NEET and Medical Education

খাদের কিনারায় চিকিৎসা শিক্ষা

সম্পাদকীয় বিভাগ

ডাঃ জি মানস 
বারবার-আবার-আরও একবার। এবারে ২৩ লক্ষ ছেলেমেয়ের কৃচ্ছ্রসাধন, প্রস্তুতি, স্বপ্নকে চুরমার করে ফের প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে কলঙ্কিত হলো নিট-ইউজি। একটা-দুটো নয়। অভিযোগ ১৮০ টি প্রশ্নের মধ্যে ১৩৫ টি ফাঁস হয়েছে। অভিযোগ ৭২০ নম্বরের পরীক্ষায় ৬০০ নম্বরের প্রশ্ন ঘুরছিল বাজারে। ডাক্তারি শিক্ষায় চূড়ান্ত উদ্বেগ অস্থিরতা তৈরি করে শেষে বাতিল গোটা পরীক্ষা। ফলত চিকিৎসা শিক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতাই আজ গভীর সঙ্কটে। চূড়ান্ত উদ্বেগ, অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপে ইতিমধ্যেই কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রীর মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ব্যর্থতায় হয়তো আরও দেখতে হবে এরকম অসময়ে ঝরে যাওয়া। এই সমস্ত হৃদয় বিদারক মৃত্যু, এই বিপন্নতা, এই উদ্বেগ, এই অনিশ্চয়তার দায় কি এড়াতে পারে এনটিএ ও কেন্দ্রীয় সরকার?
ব্যর্থতা নাকি পরিকল্পিত দুর্নীতি 
২০১৭ সালে ভারতের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্বশাসিত সংস্থা হিসাবে কাজ শুরু করে
ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি— সংক্ষেপে এনটিএ। যে সংস্থা মেডিক্যাল, আইআইটি-জেইই, সিভিল সার্ভিস সমেত বিভিন্ন জাতীয় স্তরের প্রবেশিকা ও নিয়োগ পরীক্ষা স্বচ্ছ ও মানসম্মতভাবে পরিচালনা করার দায়িত্বে। কিন্তু বাস্তবে কী দেখা যাচ্ছে? জিপিএস ট্র্যাকিং, এআই-সক্ষম সিসিটিভি, বায়োমেট্রিক, ৫জি নেটওয়ার্ক জ্যামারের মতো প্রযুক্তির কথা বলে দায় এড়ানোর চেষ্টা হলেও, আজ এই এজেন্সির স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা গুরুতর প্রশ্নের মুখে। এই সংস্থার গায়ে এখন এতটাই কাদা আর কালি লেগে আছে যে, ওয়াশিং মেশিনে ভ্যানিশ ঢেলেও তার দাগ মুছে ফেলা যাবে বলে মনে হয় না। ২০২৪ সালেও নিট-ইউজি তে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। সঙ্গে নানা বিতর্ক। দেখা যায় পরীক্ষার সর্বোচ্চ নম্বরের থেকেও কেউ কেউ বেশি পেয়ে গেছে। ওই বছরই ইউজিসি-নেট বাতিল হয়ে যায় প্রশ্ন ফাঁসের কারণে। এরপরেও এনটিএ প্রধানের কোনও ফৌজদারি শাস্তি হয়েছে— এমন নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশ্যে নেই। উল্টোদিকে, এখন তিনি ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান সচিব এবং বিদ্যুৎ পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসাবে বহাল তবিয়তে আছেন বলেই জানা যাচ্ছে। আর  তৎকালীন কেন্দ্রীয় উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী এখনো একই চেয়ারে। অন্যদিকে, ২০২৬-এ প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় অভিযুক্ত একজন আদালতে দাবি করেছেন আরও অনেক প্রভাবশালী যুক্ত আছেন এবং তাঁদের আড়াল করা হচ্ছে বলে। অভিযুক্তের অভিযোগ হলেও বিষয়টি কি হালকাভাবে নেওয়া যায়?
২০২৪ সালের প্রশ্ন ফাঁসের এপিসেন্টার ছিল পাটনা ও গুজরাটের গোধরা। আমরা জেনেছিলাম কয়লা মাফিয়া, বালি মাফিয়া, জমি মাফিয়ার মতো "পরীক্ষা মাফিয়া" এবং "সলভার গ্যাং" এর কথা। এবারের এপিসেন্টার রাজস্থানের সীকর। এবারে জানা গেল "গেস পেপারের" রহস্য ও "পেপার লিক মাফিয়া"র কথা। 
অভিযোগ ফাঁস হওয়া প্রশ্নের দর উঠেছিল ১৫ থেকে ৩০ লাখ। যে যত আগে চাইবে তত বেশি মূল্য ধরে দিতে হবে। "ডাইনামিক ফেয়ার" এর নিয়মে। অনভিপ্রেত হলেও সত্যি, তাতেও নাকি পিছপা হননি বহু অভিভাবক। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়—এত বড় চক্র কি শুধুই কিছু বিচ্ছিন্ন ব্যক্তিকে নিয়ে সম্ভব? নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও প্রভাবশালী কোনও নেটওয়ার্ক? তদন্তে কিছু চুনোপুঁটি ধরা পড়লেও, গোটা দুর্নীতির মূলচক্র ধরা পড়বে—এমন আশা খুব কম মানুষেরই আছে। দেশজুড়ে বিস্তৃত পরীক্ষা দুর্নীতির এই মাকড়সার জাল সহজে ছিন্ন হবে বলেও মনে হয় না।
বাজারের খেলা:
চিকিৎসা শিক্ষা ক্রমশ কর্পোরেট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে। এই মুহূর্তে দেশে মেডিক্যাল কলেজের সংখ্যা ৮০০-রও বেশি। যার একটা বড় অংশ বেসরকারি। এমবিবিএস সিটের মোট সংখ্যা ১ লাখ ৩০ হাজারের আশেপাশে। তারমধ্যে ৬২ হাজার বেসরকারি। ১০ হাজারের উপর ডাক্তারি পড়ার সিট আছে অন্তত ৪টি রাজ্যে। এর পরেও আরও মেডিক্যাল কলেজ খোলার, চালু কলেজে সিট বাড়ানোর উদ্যোগ চলছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—পরিকাঠামো, শিক্ষক, হাসপাতাল, ক্লিনিক্যাল ট্রেনিং—সব কি একই হারে উন্নত হচ্ছে? ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশনের একাধিক নীতিগত পরিবর্তনের ফলে ন্যূনতম পরিকাঠামো ও শিক্ষকের মানদণ্ড শিথিল করার অভিযোগ উঠছে। সমালোচকদের বক্তব্য, এর ফলে বেসরকারি কলেজ খোলার রাস্তা আরও সহজ হয়েছে। পরিস্থিতি এমন যে-ফাঁকা মাঠে দু’-চারটে ঘর বাড়ি বানিয়ে, সরকারি হাসপাতাল ভাড়া নিয়ে যে কোনও ব্যক্তির পক্ষে মেডিক্যাল কলেজ খুলে ফেলা সম্ভব। বাস্তবে হচ্ছেও তাই। অন্যদিকে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের বিপুল ফি কার্যত চিকিৎসা শিক্ষাকে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে ঠেলে দিচ্ছে।
একইভাবে স্নাতকোত্তর (এমডি, এমএস, ডিএনবি) সিট প্রায় ৬১ হাজার, যার মধ্যে প্রায় ২৩ হাজার বেসরকারি কলেজের— যেগুলো কার্যত আইনি পথেই নিলামের মতো বিক্রি হয়। মেধা তালিকায় যত নিচে যার অবস্থান, তাকে তত বেশি দামে সেই সিট কিনতে হয়। এই কেনাবেচা মসৃণ করতেই নিট-ইউজি তে ১৩ লাখের মেধা তালিকা তৈরি হয়। আর এমডি-এমএস পড়ার "কাট অফ মার্কস" কমতে কমতে পৌঁছে যায় শূন্য পার্সেন্টাইলে। অর্থাৎ পরীক্ষা দিলে, সবচেয়ে কম নাম্বার পেলেও একজন এমডি, এমএস পড়তে পারবে। পালটা যুক্তি আছে— কিন্তু আসল রহস্য বোধহয় অন্য জায়গায়—অবিক্রিত সিটের জন্য ক্রেতা পাওয়া তুলনামূলকভাবে সহজ হয়।
বেসরকারি কলেজে এমবিবিএস পড়ার খরচ কোটি টাকার কাছাকাছি । স্নাতকোত্তর এমডি-এমএস শিক্ষায় সেই অঙ্ক কোনও কোনও ক্ষেত্রে ৩ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। খবরে প্রকাশ রাজস্থানে রেডিওলজির সিট সম্প্রতি নাকি ১১ কোটিতে বিক্রি হয়েছে। বেসরকারি ৬২ হাজার এমবিবিএস ও ২৩ হাজার এমডি-এমএস সিট বিক্রি হলে, কত কোটি টাকার ব্যবসা হতে পারে, সেটা ভাবলে চমকে উঠতে হবে বৈকি। তথ্য বলছে এই মুহূর্তে আমাদের দেশের চিকিৎসা শিক্ষার "মার্কেট সাইজ" ৯০ হাজার কোটি টাকা। ফলে প্রশ্ন উঠছে—চিকিৎসা কি মেধাভিত্তিক পেশা থাকবে, নাকি সম্পূর্ণ অর্থনির্ভর হয়ে পড়বে?
দানবীয় কোচিং ইন্ডাস্ট্রি:
ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কোচিং মার্কেট, কারণ এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা খুব বেশি এবং চাকরির জন্য প্রতিযোগিতা তীব্র। নিট-কেন্দ্রিক কোচিং শিল্প এখন হাজার হাজার কোটি টাকার বাজার। সম্পূর্ণ তথ্য না পাওয়া গেলেও— এই মুহূর্তে গোটা দেশে ছোট বড় নিট কোচিং সেন্টারের সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার। যার মধ্যে হাবে পরিণত হওয়া "রাজস্থানের কোটা" সমেত আবাসিক সেন্টার ৩ হাজারের আশপাশে। এই সমস্ত সেন্টারের মিলিত ব্যবসা বর্তমানে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা। একটিমাত্র সর্বভারতীয় পরীক্ষার উপর গোটা ভবিষ্যৎ নির্ভর করায় ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের উপর তৈরি হয়েছে ভয়াবহ মানসিক ও আর্থিক চাপ। প্রশ্ন উঠছে— একটি পরীক্ষাকেন্দ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থা কি সত্যিই স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য যোগ্য চিকিৎসক তৈরি করতে পারে? নাকি এটি শুধুই কোচিং ব্যবসা, র্যা ঙ্ক, প্যাকেজ ও মুনাফার কারখানায় পরিণত হয়েছে? পালটে যাওয়া যুগে "ডেস্টিনেশন ম্যারেজের" মতো তাই এখন শোনা যায় ডেস্টিনেশন কোচিং সেন্টারের কথা। লাখ লাখ টাকায় প্রশ্ন বিক্রির কথা, বারবার প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার কথা। "সলভার গ্যাং" স্তর পেরিয়ে  "গেস পেপার" যুগে পৌঁছে যাওয়ার কথা। নিট পরীক্ষায় ফিজিক্স, কেমিস্ট্রিতে শূন্য পেয়েও ডাক্তারি পড়ার কথা।
যে পথে বদলে যাচ্ছে মেডিক্যাল শিক্ষা:
১৯৩৪ সালে প্রতিষ্ঠিত, নির্বাচিত, স্বশাসিত "মেডিক্যাল কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া"কে,  "ইন্সপেক্টর রাজ" তকমা দিয়ে, সংসদে সংখ্যার জোরে ইতিহাসের পাতায় ঢুকিয়ে, ২০২০ সালে মনোনীত ব্যক্তিদের নিয়ে "ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন" গঠনের উদ্যেশ্য ক্রমশ উন্মোচিত হচ্ছে। একদিকে পরিকাঠামো না থাকলেও, কার্যকর পরিদর্শন ছাড়াই মুড়ি মুড়কির মতো পাড়ায় পাড়ায় বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ খোলার অনুমতি। অন্যদিকে কর্পোরেট কোচিং সেন্টারের লুট। ডাক্তারিতে সুনিশ্চিত ভর্তির প্রতিশ্রুতি দেওয়া বিজ্ঞাপনে চেয়ে যাচ্ছে প্রিন্ট মিডিয়া, ইলেকট্রনিক মিডিয়া। তাঁরা বুক বাজিয়ে বলছে আগাম লাগবে না। ভর্তি হওয়ার পর দিলেই হবে। পেটে আগুন নিয়ে পড়তে আসা ছেলেমেয়ের সংখ্যা ক্রমশ কমছে। ডাক্তারি শিক্ষা কার্যত এখন অর্থবানদের জন্য সংরক্ষিত হয়ে গেছে।
বিপদ শুধু মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের নয়— সমগ্র সমাজের ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যের। চিকিৎসা শিক্ষা যদি মেধার বদলে টাকার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তাহলে ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যসেবা কতটা নিরাপদ থাকবে? প্রশ্ন জোরালো হচ্ছে  কি চাইছে সরকার? ভালো চিকিৎসক তৈরি করা? রুগী-চিকিৎসক সম্পর্কের উন্নতি? মডার্ন মেডিসিনের বিপুল অগ্রগতির সঙ্গে তাল রাখা? সর্বজনীন স্বাস্থ্য? ভারতের রোগ বৈচিত্রের কথা মাথায় রেখে জনস্বাস্থ্য শক্তিশালী করা? নাকি স্বাস্থ্য ব্যবসায়ীদের মুনাফা? সব কিছুর উত্তর লুকিয়ে আছে পুরো ব্যবস্থার কেন্দ্রীকরণ ও বাণিজ্যিকীকরণের মধ্যে। 
এবং আমাদের রাজ্য:
মেডিক্যাল শিক্ষায় দুর্নীতির অন্য আর একটা দিক জাল সার্টিফিকেট দিয়ে সংরক্ষিত সিটে ভর্তি হওয়া। বর্তমান নিয়মে এসসি, এসটি ছাড়াও ওবিসি, পিডব্লিউডি ও ইডব্লিউএস ক্যান্ডিডেটদের জন্যে ডাক্তারি পড়ার সিট সংরক্ষিত আছে। আমাদের রাজ্যে পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে সংরক্ষিত আসনে জাল শংসাপত্র দিয়ে ভর্তি হওয়া নিয়ে ব্যাপক হইচই হয়েছিল এবং এই জাল শংসাপত্রকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগও উঠে— যা নিয়ে একাধিক মামলা আদালতে বিচারাধীন। এছাড়াও আছে মেডিক্যালে ভর্তির কাউন্সেলিংয়ে "মপ আপ রাউন্ড" ও "স্ট্রে-ভাকেনসি" কে কেন্দ্র করে নানা অস্বচ্ছতা ও দুর্নীতির খেলা।
"বার বার প্রশ্ন ফাঁস,পরীক্ষায় অনিয়ম ও দুর্নীতি কোনও আকস্মিক ঘটনা হতে পারে না। বরঞ্চ মুনাফার স্বার্থে সংগঠিত অপরাধ বলেই মনে হয়। বর্তমানে টাকা থাকলেই বেসরকারি কলেজে ডাক্তারি পড়া যাচ্ছে।  প্রশ্ন ফাঁস করতে পারলে সরকারি সিটগুলোর দখলও নিয়ে নেওয়া যায় ব্যবসার জন্যে। বিপদ শুধু পেটে আগুন নিয়ে, নিজের মেধায় বিশ্বাস রেখে ডাক্তারি পড়তে চাওয়া ছাত্র-ছাত্রীদের নয়— গোটা সমাজের ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্য নিশ্চিতভাবে খাদের কিনারায়। এখনই ব্যবস্থা না নিলে এই সঙ্কট আরও গভীর হবে।
তাই দরকার সরকারের দ্রুত ,সক্রিয় ও সংবেদনশীল হস্তক্ষেপ। সরকারের রাজধর্ম পালন দেখতে চায় ভারতবাসী। প্রতিবাদী আন্দোলন পুলিশ দিয়ে, দুষ্কৃতী লেলিয়ে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে মানুষের ক্ষোভ দাবানলে পরিণত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।
দাবি খুব স্পষ্ট, প্রথমত ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে দ্রুত পুনঃপরীক্ষা গ্রহণ এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে স্বচ্ছভাবে ফলাফল প্রকাশ নিশ্চিত করতে হবে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো গুরুতর দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত সকল ব্যক্তি, চক্র ও সংস্থার বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। নিট সহ সমস্ত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ, নির্ভরযোগ্য ও প্রযুক্তিনির্ভর পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলে ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে হবে। একই সঙ্গে দাবি বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁস, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির অভিযোগে কলঙ্কিত এনটিএ’র জবাবদিহি নিশ্চিত করে, প্রয়োজনে এই অযোগ্য সংস্থাকে অবিলম্বে বাতিল করে নতুন ও বিশ্বাসযোগ্য পরীক্ষা পরিচালনা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
Highlights
বিপদ শুধু মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের নয়, ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যেরও। চিকিৎসা শিক্ষা যদি মেধার বদলে টাকার উপর নির্ভরশীল হয়, তাহলে  স্বাস্থ্যসেবা কতটা নিরাপদ থাকবে? কি চাইছে সরকার, ভালো চিকিৎসক তৈরি করা, মডার্ন মেডিসিনের বিপুল অগ্রগতির সঙ্গে তাল রাখা? সর্বজনীন স্বাস্থ্য?  রোগ বৈচিত্রের কথা মাথায় রেখে জনস্বাস্থ্য শক্তিশালী করা? নাকি স্বাস্থ্য ব্যবসায়ীদের মুনাফা?

Comments :0

Login to leave a comment