কোচবিহার পৌরসভার চূড়ান্ত অসহযোগিতা, দীর্ঘ প্রায় ৪মাস যাবত মাসিক মজুরি পাচ্ছেন না এই পৌরসভার তত্ত্বাবধানে থাকা জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের বিভিন্ন পাম্প হাউসে কর্মরত প্রায় ২৯জন পাম্প অপারেটর। শুধু তাই-ই নয়, তাদের প্রাপ্য উৎসব বোনাস দেওয়ার কোনও রকম উদ্যোগ নেই পৌর কর্তৃপক্ষের। এই পরিস্থিতির মধ্যে দাঁড়িয়ে বুধবার কোচবিহার পৌর ভবনে ধর্ণায় শামিল এই চরম বিপন্নতার মুখোমুখি দাঁড়ানো পাম্প অপারেটররা।
এদিন আন্দোলনকারীরা জানান, ২০০৩সাল থেকে শারদোৎসবের আগে উৎসব বোনাস পেয়ে আসছেন এই পাম্প অপারেটররা। কিন্তু এবার তাদের এই উৎসব বোনাস না দেওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। শুধু এটাই নয়, অক্টোবর মাসে তারা হাতে যে মাসিক মজুরি পেয়েছেন, তা মে মাসের। অর্থাৎ পৌরসভার কাছে ৪মাসের মাসিক মজুরি বকেয়া রয়েছে তাদের। এছাড়াও বর্ধিত মজুরির প্রচুর টাকা পৌরসভার কাছে পাওনা রয়েছে এই পাম্প অপারেটরদের। প্রত্যেক মাসে বাড়তি এক হাজার টাকা করে তাদের মাসিক মজুরির সাথে দিয়ে তা পরিশোধ করার প্রতিশ্রুতি পৌরসভার পক্ষ থেকে শ্রম দপ্তরকে দেওয়া হলেও মাত্র ৫হাজার টাকা দেওয়ার পর তা বন্ধ করে দেয় পৌরসভা।
পৌরসভার এই অসহযোগিতার কারণে কোচবিহার শহরে পাণীয় জল পরিষেবা বন্ধ করে দিয়ে আন্দোলনে নামতে তারা বাধ্য হবেন বলে এদিন জানান আন্দোলনকারী পাম্প অপারেটররা। তারা বলেন, পৌরসভার সমস্ত কর্মচারীকে উৎসব বোনাস মিটিয়ে দেওয়া হলেও পর্যাপ্ত ফান্ড না থাকার কারণ দেখিয়ে তাদেরকে এই বোনাস থেকে বঞ্চিত করবার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে পৌর কর্তৃপক্ষ। এব্যাপারে পৌর প্রশাসক তথা কোচবিহার সদর মহকুমা শাসকের তারা যোগাযোগ করলে ও কোন সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।
তবে এই অন্যায় কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যাবে না। দ্রুত পৌরসভাকে বোনাসের কথা ঘোষণা করতে হবে। আর তা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন তারা বলে এদিন স্পষ্ট জানিয়ে দেন এই আন্দোলনকারী পাম্প অপারেটররা।
Comments :0