MD SALIM

‘জ্ঞানপাপী’ কমিশন, লাল ঝান্ডা কাঁধে নিয়েই তীব্রতর করতে হবে লড়াই, সেলিম

রাজ্য জেলা

অনির্বাণ দে: বহরমপুর
পশ্চিমবঙ্গকে বাঁচাতে তৃণমূল, বিজেপির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াই করতে হবে। যারা লড়তে চান সবাইকে রাস্তায় নামতে হবে। লড়াইয়ের পথ বেয়েই সঠিক ঝান্ডা চিনে নিতে হবে। ধর্মের বর্ম নয়। মেহনতী মানুষের জন্য শহীদের রক্তে রাঙা লাল ঝান্ডা কাঁধে নিয়েই লড়াই তীব্রতর করতে হবে। বৃহস্পতিবার বহরমপুরে শ্রমিক, কৃষক, খেতমজুর, বস্তিবাসীর জমায়েতে এই আহ্বান জানালেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। কাজের অধিকারের পাশাপাশি আজ আক্রান্ত ভোট দেওয়ার অধিকারও। সেই অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কথা উঠে এসেছে এদিনের সভায়।
এদিন মহম্মদ সেলিম মঞ্চ থেকে প্রশ্ন তুলেছেন, ‘কেন লক্ষলক্ষ ভোটারকে এসআইআরের শুনানির নোটিশ দেওয়া হচ্ছে ? কেন জাতি, লিঙ্গ, ধর্ম দেখে নোটিশ দেওয়া হচ্ছে ? সরকারি আধিকারিকরা ভোটার লিস্টে ভুল নাম লিখেছেন। কেন মানুষ ভুগবেন ? জ্ঞানেশ কুমারের মতো জ্ঞানপাপী নেই। যেখানে ম্যাপিং-এ নাম কম। সেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষকে শুনানির নোটিশ দেওয়া হচ্ছে কেন ? শুনানিতে প্রতিদিন মানুষের জীবন, জীবিকা বিপর্যস্ত’’। তিনি বলেছেন,‘‘ তৃণমূল চুরি জোচ্চুরি করেছে বলেই আজকে দিল্লির এতো মাতব্বরি বেড়েছে। জ্যোতি বসু যখন মহাকরণে ছিলেন এই নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় সরকারের তল্পি বাহকের হিম্মত হতো বাংলার মানুষকে চোখ দেখানর ?’’। সেলিম বলেছেন, ‘‘চোর জোচ্চর ধর্ষক খুনীরা অপরাধ করেছে। ওদের শাস্তি দিচ্ছে না। সাধারণ মানুষ ভুগছেন’’। তিনি বলেন, ‘আরএসএস বলেছে বাংলা ভাষায় কথা বললে নামাজ পড়লেই বাংলাদেশি। তারপর বলল রোগিঙ্গা, জেহাদী। শুভেন্দু, সুকান্তরা বলল এক কোটি চল্লিশ লক্ষকে বাদ দিতে হবে। ম্যাপিং-এ ধরা পরল না। আজকের নির্বাচন কমিশন, আজকের বিডিও, এসডিও, ডিএম আরএসএস’র কর্মসূচি অনুযায়ী ওদের কথাকে সত্য প্রমাণিত করার জন্য আগেই ঠিক করে নিয়েছে ১ কোটি ৪০ লক্ষকে নোটিশ দিতে হবে। নোটিশ দেওয়ার জন্য নামের ভুল বের করা হচ্ছে। নামের ভুল থাকলেও ওই ভোটার লিস্ট নির্বাচন কমিশন তৈরি করেছে। ভুলের দায়িত্ব কে নেবে ?’’।
এদিন টেক্সটাইল মোড়ে পোস্ট অফিসের সামনের রাস্তা উপচে মাঠে ভিড় করে ছিলেন গ্রাম থেকে, শহরের বস্তি এলাকা থেকে আসা মানুষ। লাল ঝান্ডা আঁকড়ে দুপুরের রোদ মেখে জুড়েছেন লড়াইয়ের শপথে। ভাগ করে নিয়েছেন গ্রামে শহরে তৃণমূল আর বিজেপর বিরুদ্ধে প্রতিদিনের জান কবুল লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা।
বহরমপুর স্টেডিয়াম, উত্তরপাড়া মোড় এবং পঞ্চনানতলা মোড় থেকে ৩ টি মিছিল এদিন এসে মেশে টেক্সটাইল কলেজের মোড়ে। মিছিলে হেঁটে এসেছেন মহম্মদ সেলিম সহ সিপিআই(এম) নেতৃত্ব। এদিন সমাবেশের মঞ্চে ছিলেন মহিলা সমিতির জেলা সম্পাদিকা শেখ হাসিনা, কৃষক সভার জেলা সভাপতি সোমনাথ সিংহ রায়।  সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিআই(এম) মুর্শিদাবাদ জেলা কমিটির সম্পাদক জামির মোল্লা, কৃষক সভার জেলা সম্পাদক সচ্চিদানন্দ কান্ডারী, সিআইটিইউ জেলা সম্পাদক জ্যোতিরুপ ব্যানার্জি, খেতমজুর ইউনিয়নের জেলা সম্পাদক জামাল হোসেন, বস্তি ফেডারেশনের জেলা সম্পাদক ভাস্কর সেনগুপ্ত। সভাপতিত্ব করেন মহম্মদ নিজামুদ্দিন।
জামির মোল্লা বলেছেন, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে পশ্চিবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর আক্রমণ চলছে। রাজ্যের সরকার কোন দায় নিচ্ছে না। কোন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। অন্যদিকে ওয়াকফের সম্পত্তি নরেন্দ্র মোদী আর মমতা ব্যানার্জি মিলে কর্পোরেটের হাতে তুলে দেওয়ার চক্রান্ত করছেন। সমাবেশে এদিন মহম্মদ সেলিম বলেছেন, ‘‘মানুষ যদি এককাট্টা না হয় সেটা অনেকে চাইছে। যারা ঐক্য ভাঙার কথা বলে তাঁরা দালালি করার জন্য নেমেছে। এই বাংলাকে বাঁচাতে হলে আসলে আমাদের যেমন ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তেমন আমাদের লড়াইয়ের সঠিক ঝান্ডাও চিনে নিতে হবে। কৃষক, শ্রমিক, খেতমজুর, বস্তিবাসী, উদ্বাস্তু কলোনীর মানুষ, আদিবাসী তফশিলী মানুষ তাঁরা যখন লড়াই করবে এই লড়াইয়ের ঝান্ডা কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের রঙের হতে পারে না। আমাদের শহীদের রক্তে রাঙানো লাল ঝান্ডাকে আমাদের মজবুত করতে হবে’’।
মহম্মদ সেলিম বলেছেন, ‘‘আসলে আরএসএস, বিজেপি চায় না সংখ্যালঘু অংশের মানুষ শিক্ষায়, চাকরিতে এগিয়ে আসুন। জম্মু কাশ্মীরে মেডিক্যাল কলেজেও সেটা দেখা গেল। সেখানে মেডিক্যাল কলেজ বাতিল করে দেওয়া হল। এখানেও মমতা ব্যানার্জি একই কাজ করল। গোটা লিস্টটাই বাতিল করে দিল’’।
সেলিম বলেছেন, এসআইআর, সিএএ, ওবিসি-এ, ওয়াকফ থেকে পরিষ্কার যে দিদি মোদী কারও ভরসা নেই। সবাইকেই রাস্তায় আসতে হবে। যারা এদিক ওদিক চলে গিয়েছিলেন তাঁদের পরিষ্কার করতে হবে যে তাঁরা বিজেপি, তৃণমূলের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, ‘‘মমতা বলে তোমরা কেউ মিছিলে নামবে না। আমি বাঁচবো। আমরা বলি সবাকে এসে রাস্তায় নামতে হবে। মিছিলে যোগ দিতে হবে। লড়াইয়ের ময়দানে নামতে হবে। কাঁধে কাঁধ লাগিয়ে সবাই এককাট্টা হলে বাংলার মানুষ নিজের ভবিষ্যৎ ঠিক করবে’’।

Comments :0

Login to leave a comment