Jalpaiguri SIR Protest

এসআইআর হয়রানি বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ জলপাইগুড়িতেও

জেলা

জলপাইগুড়ি সদর বিডিও দপ্তর অভিমুখে মিছিল যৌথ মঞ্চের। ছবি: প্রবীর দাশগুপ্ত

দীপশুভ্র সান্যাল: জলপাইগুড়ি

এসআইআর’র শুনানির নামে সাধারণ মানুষকে হয়রান করা চলবে না। জলপাইগুড়িতে শ্রমিক, কৃষক, খেতমজুর-সহ বিভিন্ন গণসংগঠনের যৌথ মঞ্চের তরফে সদর বিডিও দপ্তরে এই দাবিতে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। 
এদিন রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ হয়েছে। দাবি উঠেছে, অবিলম্বে ১০০ দিনের কাজ ফের চালু করতে হবে। ‘ভিবি জি রামজি আইন’ এবং শ্রম কোড আইন বাতিল করতে হবে। দাবি উঠেছে কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য দেওয়ারও।
জলপাইগুড়ি রাজবাড়ি গেটের সামনে থেকে মিছিল শুরু হয়ে ইন্দিরা কলোনি এলাকায় এসআইআর শুনানি কেন্দ্র ঘুরে সদর বিডিও দপ্তরে এসে শেষ হয়। 
বিক্ষোভ সভায় শ্রমিক নেতা পীযূষ মিশ্র বলেন, এসআইআর শুরুর আগেই সর্বদলীয় সভায় দাবি জানানো হয়েছিল যে শুনানি কেন্দ্র বুথের কাছাকাছি করতে হবে। কিন্তু সরকার ও নির্বাচন কমিশন সেই দাবি শোনেনি। ফলে চা শ্রমিক, কৃষি শ্রমিক ও দিনমজুরদের ১৫-২০ কিলোমিটার দূরে এসে সারাদিন কাজ হারিয়ে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। তাঁদের দৈনিক মজুরি নষ্ট হচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রে গোটা পরিবারকেই শুনানিতে হাজির হতে বাধ্য করা হচ্ছে। রাজ্য ও কেন্দ্রের শাসক দল এসআইআরকে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করছে। তফসিলি জাতি, আদিবাসী, অন্য অনগ্রসর অংশ ও সংখ্যালঘু মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে। 
সরকারের বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের আহ্বান জানান শ্রমিক নেতা। বিক্ষোভ সভায় বক্তব্য রাখেন শ্রমিক নেতা কৃষ্ণ সেন, খেতমজুর আন্দোলনের নেতা কৌশিক ভট্টাচার্য ও অমূল্য রায়, যুব নেতা দেবরাজ বর্মন, কৃষক নেতা বিশ্বজিৎ মোহন্ত, শিক্ষক নেতা বিপ্লব ঝা এবং বস্তি উন্নয়ন সমিতির নেতা বিপুল সান্যালও। 
নেতৃবৃন্দ বলেন, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে নির্বাচন কমিশন এখন গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে শুনানি কেন্দ্র করার কথা ভাবছে। যা বামপন্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি। নেতৃত্বের দাবি, শ্রমজীবী মানুষকে শুনানির জন্য ডাকা হলে মজুরি দিতে হবে। নতুবা বুথের নিকটবর্তী এলাকায় শুনানি কেন্দ্র করতে হবে। 
উস্থি, বারাসতে বিডিও দপ্তরে বামপন্থীদের ওপর পুলিশি হামলার ঘটনায় তীব্র ধিক্কার জানান। এদিন বিপুল সংখ্যক শ্রমজীবী মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। 

Comments :0

Login to leave a comment