EC Form-6 Delhi SIR

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণকেও মান্যতা দিচ্ছে না কমিশন, সওয়াল দিল্লিি এসআইআর-এ

জাতীয়

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণকে অমান্য করে ফর্ম-৬ সংক্রান্ত নতুন ব্যাখ্যা দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। দিল্লির এসআইআর সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টেই শুনানির সময় উঠেছে এই অভিযোগ। 
গত ৩ নভেম্বর দিল্লি এসআইআর সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে নির্বাচন কমিশন। তাতে ফের বলা হয় যে এসআইআর তালিকায় নাম বাদ পড়লে নতুন করে নাম তোলার জন্য আবেদন করতে হবে ফর্ম-৬’র মাধ্যমেই।
এর আগে পশ্চিমবঙ্গ সহ বিভিন্ন রাজ্যে  একই নিয়ম চালু করেছিল নির্বাচন কমিশন। ঘটনা হলো, প্রথম বার ভোট দেওয়ার জন্য আবেদন জানাতে হয় ফর্ম-’র মাধ্যমে। ফর্মের বয়ানে ‘প্রথমবারের ভোটার’ বলে ঘোষণাও থাকে। নাম বাদ পড়লে এই ফর্ম ভরে আবেদন জানালে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে শাস্তি হতে পারে। 
গত ২৮ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চেই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আবেদদনকারীরা। বলা হয়, নাম সংশোধন, ঠিকানা পরিবর্তন বা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার ক্ষেত্রে ৮ নম্বর ফর্মে আবেদন করতে হয়। এক্ষেত্রেও সেই ফর্মেই আবেদন করতে বলা উচিত।
বিচারপতিরাও মৌখিক পর্যবেক্ষণে নাম বাদ পড়ার ক্ষেত্রে ৬ নম্বর ফর্মের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বেঞ্চে অপর দুই বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং ভি মোহনা। কমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেয়।
কিন্তু এর পরেও ৩ নভেম্বর ফের ৬ নম্বর ফর্ম ভরতে বলে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। 
গত বুধবার, ৪ নভেম্বর, শীর্ষ আদালতে সমাজকর্মী অঞ্জলি ভরদ্বাজের পক্ষে আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ কমিশনের নতুন বিজ্ঞপ্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। 
এদিকে কমিশনের বক্তব্য, আগের ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও এসআিআর-এ নাম বাদ পড়লে ফর্ম-৬ আবেদন শাস্তিযোগ্য হবে না। জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৩১ নম্বর ধারায় মিথ্যা ঘোষণার দায়ে মামলা করা হবে না। কিন্তু এই বক্তব্যে আইনি নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। 
প্রধান বিচারপতি বলেন যে উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। বিষয়টি নিয়ে শুনানি চলছে।  
এর আগে, ২৮ অক্টোবরের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট মৌখিক পর্যবেক্ষণে যে কাউকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি বলে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না। দিল্লির খসড়া তালিকায় যে ৪৭ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে ‘স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত’ দেখিয়ে। বস্তুত প্রতি খসড়া তালিকায় বাদ নামের ৬৬ শতাংশকেই এই সারণিতে রেখেছে কমিশন। এতজন স্থায়ীভাবে স্থনান্তরিত কিভাবে হলো, গোড়া থেকেই তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিভিন্ন অংশ। সুপ্রিম কোর্ট এই ৪৭ লক্ষের নির্দিষ্ট তথ্য নিতে বলে কমিশনকে।

Comments :0

Login to leave a comment