Editorial

বিদেশি মদত তত্ত্বে চিঁড়ে ভিজবে না

সম্পাদকীয় বিভাগ

ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন তথা এসআইআর’কে কেন্দ্র করে মোদী সরকার এবং শাসক দল বিজে‍‌পি’র বিড়ম্বনা বেড়েই চলেছে। এসআইআর যে আসলে সংখ্যালঘু মুসলিম, দলিত, আদিবাসী এবং সম্ভাব্য বিজেপি বিরোধীদের ভোটার তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলার ধুরন্ধর কৌশল মাত্র সেটা এখন জনমানসে স্পষ্ট হয়ে গেছে। বিরোধী দলগুলি এককভাবে এবং সম্মিলিতভাবে লাগাতার প্রচার করে, তথ্য পরিসংখ্যান হাজির করে এবং যুক্তি দিয়ে বিশ্লেষণ করে মানুষকে বোঝাতে সক্ষম হচ্ছেন যে এটা আসলে গোপনে মোদী সরকার বাঁচাও বিশেষ অভিযান। এই অভিযান যেহেতু নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনারকে দিয়ে সম্ভব নয় তাই জ্ঞানেশ কুমারের মতো বিশ্বস্ত ও অনুগত ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তেমনি জ্ঞানেশের মতো অনুগত ও পক্ষপাতদুষ্ট ব্যক্তিকে নিয়োগ করার জন্য আইন বদল করে নিয়োগ কমিটি থেকে প্রধান বিচারপতিকে সরিয়ে মোদী মনোনীত মন্ত্রীকে যুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ ক‍‌মিটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য মোদীদের। ফলে তারা যা ইচ্ছে তাই করার অধিকার নিজেরাই নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছেন।
বিরোধীদের কথা এবং সাধারণ মানুষের কথা দ্রুত এক বিন্দুতে মিলে যাচ্ছে। জ্ঞানেশের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে পাইকারিহারে ভোট চুরি করেই মোদীরা ভোটে জেতার রাস্তা পরিষ্কার করছেন। বহু ক্ষেত্রে দেখা গেছে বিজেপি প্রার্থীর জয়ের ব্যবধান বাদ পড়া ভোটার সংখ্যা থেকে অনেক কম। তেমনি ভোট যন্ত্রে কারচুপি, গণনায় কারচুপি করে কমিশন কার্যত নিজেই বিজেপি-কে জেতানোর ঠিকাদারি নিয়ে নিয়েছে।
এই অবস্থায় জ্ঞানেশ হটানোকেই বিরোধীরা মনে করছেন দেশের গণতন্ত্র এবং ভারতীয়দের ভোটাধিকার রক্ষার প্রথম কর্তব্য। ছেঁটে ফেলা বৈধ ভোটারদের নাম পুনরায় তুলতে হবে। তার জন্যও জ্ঞানেশকে অপসারণ করতে হবে। বিপরীতে মোদী-শাহরা মনে করছেন জ্ঞানেশ রক্ষাই মোদী সরকার রক্ষার অন্যতম শর্ত। তাই জ্ঞানেশকে বাঁচাতে কেন্দ্র ও রাজ্যের ডাবল ইঞ্জিনের সরকার, শাসক দল বিজেপি এবং তাদের অভিভাবক আরএসএস মরিয়া হয়ে ময়দানে নেমে পড়েছে।
ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে বিজেপি-কে জেতার কৌশল এবং গণতন্ত্রের সমাধি রচনার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে আন্দোলন শক্তিশালী হয়ে ওঠায় তাকে ঠেকাতে বিজেপি এবং সরকার নতুন নতুন ভাষ্য হাজির করছে। তার মধ্যে একটি হলো এই আন্দোলনকে ভারতের শত্রু বিদেশি শক্তি মদতপুষ্ট বলে দেগে দেবার চেষ্টা। অন্যটি হলো বাদ যাওয়া ভোটারদের বিদেশি তথা বাংলাদেশি বলে  চালানো। স্বয়ং মোদী-শাহ থেকে শুরু করে সব নেতা-মন্ত্রীরা এখন এই তত্ত্ব খাড়া করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু কোন বিদেশি শক্তি, কীভাবে মদত দিচ্ছে তার কোনও প্রমাণ নেই। যদি তেমন কিছু হতো তবে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তথ্য প্রমাণ থাকত। পাশাপাশি ভোটার তালিকায় বিদেশি নাগরিক আছে তার কোনও তথ্য প্রমাণ সরকার বা নির্বাচন কমিশন হাজির করতে পারেনি। নানা সূত্রে যে তথ্য মিলছে তাতে গুটি কতক নেপালের মানুষের কথা শোনা যাচ্ছে। বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীর প্রমাণ কোথাও মেলেনি। থাকলে মোদীরা তাদের নাম প্রকাশ করুক। সেটা পারবে না। বানানো গল্পের তথ্য প্রমাণ মিলবে কোথাও? তাই বিদেশি মদত বা বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী তত্ত্ব বানিয়ে জ্ঞানেশকে বাঁচানো যাবে না। জ্ঞানেশ না বাঁচলে মোদীও বাঁচবে না।

Comments :0

Login to leave a comment