মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে নতুন করে দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক তৈরি হল। ২০০৬ সালে কেরলের পূর্ত দপ্তরের সচিব থাকাকালীন একটি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের বকেয়া বিল মেটানোর জন্য ২ কোটি টাকা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এই ঘুষের দাবি এবং প্রকল্পের টাকা আটকে রাখার কারণে মালয়েশিয়ার এক ইঞ্জিনিয়ারের আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটেছিল বলে অভিযোগ। নতুন করে ওঠা এই অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ভিজিল্যান্স অ্যান্ড অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরোকে (VACB) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন কেরালার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ চেন্নিথালা।
দেশজুড়ে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) নিয়ে কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলির প্রতিবাদের মধ্যেই জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে এই অভিযোগ সামনে এসেছে। যদিও তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখনও প্রমাণিত হয়নি। এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার।
কোল্লাম জেলার প্রাক্তন ঠিকাদার সাজন ভিজিল্যান্স অধিকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তার দাবি, কেরল স্টেট ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্টের অধীনে সম্পন্ন হওয়া সড়ক নির্মাণের কাজের বিল মেটানোর জন্য জ্ঞানেশ কুমার ২ কোটি টাকা ঘুষ চেয়েছিলেন। অভিযোগ, ইঞ্জিনিয়ারদের অনুমোদন পাওয়া প্রায় ১৭ কোটি টাকার বিলের চেক ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রাখা হয়েছিল। এর ফলে প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা মালয়েশিয়ার সংস্থা পাটি-বেল তাদের ঠিকাদার এবং কর্মীরা আর্থিক সমস্যায় পড়েন।
সাজনের অভিযোগ অনুযায়ী, ওই প্রকল্পের ইঞ্জিনিয়ার মালয়েশিয়ার নাগরিক লি সি বিন তাকে জানিয়েছিলেন, ঘুষ না দিলে জ্ঞানেশ কুমার চেক ছাড়তে রাজি হচ্ছেন না। সংবাদসংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাজন তার অভিযোগে জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার জন্য কিছু টাকা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু ওই সংস্থার কর্তৃপক্ষ ঘুষ দিয়ে চেক নেওয়ার অনুমতি দেয়নি বলে তাকে জানানো হয়েছিল।
অভিযোগ, বকেয়া টাকা মেটানোর জন্য লি বেঙ্গালুরুতে সংস্থার অন্য একটি প্রকল্পের অর্থ ব্যবহার করেছিলেন। কিন্তু তারপরেও আর্থিক সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হয়নি। সাজনের দাবি, অনুমোদিত বিল আটকে রাখা এবং ঘুষ চাওয়ার ঘটনার জেরে তৈরি হওয়া আর্থিক চাপের কারণেই ২০০৬ সালে আত্মহত্যা করেন লি।
এমনকী, লি-র আত্মহত্যার আগে লেখা চিঠিতেও জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকার উল্লেখ ছিল বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী। মালয়েশিয়ায় লি-র পরিবারের সদস্যরাও সংস্থার কর্মীদের এই বিষয়ে জানিয়েছিলেন বলে তার অভিযোগ। তবে এই দাবিগুলির কোনওটিই এখনও প্রমাণিত হয়নি।
সাজনের আরও অভিযোগ, ২০০৬ সালে লি-র মৃত্যুর পর যে ভিজিল্যান্স তদন্ত হয়েছিল, তাতে তাকে বা ঘুষ চাওয়ার বিষয়ে সরাসরি জানতেন এমন অন্য ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। প্রয়োজন হলে লি-র পরিবারের সদস্য, সংস্থার প্রাক্তন কর্মী এবং অন্যান্য প্রত্যক্ষদর্শীদের সামনে হাজির করে প্রমাণ দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
নতুন অভিযোগ পাওয়ার পর ভিজিল্যান্স দপ্তর প্রাথমিক অনুসন্ধান চালিয়ে মামলা দায়েরের জন্য স্বরাষ্ট্র দপ্তরের অনুমতি চেয়েছে। আইনি পরামর্শ নেওয়ার পরেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বলে সরকারি সূত্রের খবর।
উল্লেখ্য, কেরল স্টেট ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্টের অধীনে এমসি রোডের উন্নয়নকাজে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে আগেই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন চেন্নিথালা। গত ৪ অক্টোবর কেরল প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির নেতা মালায়িনকীঝু ভেনুগোপালের অভিযোগের ভিত্তিতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ওই প্রকল্পের কাজ করেছিল পাটি-বেল কনসোর্টিয়াম। সেই সময় কেরলের পূর্ত দপ্তরের সচিব ছিলেন জ্ঞানেশ কুমার।
২০০৬ সালে লি-র মৃত্যুর পর এই অভিযোগ নিয়ে ভিজিল্যান্স তদন্ত শুরু হলেও পরে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আর কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এবার নতুন করে তদন্তের ক্ষেত্রে আগের অনুসন্ধানে কোনও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা সাক্ষ্য উপেক্ষা করা হয়েছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হতে পারে।
সব মিলিয়ে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ওঠা পুরনো দুর্নীতির অভিযোগ নতুন করে তদন্তের আওতায় আসতে চলেছে। ভিজিল্যান্স বিভাগ নতুন অভিযোগের পাশাপাশি আগের তদন্তের গতিপ্রকৃতিও খতিয়ে দেখবে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলিকে প্রমাণিত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পক্ষ থেকেও এখনও কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
Gyanesh Kumar
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ, তদন্তের নির্দেশ কেরালা সরকারের
×
Comments :0