সরকারি খাস জমি নকল দলিলে বিক্রির চক্রান্ত। এমন অন্যায় রুখে জমির দখল নিল লালঝাণ্ডা। খেতমজুর ও কৃষকসভা চালালো লড়াই।
গ্রামের প্রান্তিক মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এই লড়াই পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা ব্লকের ডুঁঞ্যা ১০/১অঞ্চলের কালুয়া বৃন্দাবন মৌজায়।
বামফ্রন্টের সময়ে সরকারি খাসজমি বিদ্যুতের সাবস্টেশন তৈরির জন্য বরাদ্দ হয়। সেই জমি নকল দলিলে হস্তান্তর করার চক্রান্ত রুখে দিয়ে এলাকার আটটি মৌজার ভূমিহীন হাতে তুলে দিল লালঝান্ডা।
এলাকার আটটি মৌজার মানুষ লাল ঝান্ডার মিছিলে গিয়ে ওই খাস জমির দখল নেন। প্রায় ৭ একর খাসজমি নকল দলিলে বিক্রি করার চক্রান্ত আটকানো হয়েছে।
সারা ভারত কৃষক সভা ও খেতমজুর সংগঠনের পক্ষ থেকে এর আগে এই খাস জমি গরিব ভূমিহীনদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে বিডিও, ব্লক ভূমি দপ্তর, গ্রাম পঞ্চায়েত দপ্তরে ডেপুটেশন দেয়। কৃষক নেতা ভোলানাথ রায়, খেতমজুর সংগঠনের ব্লক সম্পাদক অশ্বিনী পাত্র ও এলাকার খেতমজুর সংগঠনের নেতা রনজিত পন্ডা বলেন, সরকারি খাস জমি বন্টন বন্ধ রেখে সেই জমি নকল দলিলে বিক্রি করার চক্রান্ত চালায় শাসকদল তৃণমূল। তাঁরা বলেন, এই মৌজায় একটি বড় সরকারি পুকুর রয়েছে। বামফ্রন্ট সরকারের সময়ে এই পুকুরের পূর্ব পাড়ে খাসজমিতে বিদ্যুতের সাবস্টেশন হওয়ার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। তখনই একশ দিনের কাজের টাকায় জমি সমান করা হয়। পুকুরের বাকি তিন পাড়ে গাছ লাগানো হয়। তৃণমূল ক্ষমতায় এসে সেই সাবস্টেশন অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে চলে যায়। এমনকি বেআইনি ভাবে রাতের অন্ধকারে গাছ কেটে পাচার করে দেয়। এখন এই সরকারি খাস জমি গরীব ভূমিহীন মানুষের হাতে তুলে না দিয়ে নকল দলিলে বিক্রি করার তোড়জোড় চালাচ্ছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন তৃণমূলের কিছু নেতা বছরে দুই লক্ষ টাকায় লিজ দিয়ে মাছ চাষ করায় সরকারি পুকুরে। এই টাকা থেকেও স্থানীয় গ্রামের মানুষ বঞ্চিত।
কৃষক সভা ও খেতমজুর সংগঠন যৌথ ভাবে স্থানীয় নজিপুর, কাঞ্চনগেড়িয়া, পশং, পাঁচগেড়িয়া, ঝাঁজিয়া, দিয়ারপুর, হরিহরপুর এবং কালুয়া- বৃন্দাবন এমন আটটি মৌজার মানুষকে সংগটিত করে ভূমিহীনদের হাতে সেই খাস জমি তুলে দিয়ে দখল নেয়। চার শতাধিক এলাকার মানুষ এই আন্দোলনে শামিল হন।
Debra Land
লড়াই করে ডেবরায় খাস জমি বিক্রির চক্রান্ত রুখল লালঝাণ্ডা, দখল ভূমিহীনদের
ডেবরায় লড়াইয়ে শামিল গ্রামের মহিলারাও। ছবি: চিন্ময় কর।
×
Comments :0