বঞ্চনা থাকবে ততদিন বামপন্থা থাকবে। (আরও দেখুন- ছাত্র-যুবদের শক্তিকে ভয় পেয়েছে বিজেপি, বাড়বে লড়াই, ঘোষণা ‘ইনকিলাব’ সমাবেশে)
Comments :0