গ্রামীণ এলাকায় আবাস যোজনার উপভোক্তাদের পুনর্যাচাই ও অযোগ্যদের চিহ্নিত করতে রাজ্য সরকারের মুখ্য সচিব মনোজ আগরওয়াল পঞ্চায়েত সচিবকে চিঠি দিয়ে নির্দেশ দিয়েছে। শহরাঞ্চলের গরিব মানুষের জন্য চালু রয়েছে সরকারি প্রকল্প ‘হাউস ফর অল’ কেন্দ্র ও রাজ্য, দুই সরকারের অর্থে এই প্রকল্প চলছে। কেন্দ্রের বরাদ্দ ১৯৩০০০ টাকা, রাজ্যের বরাদ্দ ১১৫০০০টাকা এবং উপভোক্তাকে দিতে হত ২৫০০০ টাকা। অভিযোগ, এই প্রকল্পকে শিখণ্ডী করে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করছে একশ্রেণির মানুষ। তবুও শহর এলাকায় ‘হাউজ ফর অল’ প্রকল্পে বড় দুর্নীতির তদন্তের কোন নির্দেশ আসেনি পৌর সচিবের কাছ থেকে পৌরসভা গুলিতে। এটাই এখন উত্তরবঙ্গে বড় আলোচ্য বিষয়। দিনহাটা, মাথাভাঙা, তুফানগঞ্জ মেখলিগঞ্জ এবং পাশের জেলার আলিপুরদুয়ার পৌরসভায় ‘হাউজ ফর অল’ প্রকল্পে বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। মাথাভাঙায় সিআইটিইউ ইতিমধ্যেই প্রাপকদের ঘরের তালিকা প্রকাশ্যে আনার দাবি তুলেছে। সংগঠনের অভিযোগ, শহরে গত কয়েক বছরে এমন অনেক নাগরিকই ঘরের টাকা পেয়েছেন যারা উপভোক্তা হিসেবে উপযুক্তই নয়! অনেক প্রকল্পের টাকা নিয়ে সেই টাকায় দ্বিতল ভবন গড়ার কাজে ব্যবহার করেছেন! আবার অনেকে টাকা পেয়েও ঘর তৈরিই করেনি। ঘর পাইয়ে দিতে ‘‘কাটমানি’’ নেওয়া দুই কাউন্সিলার ইতিমধ্যে জনসমক্ষে টাকা ফেরত দিয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান সহ কয়েক জন আবার কাটমানি ফেরত দেবার ভয়ে ভোটের ফল প্রকাশের পরেই এলাকাছাড়া! শহরবাসীর প্রশ্ন এত কিছুর পরেও কেন রাজ্য সরকারের পৌর মন্ত্রক তদন্তের নির্দেশ দিচ্ছে না? তাদের আশঙ্কা সব দুর্নীতি ধামাচাপা পড়বে না তো?
তৃণমুল পরিচালিত দিনহাটা পৌরসভা ‘হাউজ ফর অল’ প্রকল্পে উপভোক্তাদের থেকে নিয়ম বহির্ভুত ভাবে ২০ হাজার টাকা করে নিয়েছে। অডিট রিপোর্টে গোটা প্রক্রিয়াকে অবৈধ বলে উপভোক্তাদের টাকা ফেরত দিতে নির্দেশ দিলেও সেই টাকা উপভোক্তারা ফেরত পায় নি। উপভোক্তার তালিকা প্রকাশ ও টাকা ফেরানোর দাবিতে সরব হয়েছেন দিনহাটার সিপিআই(এম) নেতৃত্ব। আলিপুরদুয়ার পৌরসভার বিরুদ্ধে অভিযোগ ২০১৮ সাল থেকে ২০২০ সালের মধ্যে দুটি অর্থবর্ষে তিন হাজার উপভোক্তাকে ঘরের টাকা মেটায় নি পৌরসভা। টাকা না পাওয়ায় অনেক উপভোক্তাই ঘরের কাজ শেষ করতে পারে নি। এছাড়াও ‘‘কাটমানি’’ নেওয়ার ভুরিভুরি অভিযোগ উঠেছে পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে।‘হাউজ ফর অল’ প্রকল্পের হাল হকিকত জানতে তৃণমূল পরিচালিত মাথাভাঙা পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ারিং দপ্তরে খোঁজ নিতেই জানা গেল, ২০১৫-১৬ সালে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল। উপভোক্তাদের মোট ৩,৬৮০০০ টাকার মধ্যে ঘর তৈরি করতে বলা হত। সেই মত প্ল্যান পাশও করে দিত পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ারেরা। ২০২১-২২ সালের পর নতুন করে বরাদ্দ আসে নি বলেই জানিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার।
তথ্যের ভিত্তিতেই দেখা যাচ্ছে ২০১৮-১৯ সালে ৬৯৭ জন উপভোক্তা ঘর পেয়েছিল। কিন্তু ২০২৬ সালে এসে ৩৬০ জন ঘরের কাজ শেষ করলেও ৩৩৭ টি ঘরের কাজ শেষ হয় নি! আবার ২০১৯-২০ সালে ২৬২ টি ঘর বরাদ্দ হলেও মাত্র ১২৩ টি ঘরের কাজ শেষ হয়েছে। এই বছরের ১৩৯ টি ঘরের কাজ শেষ হয় নি! ২০২১-২২ সালের বরাদ্দ হওয়া ৮১৭ টি ঘরের মধ্যে মাত্র ৩০০ টি ঘরের কাজ শেষ হয়েছে। ৫১৭ টি ঘরের কাজ এখনও চলছে। প্রশ্ন উঠেছে, কাজ দেখার জন্য ইঞ্জিনিয়ার রয়েছে তবুও কেন ঘরের কাজ শেষ হল না? কেনই বা উপভোক্তারা সঠিক সময়ে টাকা পাচ্ছেন না? আর এখানেই লুকিয়ে আছে ‘‘কাটমানির’’ গল্প। নিয়ম বিরুদ্ধ ভাবে যারা সরকারি ঘরের টাকা নিয়ে নিজেদের প্রাসাদ গড়েছেন তাদের বাড়িগুলি থার্ড পার্টি ভিজিটে (দিল্লী ও রাজ্যের ইঞ্জিনিয়ারেরা যৌথ ভাবে ঘরের কাজের অগ্রগতি ঘুরে দেখেন) আড়াল করে রাখা হচ্ছে কার স্বার্থে এসব প্রশ্ন উঠলেও তদন্তের কোন ইঙ্গিত মিলছে না।
'House for All’ Corruption
‘হাউজ ফর অল’ দুর্নীতি, উপভোক্তাদের স্বচ্চ তালিকা প্রকাশের দাবি মাথাভাঙায় সিআইটিইউ’র
×
Comments :0