Free Bus Travel For Women

ভাড়া ফ্রি সরকারি বাসে উঠতে পারলেন না মহিলারা, অভিযোগ ধূপগুড়িতে

জেলা

ঢাকঢোল পিটিয়ে, কোটি কোটি টাকার বিজ্ঞাপনে মোড়ক লাগিয়ে ডবল ইঞ্জিনের রাজ্য সরকার ঘোষণা করেছিল— পয়লা জুন থেকে সরকারি বাসে মহিলারা বিনামূল্যে সফর করতে পারবেন। কিন্তু ঘোষণার প্রথম দিনেই সরকারি বিজ্ঞাপনের সেই প্রচারসর্বস্ব ফানুস সশব্দে চুপসে গেল ধূপগুড়িতে। সরকারি বাসে মহিলাদের ভাড়া ‘ফ্রি’র গালভরা বুলি আউড়ানো হলেও, বাসে ওঠার ন্যূনতম ‘অধিকার’ যে মিলল না, তা প্রমাণ হয়ে গেল খোদ উত্তরবঙ্গেই। বাসে আসন খালি থাকা সত্ত্বেও তিন মহিলা যাত্রীকে জোরপূর্বক ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বাস থেকে নামিয়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠল বাস কর্মীদের বিরুদ্ধে। সরকারি প্রকল্পের উদ্বোধনী দিনেই সোমবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা ছড়াল ধূপগুড়ি পৌর বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। সরকারের এই সস্তার চমক আর বাস্তব পরিকাঠামোর কঙ্কালসার রূপ দেখে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন খেটে খাওয়া মহিলারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এদিন ধূপগুড়ি থেকে ইসলামপুরের সোনাপুর যাওয়ার উদ্দেশ্যে একটি সরকারি বাসে ওঠেন পুতুল দাস, বিনা দাস সহ তিন মহিলা যাত্রী। পুতুলদেবী বাসের ভেতরের চরম অরাজকতার কথা তুলে ধরে অভিযোগ করেন, "ভাড়া ফ্রি করা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু যদি বাসে উঠতেই না দেওয়া হয়, তবে লাভ কী? কেবল কাগজে-কলমে প্রচার করে আমাদের ভাঁওতা দেওয়া হচ্ছে।" বিনা দাসের ক্ষোভ, "বাসে সিট খালি থাকা সত্ত্বেও আমাদের জোর করে নামিয়ে দেওয়া হলো। এটা মহিলাদের অপমান।" শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে চরম অপমান সহ্য করে নিজেদের পকেটের কড়ি খরচ করে অন্য বাসে রওনা দেন তাঁরা।
এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে স্থানীয় বামপন্থী কর্মী মৌলী রাহা বলেন, "সরকার যখন ঢাক পিটিয়ে এই সুবিধা চালু করেছে, তখন প্রথম দিনেই এমন ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। এর দায় প্রশাসনকে নিতে হবে।" তিনি অবিলম্বে তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানান। স্থানীয় মানুষও প্রশ্ন তুলছেন— এর পেছনে কি সরকারি ভর্তুকি না মেলার ক্ষোভ যাত্রীদের ওপর ঝাড়ছেন পরিবহণ কর্মীরা?
অবশ্য স্বভাবসিদ্ধভাবেই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বাসের কন্ডাক্টরের দাবি, গাড়ি আগে থেকেই ভর্তি ছিল, মহিলারা ভিত্তিহীন অভিযোগ করছেন। বামপন্থী আন্দোলনের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল গণপরিবহনকে সস্তা ও মজবুত করার। কর্পোরেট তোষণকারী সরকারের জমানায় কেবল ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থেই যে এই ধরণের দিশাহীন প্রকল্প ঘোষণা করা হয়, তা এই ঔদ্ধত্যেই স্পষ্ট। প্রথম দিনেই ধূপগুড়ির এই ঘটনা প্রমাণ করল, সঠিক পরিকল্পনা ও নজরদারির তোয়াক্কা না করে কেবল সস্তার চমক দিতে গেলে সাধারণ মানুষকে কীভাবে হেনস্থার শিকার হতে হয়।

Comments :0

Login to leave a comment