Opposition protest

‘ভোট চুরি’ ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে বিরোধীদের ‘গণতন্ত্র বাঁচাও মিছিল’

জাতীয়

‘ভোট চুরি’র অভিযোগ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জমা দিতে সোমবার ‘গণতন্ত্র বাঁচাও মিছিল’ শুরু করলেন বিরোধী সাংসদ ও নেতারা। সঙ্গে ছিলেন শত শত সমর্থক ও কর্মী।
মিছিলের নেতৃত্বে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ও রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে। সঙ্গে রয়েছেন সিপিআই সাধারণ সম্পাদক ডি রাজা, সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি, আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব, এনসিপি-এসসিপি নেত্রী সুপ্রিয়া সুলে, শিবসেনা-ইউবিটি নেতা সঞ্জয় রাউত, সিপিআই-এমএল সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য এবং আইইউএমএল নেতা ই টি মহম্মদ বশির।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, শশী থারুর, শচীন পাইলট, মুকুল ওয়াসনিক, সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব, নন্দিতা নারায়ণ ও আইসা সভানেত্রী নেহা বোরা।
প্রথমে বিরোধী নেতারা কনস্টিটিউশন ক্লাবে জমায়েত হন। সেখান থেকে চারটি বাসে করে বারাখাম্বা রোড মোড়ের দিকে যান। সেখান থেকেই সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত পদযাত্রা শুরু করেন। "ভোট চুরি" ইস্যু তুলে ধরা এবং বিক্ষোভ আটকাতে সরকারের জারি করা নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে এই মিছিল।
তবে পুলিশ ভগবান দাস রোডে ব্যারিকেড দিয়ে মিছিল আটকে দেয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে রাহুল গান্ধী ও সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব সহ কয়েকজন নেতা একটি গাড়ির ওপর উঠে প্রতিবাদ জানান।
এর আগে কংগ্রেসের সদর দপ্তর ইন্দিরা ভবনে এক সাংবাদিক বৈঠকে রাহুল গান্ধী জানান, ভারতের প্রধান বিচারপতি বিরোধী দলনেতাদের সঙ্গে দেখা করার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করায় তারা ইন্ডিয়ার নেতাদের সঙ্গে নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে নির্বাচন কমিশন প্রধান এবং "ভোট চুরি"র বিরুদ্ধে মামলা করার আবেদন জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি সিইসিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "পদত্যাগ করুন, রাজসাক্ষী হয়ে যান। আপনি ভুল করেছেন, কিন্তু এই ভুলের পিছনে মাথা আপনি নন।"
রাহুলের দাবি, "আমরা জানি জ্ঞানেশ কুমার রাতে ঘুমাতে পারছেন না। আমি তাকে সরাসরি বলছি, আপনি সিইসি হিসাবে টিকতে পারবেন না।"
তিনি আরও বলেন, আগে প্রতিরোধ ছিল, কিন্তু তা রাস্তায় নেমে এভাবে বিক্ষোভের রূপ নেয়নি। এই লড়াই থামবে না, দিন লাগুক বা বছর, চলবে। দেশকে একদিন বা দুদিনে বাঁচানো যায় না, মানুষকে প্রতিবাদ চালিয়ে যেতে হবে। 
রাহুলের দাবি, সরকারের ২০০ জন আধিকারিক তাদের সঙ্গে যোগাযোগে রয়েছেন এবং তথ্য দিচ্ছেন। এদিকে, যন্তর মন্তরকে প্রতিবাদের নির্দিষ্ট স্থান হিসাবে বাতিল করে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। প্রতিবাদের জন্য তিনটি নতুন স্থানের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
দিল্লির পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার ১১ অক্টোবর এক স্থায়ী নির্দেশ জারি করে রামলীলা ময়দান, বুরারি মাঠ এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি মাঠকে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের নতুন নির্দিষ্ট স্থান হিসাবে ঘোষণা করেছেন। যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ জমায়েতের ডাকের পরিপ্রেক্ষিতে রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার মধ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হল।

Comments :0

Login to leave a comment