Schools in Cooch Behar

শিক্ষকের অভাবে ধুঁকছে কোচবিহার জেলার স্কুলগুলি

জেলা

জয়ন্ত সাহা; মাথাভাঙা

সারা রাজ্যের মতই কোচবিহার জেলাতেও বামফ্রন্ট আমলে গড়ে ওঠা মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্র(এমএসকে) গুলি শিক্ষকের অভাবে ধুঁকছে। গত ১৫ বছরে কোন নিয়োগ হয় নি।উঠে যাবার মুখে স্কুল গুলি। উদ্বেগ প্রকাশ করলেন এবিটিএ-র রাজ্য সম্পাদক সুজিত দাস।
ঘড়ির কাঁটা তখন সকাল সাড়ে ৮ টার ঘরে। পচগড়ের ভবেরহাট ক্ষিতীশ চন্দ্র নাগ মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্রে (এমএসকে) গিয়ে চোখে পড়লো বারান্দায় চার জন ছাত্রী আপনমনে খেলছে। ক্লাস নেই এখন? জিজ্ঞেস করতেই বললো, একটা ক্লাস হল। একটু পরে আবার হবে। পাশের ক্লাসে একজন শিক্ষক চারজন ছাত্রকে পড়াচ্ছেন।
ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক মৃনাল কান্তি সরকার জানালেন, চারজন শিক্ষক মিলে স্কুল চালাই। ক্লাস ফাইভ থেকে ক্লাস এইট অব্দি সব মিলিয়ে ২২ জন পড়ুয়া। এদের মধ্যে ১২-১৩ জন স্কুলে আসে। ক্লাস হিসেবে পড়ুয়ার সংখ্যা যথাক্রমে এই রকম, পঞ্চম শ্রেণিতে ২, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ৯ সপ্তম শ্রেণিতে, ১০ এবং অষ্টম শ্রেণির ২ জন পড়ুয়া। চার শিক্ষকের মধ্যে ইংরেজি আর অংকের কোন শিক্ষক নেই।অন্যরাই সেগুলো দেখাচ্ছেন। এভাবেই চলছে এমএসকে। 
প্রায় ৭০ শতক জমির ওপরের এই স্কুলের বেশির ভাগ ক্লাস রুম এখন আর খুলতে হয় না। অথচ এক সময়ে স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা ১৬৫ জনের বেশি ছিল।
স্কুলের বেঞ্চ, টেবিল ভাঙলে আর মেরামত হয় না। গত দুবছরে আসে নি কম্পোজিট গ্র‍্যান্টের টাকা। বন্ধ হয়ে গেছে টিএলএমের বরাদ্দ স্কুল গ্র‍্যান্ট আসে নি কয়েক বছর। স্কুলের বিদ্যুৎতের বিল দু বছর মেটানো হয় নি। যে কোন দিন সংযোগ কেটে দিতে পারে বিদ্যুৎ নিগম।
শুধুই কি এই এমএমকে বন্ধের মুখে? কোচবিহার ১ ব্লকের দীনেশ চন্দ্র এমএসকে চলছে ৬০ জন পড়ুয়া নিয়ে। দোমুখা নয়ারহাট এমএসকে তেও দুজন শিক্ষক ৬৫ পড়ুয়াকে পড়াচ্ছেন। দেওয়ানহাট এমএসকে-তে পড়ুয়ার সংখ্যা মাত্র ৪৫ জন। এখানেও মাত্র দুজন শিক্ষক।
জেলার শিতলখুচি ব্লকের ৭ টি এমএসকের মধ্যে ৬ টিই রুগ্ন। শিক্ষক আর পড়ুয়ার অভাবে ধুঁকছে স্কুল গুলি।গোলেনাওহাটি এমএসকে-র প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান বলেন, একসময়ে এই স্কুলে ২০০র বেশি পড়ুয়া ছিল। শিক্ষক ছিল চার জন। এখন তিনজন শিক্ষক ৬৫ জন পড়ুয়াকে পড়াচ্ছি। আগামী মাসে একজন অবসর নেবেন। কিভাবে স্কুল চলবে ভেবেও কূল কিনারা পাচ্ছেন না আব্দুর রহমান।
এবিটিএ-র রাজ্য সম্পাদক সুজিত দাস বলেন, বামফ্রন্ট আমলে ২০০৩ সাল থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ক্লাস ফাইভ থেকে এইট ক্লাস অব্দি পড়ানোর লক্ষে এমএসকে গড়া হয়েছিল। গত ১৫ বছরে সারা রাজ্যেই এমএসকে শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার মুখে। কোচবিহার জেলায় ৬৮ টি মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্রই এখন শিক্ষক আর পড়ুয়ার অভাবে ধুঁকছে। তিনি বলেন, প্রতিটি স্কুলের পরিকাঠামো ২০০৩ সালেই গড়েছিল তৎকালীন সরকার। স্কুলগুলিতে শিক্ষক নিয়োগ হলেও পড়ুয়ার অভাব হবে না। মূলত শিক্ষকের অভাবের কারণেই এমএসকে-তে অভিভাবকেরা তাদের সন্তানকে ভর্তি করতে চাইছেন না। তৃণমূল সরকার গত ১৫ বছরে কোন নিয়োগ করে নি। এমএসকে গুলিকে বাঁচানোর জন্য রাজ্য সরকারের আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা প্রয়োজন।

Comments :0

Login to leave a comment