অরিজিৎ মণ্ডল এবং পূজা বোস
দেশের ছাত্র-যুবরা একজোট হয়েছে। বিজেপি বুঝতে ভাগ করার নীতিতে সরকার টিকিয়ে রাখতে পারবে না। তাই সব অংশের প্রতিবাদী, বিরোধীদের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে। কিন্তু যুবজনতার ক্ষমতাকে খাটো করে দেখলে ভুল হবে। এই সমাবেশ তা প্রমাণ করে দিয়েছে।
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ধর্মতলায় ডিওায়ইএফআই’র ডাকে ‘ইনকিলাব‘ সমাবেশে এ কথা বলেছেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এদিন যুবজনতার মিছিলে মিছিলে আলোড়ন পড়েছে কলকাতায়। বৃষ্টি আর হুমকি মাথায় নিয়ে সাহসী প্রতিরোধ গড়ার জোরালো বার্তা দিয়েছেন যুবরা। রাজ্যের সব জেলা থেকে ডিওয়াইএফআই কর্মীরা এসেছেন সমাবেশে। মঞ্চে রয়েছে সংগঠনের দুই প্রাক্তন রাজ্য সম্পাদক আভাস রায়চৌধুরী এবং মীনাক্ষী মুখার্জি। রয়েছেন প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ সেলিমও।
ডিওয়াইএফআই’র সাধারণ সম্পাদক হিমগ্নরাজ ভট্টাচার্য বলেন, যুবদের ক্ষমতাকে খাটো করে দেখবেন না। ইতিহাস প্রমাণ করেছে যুবরা বার বার অন্যায়ের বিরুদ্ধে পথে নেমেছে। তিনি বলেন, এরাজ্যে এখন বিজেপি সরকার। জীবিকার ওপর একের পর এক আক্রমণে রাজ্যের মানুষ বুঝে গিয়েছেন এই সরকারের মনোভাব।
এই সরকার কোন কর্মসংস্থান না দিয়ে মানুষের পেটের ভাত কেড়ে নিচ্ছে। হকার উচ্ছেদ করা হচ্ছে কোন পুনর্বাসন ছাড়াই। ১০০ দিনের কাজ তুলে দিচ্ছে। আমরা বলছি ১০০ দিন নয় ২০০ দিনের কাজ দিতে হবে।
হিমগ্নরাজ বলেন, দেশের ছাত্র যুবদের আন্দোলন শাসকের মনে ভয় তৈরি করেছে। সে কারণে প্রতিবাদীদের ‘দিমাগী নকশাল‘ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। আসলে ওরা বুঝে গিয়েছে দেশের ছাত্র যুবরা সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। মানুষকে ধর্মের ভিত্তিতে ভাগ করে এই সরকার টিকে থাকতে পারবে না।
ডিওয়াইএফআই’র রাজ্য সভাপতি অয়নাংশু সরকার বলেন, এই সমাবেশ বার্তা দিচ্ছে রবীন্দ্রনাথ, নজরুলের বাংলাকে আমাদের রক্ষা করতে হবে। ওরা স্কুল তুলে দিচ্ছে, চাকরি প্রার্থীরা আজও পথে। এই বিজেপির হাত থেকে সব অংশের মানুষকে রক্ষা করতে হবে।
রাজ্য সম্পাদক ধ্রুবজ্যোতি সাহা বলেন, স্বাধীনতার লড়াইয়ে গড়ে উঠেছিল নওজওয়ান ভারত সভা। তার শতবর্ষ পালনে হচ্ছে ইনকিলাব সমাবেশ। আমরা এই সমাবেশ করছি কারণ আমরা ভগৎ সিংয়ের উত্তরসূরি।
রবিবার ধর্মতলায় ইনকিলাব সমাবেশের মঞ্চে নেতৃবৃন্দ। ধ্রুবজ্যোতি বলেন, কোচবিহারে ওরা ‘যুবশক্তি’-র অনুষ্ঠান বানচাল করতে গিয়েছিল। কমরেডরা প্রতিরোধ গড়ে দেখিয়ে দিয়েছে ওদের চোখে চোখ রেখে লড়াই করা হবে। হিংসার বাংলা নয়, ভালোবাসার বাংলা গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, রাজ্যে শিল্প নেই, কাজ নেই। সরকারি চাকরিতে কোনও নিয়োগ নেই। মমতা ব্যানার্জি ৮ হাজার স্কুল বন্ধ করেছে। এই সরকার ১০০ দিনের মধ্যে বলছে ৪ হাজার স্কুল বন্ধ করবে। এই আক্রমণ রুখতে হবে।
Comments :0