Bidi Workers

অধিকার আদায়ে বিড়ি শ্রমকদের বিক্ষোভ জলপাইগুড়িতে

জেলা

রাজ্যে বিড়ি শিল্পে যুক্ত শ্রমিকের মধ্যে প্রায় ১৫ শতাংশ মহিলা। সরকার ঘোষিত মজুরি হাজার প্রতি ২৬৭ টাক ৪৪ পয়সা। অভিযোগ সেই মজুরি মেলে না। ২০২০ সালে পর থেকে সরকার মজুরি বাড়ানোর কোন উদ্যোগ নেয়নি। এমনকি ট্রেড ইউনিয়নদের সঙ্গে মালিকপক্ষের মজুরি চুক্তিও মানা হচ্ছে না। বিড়ি শিল্পের মালিকদের প্রতিও আগের আগের সরকারের মতই বর্তমান সরকারও নরম মনোভাব নিয়ে চলছে। বিড়ি শ্রমিকদের নেই সামাজিক সুরক্ষাও। ফলে অধিকার ছিনিয়ে আনতে জলপাইগুড়ি জেলা ডেপুটি লেবার কমিশনারের দপ্তরে বিক্ষোভ দেখালেন বিড়ি শ্রমিকরা। দাবি উঠলো ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি, উৎসব বোনাস, পরিচয়পত্র প্রদান এবং সকল বিড়ি শ্রমিককে পিএফ-এর আওতায় আনাতে হবে। সোমবার সিআইটিইউ অনুমোদিত জলপাইগুড়ি জেলা বিড়ি মজদুর ইউনিয়নের উদ্যোগে এই কর্মসূচি হয়। পরে সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি ডেপুটি লেবার কমিশনারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
বিক্ষোভরত বিড়ি শ্রমিকরা অভিযোগ করে জানালেন, ‘‘তাঁদের পারিশ্রমিক অত্যন্ত কম। বর্তমানে ১০০০টি বিড়ি বাঁধার জন্য মাত্র ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা মজুরি দেওয়া হচ্ছে। নেই নিয়মিত পূজা বোনাস ও অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা। বিড়ি বাঁধার কাজে দীর্ঘ সময় চোখ ও শরীরের উপর চাপ পড়ায় বহু শ্রমিক শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। সংসারের অন্যান্য কাজ সামলে বাড়িতে বসে বিড়ি বাঁধতে হওয়ায় শ্রমের সময়ও দীর্ঘ হচ্ছে।
এদিন সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুধু বিড়ি বাঁধার কাজেই নয়, বিড়ি বাছাই ও তামাক প্রস্তুতির সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদেরও নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। দীর্ঘক্ষণ তামাক ও ধুলোর সংস্পর্শে থাকা, পর্যাপ্ত সুরক্ষা ও স্বাস্থ্য সুবিধার অভাব এবং কাজের তুলনায় কম পারিশ্রমিক তাঁদের সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। শ্রমিকদের পরিচয়পত্র ও পিএফ-সহ সামাজিক সুরক্ষার আওতায় এনে তাঁদের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। জলপাইগুড়ি জেলা বিড়ি মজদুর ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক স্বপন সরকার বলেন, ‘‘বিড়ি শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, পূজা বোনাস ও পরিচয়পত্রের দাবিতে আমাদের আন্দোলন চলছে। ১০০০ বিড়ি বেঁধে বর্তমানে শ্রমিকরা ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা পান, যা বর্তমান বাজারদরের তুলনায় অত্যন্ত কম। সকল বিড়ি শ্রমিককে পিএফ’র আওতায় আনার দাবিও জানানো হয়েছে।’’
বিড়ি শ্রমিক নেত্রী মমতা ডাকুয়া বললেন, ‘‘দীর্ঘদিন বিড়ি বাঁধার ফলে চোখের সমস্যা-সহ নানা শারীরিক অসুবিধা হচ্ছে। সংসারের কাজ সামলে সারাদিন পরিশ্রম করে মাত্র দেড়শ টাকা উপার্জন হয়।’’ দ্রুত মজুরি বৃদ্ধির ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানান তিনি। এদিনের কর্মসূচিতে ছিলেন বিড়ি শ্রমিকদের রাজ্য নেতা গৌরাঙ্গ আদিত্য, সিআইটিইউ জলপাইগুড়ি জেলার সাধারণ সম্পাদক সমরজিৎ ঘোষ, শুভাশিস সরকার, জ্যোতিপ্রকাশ ঘোষ, অপূর্ব বিষ্ণু, মমতা ডাকুয়া-সহ অন্যান্যরা।

Comments :0

Login to leave a comment