অনিল কুণ্ডু : বিষ্ণুপুর
মানুষ তৃণমূলকে টাইট দিতে বিজেপিকে ভোট দিল। আর বিজেপি ফেলে দেওয়া জুতোয় হাটতে চাইছে। কামদুনি, গাইঘাটা, সন্দেশখালি, বীরভূমের চোর, দুর্নীতিগ্রস্ত, লুটেরা তৃণমূলীদের ভালো তৃণমূল বলছে বিজেপি। পাবলিকের মার খাওয়ার ভয়ে বিজেপিতে যাচ্ছে ভালো তৃণমূল হয়ে। বুধবার বিষ্ণুপুরের পৈলান বাজারে এক সমাবেশে একথা বলেন সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখার্জি। তিনি বলেন, আমরা চাকরির দাবিতে, মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে লড়াই করছি। বেকার ছেলে মেয়েরা চাকরি চেয়ে রাস্তায় বসে আন্দোলন করছে। সেই সময় অর্পিতার খাটের তলা থেকে টাকা বেরোচ্ছে। আমরা দেখেছি বিজেপির সহযোগিতায় আরএসএস'র নেতৃত্বে তৃণমূলকে দুর্নীতি করতে। গত ১৫ বছরে রাজ্যের ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ায় অনীহা তৈরি হয়েছে। তৃণমূলের থেকেও বিপজ্জনক বিজেপি। তৃণমূল দুর্নীতি করে টাকার বিনিময়ে সপ্তম শ্রেণি পাস শিক্ষককে চাকরি দিয়েছে। আর বিজেপি টাকার বিনিময়ে ডাক্তারকে চাকরি দিচ্ছে। প্রশ্ন ফাঁসের উল্লেখ করে তিনি বলেন, টাকা দিয়ে ডাক্তার তৈরি হচ্ছিল গোটা দেশ জুড়ে। টাকার বিনিময়ে প্রশ্ন দিয়েছে। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আন্দোলন চলছে।
সিপিআই(এম) বিষ্ণুপুর ১ এরিয়া কমিটির উদ্যোগে বুধবার বিষ্ণুপুরের পৈলান বাজারে সমাবেশ হয়। এই সমাবেশে বক্তব্য রাখেন তিনি। সমাবেশে সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শমীক লাহিড়ী, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সম্পাদক রতন বাগচী, প্রভাত চৌধুরী, আমজাদ সেখ, সুফল পাল, শম্ভু কুর্মী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সমাবেশ পরিচালনা করেন সিপিআই(এম) এরিয়া কমিটির সম্পাদক শ্যামল ডাল।
মীনাক্ষী মুখার্জি আর জি কর হাসপাতালের ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, অভয়াকে ধর্ষণ, খুন, শুধু নয়। হাসপাতালে অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ব্যবসা চলছিল। খারাপ সিনেমা বানিয়ে ব্যবসা চলছিল। টাকা দিয়ে ডাক্তার তৈরি করা হচ্ছিল। যেটা বিজেপি গোটা দেশ জুড়ে করছে।
এসআইআর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২৭ লক্ষ নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। বাদ পড়া এই তালিকায় অর্ধেকের বেশি মহিলাদের নাম। ভোটার তালিকায় নাম তোলা, ভুয়ো নাম, মৃতদের নাম ডিলিট করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। তাহলে কমিশনের দোষে শাস্তি পেল সাধারণ মানুষ। এখন ট্রাইব্যুনালে বিডিও দপ্তরে দৌড়চ্ছে মহিলারা। আমরা দাবি করছি ব্লক দপ্তরে কেন। পঞ্চায়েতে পঞ্চায়েতে ট্রাইব্যুনালের ব্যবস্থা করতে হবে। যে কাজ বিএলওদের বাড়ি বাড়ি ফিজিক্যালি ভেরিফিকেশন করার কথা ছিল ভুলের জন্য বিএলওদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেবে না নির্বাচন কমিশন।
বিজেপির নীতির সমালোচনা করে মীনাক্ষী মুখার্জি বলেন, আমরা ভোটের আগে বলেছিলাম তৃণমূল চুরি, দুর্নীতি, লুট করেছে। চাকরি দিতে হবে। বিজেপি বলেছিল চাকরি দেবে। জানুয়ারি থেকে মার্চ এই ৩ মাসের তথ্য বলছে গোটা দেশে ২৭ লক্ষ সরকারি চাকরি চলে গেছে। তিনি বলেন, বিজেপির বিরুদ্ধে আমাদের আদর্শগত লড়াই। সংবিধান রক্ষার লড়াই। গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই। বামপন্থী কর্মী সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তাঁর আহ্বান, সাহস করে রাস্তায় রুখে দাঁড়ান। আমরা ভয় পাই না বলে ওরা আমাদের ভয় পায়। তৃণমূল, বিজেপি বিধানসভায় তোমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ থাকতে পারো। আর আমরা রাস্তায় সংখ্যাগরিষ্ঠ। পৈলানের সমাবেশ দেখে যাও।
শমীক লাহিড়ী বলেন, ১৫ বছর কোন সভা করতে দেয়নি। গোটা পৈলান দখল করেছিল। যারা লাল ঝান্ডার সভা সমাবেশ করতে দেয়নি তারা জেলে। তৃণমূল ছিল চোর, লুটেরাদের গুদাম। সেই চোরেদের উপর বিজেপিকে নির্ভর করতে হচ্ছে। তৃণমূল থেকে সব বিজেপি গুদামে নিচ্ছে। তিনি বলেন, রাজ্যের ছেলে মেয়েদের ভবিষ্যৎ কি হবে। বিষ্ণুপুরের পৈলান থেকে ফলতা শিল্প করিডোর করে ছিল বামফ্রন্ট সরকার। গত ১৫ বছরে তৃণমূলের তোলাবাজিতে কল কারখানা বন্ধ হয়েছে। সেই শিল্প করিডোর শ্মশানে, কবর স্থানে পরিণত করেছে। মুখ্যমন্ত্রী এই পাপের ভাগীদার ছিল। এখন এনিয়ে তাঁর কোন কথা নেই। ফলতা মুক্ত বাণিজ্য কেন্দ্রে বামফ্রন্টের সময়ে ১৪ হাজার শ্রমিক কাজ করতেন। এখন সেখানে মাত্র ২ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। ফড়ে দালালরাজের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৫ বছরে ফড়ে দালালরা লুট করেছে। কৃষক তাঁর উৎপাদিত ফসলের দাম পাচ্ছে না। পেট্রোল, ডিজেল, রান্নার গ্যাসের
মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। ধনীরা যখন লুট করে তখন কে হিন্দু, মুসলমান কোন ধর্ম দেখে না। বিজেপি, তৃণমূল, সিপিআই(এম) দেখে না। ভোটের সময় মানুষকে ধর্মের নামে ভাগ করে। বামপন্থীরা এনিয়ে প্রতিবাদ আন্দোলন করছে। তিনি বলেন, মানুষ তৃণমূলকে হারাতে চেয়েছে তৃণমূল হেরেছে।
Minakshi Mukherjee at Bishnupur
ট্রাইব্যুনালের ব্যবস্থা করতে হবে পঞ্চায়েতে, পৈলানের সমাবেশ মীনাক্ষী
×
Comments :0