CPIM

বুথে বুথে লালঝাণ্ডাকে শক্তিশালী করতে হবে, রানিগঞ্জে অমল হালদার

জেলা

প্রয়াত কমরেড রবীন সেনের স্মরণ সভায় বক্তব্য রাখছেন অমল হালদার। ছবি - মলয়কান্তি মণ্ডল।

নয়া ফ্যাসিবাদের বড় অস্ত্র হল ধর্ম। কেন্দ্রের বিজেপি ও রাজ্যের তৃণমূল ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করছে। শ্রমজীবী মানুষ যাতে ঐক্যবদ্ধ না হতে পারে সেজন্য ধর্ম, জাতপাতের নামে তৃণমূল ও বিজেপি বিভাজনের রাজনীতি চলছে। তৃণমূল বিজেপি একে অপরের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করছে। তৃণমূল বিজেপির ওপরে ওপরে লোকদেখানো সংঘাত। সিঙ্গুরে নরেন্দ্র মোদি কারখানা স্থাপন করতে নয়, ধর্মের জিগির তুলতে এসেছিল। বিজেপি সরকারের লক্ষ্য  কর্পোরেট হিন্দুত্ব গড়ে তোলা। শ্রমজীবী মানুষের রুটি রুজি বিপন্ন। দেশ ও রাজ্য বাঁচাতে বুথে বুথে সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে লালঝাণ্ডার শক্তিকে মজবুত করতে হবে। কমরেড রবীন সেনের জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে আদর্শের প্রতি অবিচল থেকেই তৃণমূল ও বিজেপিকে প্রতিহত করতে হবে। স্বাধীনতা সংগ্রামী, কমিউনিস্ট নেতা কমরেড রবীন সেনের প্রয়াণ দিবসে সোমবার রানিগঞ্জের বল্লভপুরে স্মরণ সমাবেশে একথা বলেন প্রবীণ পার্টিনেতা অমল হালদার। সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিপিআই(এম) পশ্চিম বর্ধমান জেলা সম্পাদক গৌরাঙ্গ চ্যাটার্জি, সিপিআই(এম) নেতা পার্থ মুখার্জি। উপস্থিত ছিলেন সিপিআই(এম) রাজ্য কমিটির সদস্য জাহানারা খান সহ নেতৃবৃন্দ। সমাবেশের শুরুতেই কমরেড রবীন সেনের পূর্ণাবয়ব মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে মাল্যদান করা হয়। এদিন নেতৃবৃন্দ প্রয়াত কমরেড রবীন সেনের আড়ম্বরহীন জীবনযাত্রা, প্রজ্ঞা ও সাংগঠনিক দক্ষতা তুলে ধরে বলেন, ব্রিটিশ শাসন থেকে দেশ মুক্তির সংগ্রামে তিনি নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন। তিনি ছিলেন সমাজ বদলের লড়াইয়ে এক আপোষহীন যোদ্ধা। তাঁর পদচিহ্ন আগামী প্রজন্মের কাছে আলোকবর্তিকা।

এদিন পেপার মিল মজদুর ইউনিয়ন অফিস প্রাঙ্গণে রবীন সেনের স্মরণ সমাবেশে অমল হালদার বলেন, "প্রতিদিন শ্রমজীবী মানুষের কাজের সঙ্কট বাড়ছে। গ্রামে অভাব বাড়ছে। মানুষের  শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অন্ন, বাসস্থান অধিকার সুরক্ষিত নয়। মহিলাদের নিরাপত্তা নেই। পুলিশ প্রশাসন নির্বিকার। পশ্চিম বর্ধমান জেলার শিল্পাঞ্চল শুকিয়ে যাচ্ছে। কয়লাখনি বেসরকারি মালিকের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। গ্রামে একশো দিনের কাজ বন্ধ। সর্বত্রই কাজের হাহাকার। আদিবাসীদের জল-জমি-জঙ্গল লুট হচ্ছে। সরকারের কোনও হেলদোল নেই। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধর্মঘট সফল করতে হবে। এই ধর্মঘট শ্রমজীবীদের লড়াইয়ের শক্তি যোগাবে। গরিবের অধিকারের জন্য, জমির জন্য লড়াই করেছিল লালঝাণ্ডা। মিডিয়া গরিব ও শ্রমজীবী মানুষের কথা বলে না। বামপন্থী কর্মীদেরই কারখানায়, বস্তিতে, গ্রামে, পাড়ায়, মহল্লায় পৌঁছাতে হবে।"
হালদার বলেন, "এসআইআর নিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। আসামে ১৯ লক্ষ মানুষের নাগরিকত্ব চলে গেল তার মধ্যে ১২ লক্ষ হিন্দু। তৃণমূল-বিজেপির সেটিং নিয়ে সাধারণ মানুষ চর্চা করছেন। তৃণমূল-বিজেপির প্রতি মানুষের ঘৃণা বাড়ছে। সর্বত্র আওয়াজ উঠছে- বামফ্রন্ট সরকারকে ফিরিয়ে আনো।"


 

Comments :0

Login to leave a comment