CPIM Protest Rally

বাধা উপেক্ষা করেই লাল ঝান্ডার জনস্রোত বর্ধমানে

রাজ্য জেলা

বুধবার বর্ধমান শহরের মানুষ দেখলো লাল ঝান্ডার স্রোত। পুলিশ, প্রশাসনের বাঁধা ডিঙিয়ে জনজোয়ার  ভাসিয়েছে রাস্তার দু-কুল। শ্রমিক, কৃষক, খেতমজুর, বস্তিবাসীদের এই মিলিত যৌথ মিছিলের গর্জন নজর কাড়ে আমজনতার। এই মিছিলকে খাটো করে দেখানোর জন্য শাসকদলের দলদাস পুলিশ, প্রশাসনের ষড়যন্ত্র সামনে এসেছে। পূর্ব ঘোষিত বামপন্থীদের মিছিল, সমাবেশ করার অনুমতি নেওয়া সত্বেও  শাসকদলের দলদাস প্রশাসন তৃণমূলকেও এদিন কর্মসূচি করার অনুমতি দিয়েছে। তৃণমূলের বাস গুলি শহরে ঢুকিয়ে রাস্তা অবরোধ করার সুযোগ করে দেয় পুলিশ। যাতে বামপন্থীদের পরিবহন গুলি আটকে যায়, মানুষ মিছিলে যোগ না দিতে পারে। অন্যদিকে লাল ঝান্ডার বাস, ছোটগাড়ি গুলি আটকে দেওয়া হয়  পরিকল্পিতভাবে। শুধু তাই নয় জেলা প্রশাসনের একপেশে নীতি স্পষ্ট হয়েছে জেলার মূল কেন্দ্র কার্জন গেটের সামনে গত ২০দিন ধরে মাচা বেঁধে রেখেছে তৃণমূল। পুলিশ ও প্রশাসন সম্পূর্ণ নীরব। দলদাস পুলিশ ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে এদিন ক্ষোভ উগরে দেন বামপন্থী নেতৃত্ব। এর বিরুদ্ধে উত্তাল হয়ে ওঠে লাল ঝান্ডার মিছিল। সংযুক্ত কিষান মোর্চা ও বামপন্থী গণসংগঠনগুলির আহ্বানে এদিন বর্ধমান স্টেশন থেকে  বিশাল মিছিল শুরু হয়ে বাদামতলা মোড়ের সামনে এলে পুলিশ মিছিলের পথ  আটকায়। প্রতিবাদী মানুষ জিটি রোডের উপর বসে পড়েন। সেখানেই গাড়িতে মঞ্চ বেধে সভা শুরু হয়। বক্তব্য রাখেন কৃষক নেতা অমল হালদার, সুকুল সিকদার,  নজরুল ইসলাম, নন্দলাল পন্ডিত, মিজানুর রহমান প্রমুখ।  
অমল হালদার এদিন বলেছেন, এসআইআর নিয়ে সংখ্যালঘু মানুষ নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে। তাই তৃণমূল ভয় পেয়ে গোটা রাজ্যে মেকি আন্দোলন শুরু করেছে। বিজেপি মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায়ছে। কোন শাসকই জনগনের দুঃখ, যন্ত্রনার কথা না শুনে পেটের, কাজের লড়াইকে চাপা দিতে জাতপাত, ধর্ম, এসআইআর সামনে এনে মানুষকে ভুল বুজিয়ে রাখতে চায়ছে। কৃষক আলু, ধানের দাম পাচ্ছেন না অথচ উৎপাদন খরচ কয়েকগুন বেড়েছে। রাজ্য ও কেন্দ্র মিথ্যার ঢাক বাজিয়ে চলেছে কৃষকের নাকি দুগুন, তিনগুন আয় বেড়েছে। শ্রমকোড কালা কানুন এনেছে মোদী সরকার। শ্রমজীবী মানুষের অর্জিত অধিকার কেড়ে নিতে চায়ছে। এর বিরুদ্ধে আমরা লড়ছি। অন্যদিকে মেয়েদের উপর আক্রমণ বেড়েছে, নির্যাতিত মহিলাদের পাশে সরকার থাকছে না। তার বিরুদ্ধেও আমড়া লড়ছি। প্রতিযোগিতামূলক সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মীয় মেরুকরণ ও মিডিয়ার ধারাবাহিক বাইনারি প্রচার রাজনৈতিক মেরুকরণ এই কৌশলেই চলছে রাজ্যে শাসক তৃণমূল কংগ্রেস ও প্রধান বিরোধী দল বিজেপি। আতঙ্ক ও মেরুকরণে সম্প্রতি বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে এসআইআর। বিজেপির অঙ্গুলি হেলনে নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপ দেশের সংসদীয় গণতন্ত্রকে বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
সুকুল সিকদার বলেছেন, এক পেশে প্রশাসন সময় দিয়েও ভয়ে পালিয়ে গেছে। আমরা বলেছি ১০০ দিনের কাজ না শুরু করলে গ্রামের গরিব মানুষের আর্থিক অবস্থা আরো খারাপ হয়ে যাবে। এসআইআর নিয়ে হয়রানি বন্ধ করতে হবে। বৈধ ভোটারদের নাম বাদ কিছুতেই দেবো না আমরা। তিনি বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের ১৫ বছরের জামানায় দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক ও স্বাভাবিক চেহারা নিয়ে সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে পড়েছে। বালি, মাটি, কয়লা, গরু, থেকে শুরু করে চাকরি বিক্রির ব্যবসা-অযোগ্যরা স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, পৌরসভার সর্বক্ষেত্রে কাজ করছে আর যোগ্যরা চাকরি হারিয়ে রাস্তায় সরকারি স্কুল বন্ধ হচ্ছে আর ছাতার মতো গজিয়ে উঠছে বেসরকারি স্কুল। স্কুল ছুট এর সংখ্যা বাড়ছে।
এদিন ৭জনের একটি প্রতিনিধি দল জেলাপরিষদে গিয়ে ৮দফা দাবি পেশ করেন। এছাড়াও নজরুল ইসলাম, তারক মাজি, জহর আলি, অমর দত্ত, করুনা মুখর্জিকে নিয়ে সভাপতিমন্ডলী গঠিত হয়, তাঁরা এদিন সভা পরিচালনা করেন।

Comments :0

Login to leave a comment