রাজ্যে উন্নয়নের ঢাকঢোল পিটিয়ে প্রচার চললেও উত্তরের চা বলয়ে তার যে ছিটেফোঁটাও পৌঁছায়নি, তার জলজ্যান্ত প্রমাণ বানারহাট ব্লকের চামুর্চি চা বাগান। গত এক দশক ধরে ভুটান সীমান্ত লাগোয়া এই বাগানের প্রায় চার হাজার বাসিন্দা প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন একটি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোর ওপর দিয়ে। স্থানীয়ভাবে ‘খোকা সাঁকো’ বা ‘খোকা ব্রিজ’ নামে পরিচিত এই সেতুটি এখন কার্যত মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
চামুর্চি চা বাগানের মন্দির লাইন এলাকার হাতিনালার ওপর অবস্থিত এই সাঁকোটিই হলো বাগানের মূল সংযোগকারী পথ। ডিভিশন মন্দির লাইনের বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যকেন্দ্র, স্কুল বা গুদাম লাইনে যেতে হলে এই সাঁকোই একমাত্র ভরসা। এই নড়বড়ে সাঁকো এড়িয়ে চলতে গেলে সাধারণ মানুষকে প্রায় ২ কিলোমিটার পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হয়। আপৎকালীন সময়ে কোনো অসুস্থ রোগীর ক্ষেত্রে যা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বাঁশের সাঁকো থেকে পড়ে গিয়ে ইতিমধ্যেই আহত হয়েছেন বহু মানুষ। বর্ষাকালে হাতিনালার জল বাড়লে পরিস্থিতি হয়ে ওঠে আরও ভয়াবহ।
এলাকাবাসীর দাবি, পঞ্চায়েত থেকে জেলা পরিষদ সব দরজায় কড়া নেড়েও সুরাহা মেলেনি। এমনকী রাজ্য সরকারের ফলাও করে প্রচার করা ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচিতেও ফোন করে অভিযোগ জানানো হয়েছিল, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ক্ষোভ উগরে দিয়ে এলাকার বাসিন্দা আরফাজ আনসারী বলেন, ‘‘চারদিকে উন্নয়নের কথা শুনি, কিন্তু আমাদের এই সামান্য সেতুটা কি প্রশাসনের চোখে পড়ে না? স্থানীয় প্রশাসন কেন এই কাজ করতে অনীহা দেখাচ্ছে জানি না। আমরা কি কর দিই না?’’
এদিকে দায় এড়িয়ে যাওয়ার চেনা ছবি ধরা পড়েছে পঞ্চায়েত স্তরেও। চামুর্চি গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের দাবি, তাঁদের হাতে পর্যাপ্ত তহবিল নেই। জেলা পরিষদ পরিদর্শন করে গেলেও সব ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে আছে।
সিপিআই(এম) নেতা রামলাল ওঁরাও এই বঞ্চনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ‘‘তৃণমূল সরকারের আমলায় চা শ্রমিকদের সমস্যার প্রতি কোনো নজর নেই। শুধু মেলা আর খেলা নিয়ে ব্যস্ত প্রশাসন। বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও পরিকাঠামো উন্নয়নে কোনো সদিচ্ছা দেখাচ্ছে না শাসক দল ও জেলা পরিষদ। অবিলম্বে স্থায়ী পাকা সেতু নির্মাণ না হলে আগামীতে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন চামুর্চি চা বাগানের ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা।’’
Banarhat
মরণফাঁদে পরিণত চামুর্চি’র বাঁশের সাঁকো, ক্ষোভ স্থানীয়দের
×
Comments :0