CPI(M) Both Level Discussion

বৈঠকি সভায় ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের আহ্বান মীনাক্ষী মুখার্জির

জেলা

তৃণমূল-বিজেপি ষড়যন্ত্র করে ১০০ দিনের কাজ বন্ধ করে রেখেছে। যারা চুরি করলো মোদীর সিবিআই, ইডি তাদের ধরলো না, গরিবদের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হলো। ১০০ দিনের কাজ এক সময় গ্রামীণ মানুষের জীবিকার অন্যতম ভরসা ছিল। আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের ষড়যন্ত্রে এখনও চালু হয়নি ১০০ দিনের কাজ। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে গ্রামীণ অর্থনীতিতে। কাজের অভাবে গ্রামের মানুষ আজ চরম সংকটের মুখে। শুক্রবার কুমারগ্রাম বিধানসভার অন্তর্গত ভাটিবাড়ী গ্রাম পঞ্চায়েতের ১০/২৭২ নম্বর বুথের মধ্য কলোনি পাড়ায় এক বৈঠকি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন খেটে খাওয়া শ্রমজীবী সাধারণ মহিলারা। সেই বৈঠকি সভায় যোগ দিয়েছিলেন সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখার্জি। তিনি বলেন, গরিবদের পেটে লাথি মারতে চাইছে বিজেপি। এখন গরিব মানুষ না খেয়ে মরছে আর বড়লোকদের পা চাটছে তৃণমূল ও বেজিপে। এখন রাজ্যে কাজ নেই ধর্ম নিয়ে মেতে রয়েছে দুই ফুল। মন্দির তৈরি সরকারের কাজ না, সরকারের কাজ শিল্প, কল কারখানা তৈরি করা। এখন শিল্প, কলকারখানা তো হচ্ছেই না, উলটে যেগুলি আছে তা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। চা বাগান মালিকদের তাদেদারি করছে তৃণমূল সরকার। ধুকছে চা বাগানগুলি। বিপাকে পড়ছেন চা শ্রমিকরা। কাজ নেই, সংসার চালাতে না পেরে বহু যুবক ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে পাড়ি দিতে বাধ্য হচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ আবার কাজের সন্ধানে গিয়ে কফিনবন্দী হয়ে গ্রামে ফিরছেন। তিনি বলেন, রাজ্যের এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূলের সীমাহীন দুর্নীতির কারণেই একশো দিনের কাজ বন্ধ হয়ে রয়েছে। অথচ এই ইস্যুতে বিজেপির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বিজেপি কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে এবং বিভাজনের রাজনীতিতে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। শুধু তাই নয়, গ্রামীণ এলাকায় পানীয় জলের তীব্র সংকট, বিভিন্ন সামাজিক ভাতা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হয়ে থাকা এই সব সমস্যা নিয়েও প্রশাসন উদাসীন। এই সব দাবিদাওয়া ও বঞ্চনার প্রতিবাদে আলিপুরদুয়ার জেলার গ্রামাঞ্চলে পাড়ায় পাড়ায় বৈঠকি সভায় সরব হয়ে উঠেছেন গ্রামের মহিলারা। তাদের বক্তব্য তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ একাধিক ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু বিজেপি-তৃণমূল আঁতাতের ফলে কোনও দুর্নীতিগ্রস্তেরই শাস্তি হচ্ছে না। পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন কৌশলে তৃণমূল তাদের দুর্নীতিকে আড়াল করছে। বামফ্রন্টকেই ভোট দিতে হবে,  কারণ ওরা জিতলে গরিবের কাজ থাকে, দুর্নীতি বন্ধ হয়। ফসলেরও দাম থাকে। তারা ভাবে চা শ্রমিকদের কথা। মীনাক্ষী বলেন, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিটি বুথে তৃণমূলের দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াই গড়ে তুলে লালঝান্ডাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।

Comments :0

Login to leave a comment