সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত বিচারপতিদের আধার কার্ডের মাধ্যমে তথ্য নিশ্চিতকরণের শর্ত দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর ট্রাইবুনালের বিচারপতিরা কড়া আপত্তি জানিয়ে বন্ধ রেখেছিলেন কাজ। এবার প্যান এবং সরকারি শংসাপত্র দিয়ে ডিজিটাল সই দেওয়ার শর্ত দিল নির্বাচন কমিশন।
আবেদনের নিষ্পত্তি করার পরও ভোটার তালিকায় যুক্ত করার জন্য নাম নির্বাচন কমিশনের পোর্টালে তোলার সুযোগ ছিল না এসআইআর ট্রাইবুনালের বিচারপতিদের। এখানেও বিষয় হয়েছে কমিশনের তথ্য প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনায় নিয়ন্ত্রণ।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর এই বিচারপতিরা চিঠি দেন পশ্চিমবঙ্গে কমিশনের অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক বা এসিইও-কে। ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-র একটি প্রতিবেদনে জানানো হয় যে বিচারপতিরা আধার নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে কমিশনের ওয়েবসাইটে লগ-ইন করার শর্ত মানতে নারাজ। এই শর্ত হটানোর জন্য বলেছেন তাঁরা।
গত ২১ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনের তথ্য প্রযুক্তি বিভাগের বিতর্কিত ডিরেক্টর জেনারেল সীমা খান্না পোর্টাল সংক্রান্ত ‘প্রেজেন্টেশন’ পেশ করেন। সেখানেই আধার কার্ডে নথিভুক্ত তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে পোর্টালে নথিভুক্তির শর্ত দেওয়া হয় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নিযুক্ত এই বিচারপতিদের।
এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে গোটা দেশেই প্রবল প্রশ্নের মুখে নির্বাচন কমিশন। প্রশ্নের মুখে কেন্দ্রের সরকারে আসীন বিজেপি। বিনা ব্যাখ্যায় নাম বাদ দেওয়ার জন্য একের পর এক বেনিয়মের তথ্য বেরিয়ে পড়ছে প্রতিদিন। পশ্চিমবঙ্গেও ১৬ লক্ষ নাম বাদ দেওয়ার জন্য সরাসরি কমিশনের তরফে ফর্ম-৭ আবেদন নিয়ে প্রশ্ন জোরালো। চাপের মুখে দায় নিতে অস্বীকার করছে কমিশনের সদর দপ্তর দিল্লির নির্বাচন সদন। সুপ্রিম কোর্টে হলফনামায় রাজ্যের সিইও দপ্তরের ওপর চাপানো হয় দায়। রাজ্যের সিইও দপ্তর আবার সেই দায় অস্বীকার করছে।
পশ্চিমবঙ্গে যে ১৬ লক্ষ নাম বাদের আবেদন কমিশন জমা করেছিল তার মধ্যে মাত্র ৮১ হাজার ২৪২টি আবেদনের শুনানি শেষ হয়েছে। শতাংশের বিচারে যা মাত্র ৫.০৫ শতাংশ। রাজ্যে যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতি বা লজিক্যাল ডিসক্রেপান্সি-র নামে ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জনের নাম বাদ দেওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্ট এ সময়েও বিচারপতিদের নিয়োগ করে আবেদন বিবেচনার জন্য। ৩২.৭৭ লক্ষ নাম ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়। বাদ যায় ২৭.২৮ লক্ষ নাম।
এসআইআর সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল জবাবে জানা যায় যে কেবল নাম তোলার জন্য আবেদন জমা পড়েনি ট্রাইবুনালে। নির্বাচন কমিশন নিজে নাম বাদ দেওবার জন্যও আবেদন জমা করেছে।
এসআইআর ট্রাইবুনালে পরিকাঠামো না থাকায় কাজ হচ্ছে অত্যন্ত শ্লথ গতিতে। তার মধ্যে পোর্টালে নাম তোলার ব্যবস্থা বিচারপতিদের জন্য রাখা হয়নি। বিচারপতিরা ক্ষোভ জানানোয় আধার নিশ্চিতকরণ চালু হয়। গত সেপ্টেম্বরে আপত্তি জানিয়ে কাজ বন্ধ রাখেন বিচারপতিরা। এবার নতুন শর্তে বলা হয়েছে ডিজিটাল সই দিয়ে লগ ইন করা যাবে। ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড পাঠানো হবে। ডিজিটাল সই নিশ্চিত করা হবে প্যান কার্ড এবং সরকারি পরিচয়পত্রে থাকা সইয়ের মাধ্যমে। পাঁচদিনের মধ্যে ডিজিটাল সই দিতে বলা হয়েছে বিচারপতিদের।
SIR Tribunal Judges Identity
এসআইআর ট্রাইবুনালের বিচারপতিদের পরিচয় যাচাইয়ে এবার ডিজিটাল সই দিতে বলল কমিশন
×
Comments :0