ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৬ লক্ষ নাম বাদ দেওয়ার আবেদন ঘিরে ফের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হলো সিপিআই(এম) সহ বিরোধী দলগুলি। মঙ্গলবার কলকাতায় মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দপ্তরে সর্বদলীয় বৈঠকে যোগ দিয়ে আবেদনকারীদের পরিচয় প্রকাশ এবং নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার দাবি জানায় তারা। সিপিআই(এম)’র প্রশ্ন, এত বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার আবেদন কারা করেছেন এবং কার নির্দেশে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে?
বৈঠকে সিপিআই(এম)’র পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সুমিত দে, কল্লোল মজুমদার ও পলাশ দাস। ফরওয়ার্ড ব্লকের হয়ে যোগ দেন গোবিন্দ রায় ও ডলি রায়। কংগ্রেস সহ অন্যান্য বিরোধী দলের প্রতিনিধিরাও বৈঠকে অংশ নেন। তাঁরা মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক নীলম মিনার সঙ্গে দেখা করে নিজেদের আপত্তি ও দাবির কথা জানান।
বৈঠক শেষে সিপিআই(এম) নেতারা অভিযোগ করেন, স্পেশাল সামারি রিভিশনের নামে নির্বাচন কমিশন ভোটারদের জন্য অযথা জটিলতা তৈরি করছে। তাঁদের বক্তব্য, কোনও ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার আবেদন উঠলে তার নির্দিষ্ট কারণ জানাতে হবে। ফরম ৬-এর মাধ্যমে নতুন ভোটারের নাম তালিকায় তোলা যায় এবং ফরম ৭-এর মাধ্যমে মৃত বা অন্য কারণে অযোগ্য ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার আবেদন করা যায়। কিন্তু বিপুল সংখ্যক নাম বাদ দেওয়ার আবেদন জানিয়ে বিষয়গুলি ট্রাইব্যুনালে পাঠালে সাধারণ ভোটারদের হয়রানি বাড়বে, সমস্যার দ্রুত সমাধানও হবে না।
সিপিআই(এম)’র আরও দাবি, একটি বিধানসভা কেন্দ্রে ফরম ৭-এর মাধ্যমে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য একসঙ্গে ১০টি করে আবেদন জমা দেওয়ার যে পদ্ধতি চালু হয়েছে, তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। বিপুল সংখ্যায় ফরম জমা পড়লে কত মানুষের নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে এবং সেই অভিযোগগুলির নিষ্পত্তি কবে হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী নেতারা।
সিইও-র কাছে দ্রুত সমস্ত অভিযোগের নিষ্পত্তির দাবি জানিয়ে সিপিআই(এম) নেতৃত্ব বলেন, তাঁদের অভিযোগ অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই ২৭ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আরও বহু ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও দাবি তাঁদের। ফরম ৭-এর অপব্যবহার করে মিথ্যা অভিযোগ জমা দেওয়া হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা। নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আর্জিও জানানো হয়।
নেতৃত্বের বক্তব্য, যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে এবং ট্রাইব্যুনালে যাঁদের আবেদন এখনও নিষ্পত্তি হয়নি, তাঁদের ফরম ৬-এর মাধ্যমে নতুন করে নাম তোলার আবেদন করার সুযোগ দিতে হবে। তাঁদের অভিযোগ, ফরম ৭-কে ব্যবহার করে অনৈতিকভাবে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। এর দায় এড়াতে পারে না সিইও দপ্তর।
নির্বাচনী নিয়ম অনুযায়ী, কোনও ভোটারের নাম তালিকায় থাকা নিয়ে আপত্তি থাকলে ফরম ৭-এর মাধ্যমে আবেদন করা যায়। মৃত ভোটার, স্থায়ীভাবে ঠিকানা পরিবর্তন বা অন্য বিধিসম্মত কারণে নাম বাদ দেওয়ার আবেদন করা হতে পারে। সংশ্লিষ্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) আবেদন খতিয়ে দেখেন এবং নাম বাদ দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় প্রমাণ যাচাই করার কথা। মিথ্যা অভিযোগ জমা পড়লে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্বও নির্বাচন কর্তৃপক্ষের।
এদিকে, আসন্ন কলকাতা পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে আগামী ১৩ নভেম্বর রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে প্রস্তুতি বৈঠক করবে পৌর প্রশাসন। মঙ্গলবার কলকাতা পৌরসভাতেও একটি সর্বদলীয় বৈঠক হয়। সেখানে নতুন করে ৩৯টি পোলিং স্টেশন পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব রাখা হয়েছে বলে পৌর প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
SSR All Party Kolkata
এসএসআর নিয়ে কমিশনের সর্বদলীয় বৈঠকেও উঠল ১৬ লক্ষ নাম বাদের প্রসঙ্গ
×
Comments :0