চিন্ময় কর: মেদিনীপুর
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাশাসক দপ্তর অভিযান হয়েছে শ্রমিক, কৃষক এবং খেতমজুর সংগঠনের যৌথ আহ্বানে।
এসআইআর’র নামে হেনস্তা ও ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত বন্ধ করার দাবি উঠেছে সরবে।
জেলা শাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানোর জন্যও দাবিপত্র জমা দেওয়া হয়। একশ দিনের কাজের আইন ফের চালু করা এবং শ্রমকোড আইন বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে।
বুধবার মেদিনীপুরে জেলা শাসকের দপ্তর অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ দাবি ছিল এসআইআর’র শুনানির নামে ভোটারদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে। নানা অজুহাতে প্রকৃত ভোটার একাংশকে বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে। প্রকৃত ভোটার একজনেরও নাম বাদ দেওয়া যাবে না।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারকে ‘ভিবি জি রাম জি’ আইন বাতিলের ঘোষণা করতে হবে। গ্রামে একশো দিন কাজের আইন ‘এমজিএন রেগা’-কে আরো উন্নত কাঠামোসহ ফের চালু করতে হবে। কাজের বকেয়া মজুরি শ্রমিকদের দ্রুত দিতে হবে।
বলা হয়েছে, রাজ্য সরকারকে গ্রামে গরিবদের কাজের সুব্যবস্থা করতে হবে।
সিআইটিইউ, সারা ভারত কৃষক সভা, সারা ভারত খেতমজুর ও গ্রামীণ শ্রমজীবী ইউনিয়নের তরফে এই অংশের জীবন জীবিকা সম্পর্কিত একাধিক দাবি হাজির করা হয়েছে।
বলা হয়েছে, অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের মাসে নূন্যতম ২৬০০০/- টাকা মজুরি নিশ্চিত করতে হবে। পরিবেশ রক্ষা করে শিল্প করতে হবে। কারখানার জন্য যাদের জমি নেওয়া হয়েছে সেই সমস্ত পরিবারসহ স্থানীয় শ্রমিকদের নিয়োগে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
সরকারি ধান কেনায় দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। বলন বা ধলতা বাবদ অতিরিক্ত ধান নেওয়া বন্ধ করতে হবে। প্রকৃত কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয় করতে হবে। প্রতি অঞ্চলের সরকারি ক্রয় কেন্দ্র খুলতে হবে।
দাবি করা হয়েছে, স্বামীনাথন কমিশনের সুপারিশ মেনে সরকারকে অবিলম্বে আলুর সহায়ক মূল্য ঘোষণা করতে হবে। সরকারকে কৃষকের কাছ থেকে আলু ক্রয় করতে হবে। বাইরের রাজ্যে এবং বিদেশে আলু রপ্তানির ব্যবস্থা করতে হবে।
দাবি উঠেছে, বস্তিবাসীদের উচ্ছেদ করা চলবে না। বস্তি এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের নিঃশর্তে জমির সত্বাধিকার দিতে হবে।
দাবি উঠেছে, ভূমিদপ্তর সহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের কাজে ঘুষ, দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ প্রকল্পের কাজে এলাকার মানুষকে যুক্ত করতে হবে। দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে।
সমস্ত খাস জমি ভূমিহীন মানুষ সহ গরিব কৃষকদের বন্টন করতে হবে। বর্গাদার, পাট্টাদার কাউকে উচ্ছেদ করা চলবে না। যারা জমি দখলে রেখে চাষ করছে কিন্তু ভূমি দপ্তরের অসযোগিতায় পাট্টা রেকর্ড হয়নি তাদের উচ্ছেদ করা চলবে না।
কেন্দ্রের কাছে দাবি, বিদ্যুৎ বিল ২০২৫ এবং বীজ বিল ২০২৫ বাতিল করতে হবে। বনাঞ্চলে জমির অধিকারের আইন ২০০৬ কার্যকর করে বনাঞ্চলে মানুষের জীবন জীবিকার সমস্যা সমাধান করতে হবে। হাতির হানায় নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে হবে।
Comments :0