বেলডাঙার মৃত পরিচয় শ্রমিকের বাড়িতে গেলেন বহরমপুরে তৃণমূল সাংসদ ইউসুফ পাঠান। নিজের পরিবারের পাশে থাকারও আশ্বাস দেন তিনি। যদিও স্থানীয়দের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে তাকে। মুর্শিদাবাদ-বহরমপুর এলাকার পরিযায়ী শ্রমিকরা ভিন রাজ্যে গিয়ে শারীরিকভাবে নিগৃহীত হচ্ছেন তাকে কেন দেখা যায়নি। পরিযায়ী শ্রমিক নেতা জানাচ্ছেন সাংসদ বিধায়কদের সাহস নেই মানুষের সামনে গিয়ে দাঁড়ানোর।
রবিবার সকালে বেলডাঙার সুজাপুর ঝাড়খণ্ডে মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের বাড়িতে যান ইউসুফ পাঠান। সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় বিধায়ক হাসানুজ্জামান শেখ। পরিবারের সদস্যরা তাঁদের অসহায়ত্বের কথা জানান। পাশে থাকার আশ্বাস দেন ইউসুফ। কিন্তু স্থানীয় মানুষের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় তাকে। প্রশ্ন করা হয় কেন আপনাকে বহরমপুরে দেখা যায় না? এই জেলার একাধিক পরিযায়ী শ্রমিক বিভিন্ন বিজেপি শাসিত রাজ্যে গিয়ে আক্রান্ত হচ্ছে হেনস্তার শিকার হচ্ছেন তখন আপনি কোথায় ছিলেন? উত্তরে ইউসুফ জানান, আপনাদের ভুল বোঝানোর হচ্ছে আমি এখানেই মানুষের পাশে আছি। মানুষের জন্যই কাজ করছি। আমি চিঠি লিখেছি পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য। রাজ্যের বাইরে কাজ করতে গেলে তাদের সঙ্গে বাজে ব্যবহার করা হচ্ছে তা যেন বন্ধ হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও সবসময় রয়েছেন।
ইউসুফ পাঠানকেই পরিযায়ী সাংসদ বলেছেন সিপিআই(এম) মুর্শিদাবাদ জেলা সম্পাদক জমির মোল্লা। তিনি বলেন, "মাসে একদিন ইউসুফ পাঠান এজলায় থাকেন না। বেলডাঙার মানুষ অবরোধ করে প্রশ্ন করেছেন জেলার ৩জন সাংসদ কোথায়? তারা সংসদে কেন পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে কিছু বলছেন না। প্রতিদিন বাংলা ভাষী পরিযায়ী শ্রমিকরা মার খাচ্ছেন। সরকারের কোনও সদুত্তর নেই।"
ইউসুফ পাঠানের কথার তীব্র বিরোধিতা জানিয়ে ওয়েস্ট বেঙ্গল মাইগ্রেন্ট ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের মুর্শিদাবাদ জেলা সম্পাদক কামাল হোসেন জানান শেষ এক মাসে মুর্শিদাবাদের পাঁচ জন পরিযায়ী শ্রমিক খুন হয়েছেন। এই তথ্য কী রয়েছে ইউসুফ পাঠান, আবু তাহের ও খলিলুর রহমানের কাছে। তারা কী একবারও কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে বা লোকসভায় পরিযায়ী শ্রমিক নিয়ে কোনও কথা বলেছেন। কেন বিধায়করা অন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বা প্রশাসনিক স্তরের কর্তাদের কোন চিঠি দেননি।"
যদিও এদিন চিঠি দেওয়ার কথা বলেছেন ইউসুফ পাঠান। কিন্তু এই চিঠি দেওয়ার ঘটনাকে আসলে ভাওতা বলে দাবি করেছেন কামাল হোসেন। তার প্রশ্ন কবে চিঠি লিখেছেন কাকে চিঠি লিখেছেন সেই চিঠি র কপি তাহলে মানুষের সামনে প্রকাশ করুন। তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন সামশেরগঞ্জে সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনায় মুর্শিদাবাদের সাংসদ আবু তাহের পরিযায়ী শ্রমিকদেরই অভিযুক্ত করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন পরিযায়ী শ্রমিকরা বাইরে থেকে এসে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ বাঁধিয়ে দিয়ে চলে গেছে।
উল্লেখ্য, পরিচয় শ্রমিকের খুনের ঘটনায় গত শুক্রবার ও শনিবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গা। স্থানীয় মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়েন। অবরোধ করা হয় জাতীয় সড়ক ভাঙচুর চালানো হয় বেলডাঙা স্টেশনেও। আক্রান্ত হন সাংবাদিকরা। তুই অশান্তির ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিশ।
Comments :0