SIR

সাড়ে ছয় হাজার শুনানি কেন্দ্রে দিনে সাত লক্ষ ভোটারের শুনানি করবে কমিশন!

রাজ্য

  দিনে ৭ লক্ষ ভোটারকে শুনানিতে ডাকার পরিকল্পনা নিয়ে এবার এগচ্ছে নির্বাচন কমিশন!
নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য শুনানিতে ইতিমধ্যেই রাজ্যের সংখ্যালঘু বুথ ধরে ভোটারদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে নোটিস। মানুষের এই হয়রানি নিয়ে রাজ্যজুড়ে কমিশনের বিরুদ্ধে প্রবল বিক্ষোভে শামিল মানুষ। এই পরিস্থিতিতে শুনানি কেন্দ্র বাড়িয়ে দ্রুততার সঙ্গে শুনানির কাজ শেষ করতে চাইছে নির্বাচন কমিশন। 
পারিবারিক সূত্র ধরে ৯৪ লক্ষ ভোটারকেই শেষ পর্যন্ত শুনানিতে ডাকছে কমিশন। সেই শুনানির কাজ জানুয়ারি মাসের মধ্যেই শেষ করার জন্য এখন উঠেপড়ে লেগেছে কমিশনের কর্তারা। তাই ঠিক হয়েছে ফি দিনে ৭ লক্ষ ভোটারের শুনানিতে ডেকে ৩১ জানুয়ারির আগেই কাজ শেষ করে দিতে। কমিশনের এক শীর্ষকর্তার কথায়, ‘‘আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন ঠিক হয়ে আছে। তার আগে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শুনানি ও নাগরিকত্ব যাচাই করার সময়। তাই ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’তে শুনানিতে ডাক পাওয়া ভোটারদের কাজ জানুয়ারি মাসেই গুটিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হচ্ছে।’’
ইতিমধ্যে রাজ্যে ৩ হাজারের ওপর শুনানি কেন্দ্রে দিনে ১৩০ জনের কাছাকাছি ভোটারকে ডাকা হচ্ছে। কমিশন চাইছে, আগামী সোমবার থেকে কমপক্ষে সাড়ে ছয় হাজার শুনানি কেন্দ্র তৈরি করার। শুনানিতে নথি যাচাই করার জন্য কমিশন আগেই মাইক্রো অবজার্ভারদের দায়িত্ব দিয়েছিল। এরাজ্যে কর্মরত কেন্দ্রীয় সরকারি আধিকারিকরাই শুনানিতে নথি যাচাই করবেন। রাজ্যে বর্তমানে প্রায় চার হাজারের ওপর মাইক্রো অবজার্ভার শুনানিতে যুক্ত। সম্প্রতি কমিশন আরও প্রায় ২ হাজার মাইক্রো অবজার্ভারকে নিয়োগ করছে। একইসঙ্গে এইআরও’দের সংখ্যা বাড়িয়েছে কমিশন। ফলে রাজ্যে সাড়ে ছয় হাজার শুনানি কেন্দ্র মারফৎ দিনে ১২০ জন ভোটারকে শুনানিতে ডেকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কাজ শেষ করা কঠিন হবে না বলেই মনে করছে কমিশনকর্তারা। আসলে হয়রানি এড়ানোর পাশাপাশি শুনানি নিয়ে জনমানসে বিতর্কের দ্রুত অবসান করতে এই পন্থা নিয়েছে কমিশন।
শুরুতে পারিবারিক সূত্র ধরে তথ্যগত অসঙ্গতি চিহ্নিত ভোটারের সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৬৭ লক্ষ। পরে ছোটখাট অসঙ্গতি বাদ দিয়ে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৯৪ লক্ষ। কমিশন পারিবারিক সূত্র ধরে তথ্য অসঙ্গতির শুনানিতে প্রথম পর্বে ৪০ লক্ষ ভোটারকে শুনানিতে ডাকার পরিকল্পনা নিয়েছিল। মূলত এক অভিভাবককে ব্যবহার করে ছয় জন বা তার বেশি ভোটারের লিঙ্ক, অভিভাবকের সঙ্গে ১৫ বছরের কম বয়সের ফারাক ও ৪৫ বছর পার করা ভোটার হওয়ার পর পারিবারিক সূত্র দিয়ে এনিউমারেশন ফরম পূরণ করা ভোটারদেরই প্রথম পর্যায়ে ডাকা হবে। এর বাইরে ৫১ লক্ষ ভোটারের নাম সহ ছোটখাট অসঙ্গতি চিহ্নিত ভোটারদের শুনানিতে ডাকা হবে না বলে কমিশন ঠিক করেছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে নয়াদিল্লির কমিশনের সদর দপ্তর থেকে ৯৪ লক্ষ ভোটারকেই শুনানির নোটিস তৈরি করে বিএলও’দের অ্যাপ মারফত পাঠানো শুরু হয়ে যায়। নাগাড়ে শুনানির নোটিস আসতে দেখে জেলা নির্বাচন দপ্তরের আধিকারিকরা বিএলও’দের কাছে ছোটখাট অসঙ্গতি চিহ্নিত ভোটারদের শুনানির নোটিস দেওয়ার কথা বলে কিন্তু শুনানি কেন্দ্র ভোটারদের আনতে নিষেধ করার মৌখিক পরামর্শ দেয়। পরিবর্তে নামের বিভ্রাট সহ ছোটখাট সমস্যায় থাকা ভোটারদের কাছে গিয়ে ফের নথি সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট ভোটারের সঙ্গে ‘সেলফি’ তুলে আনার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু বিএলও’রা জেলা প্রশাসনের এই মৌখিক সিদ্ধান্ত মানতে চাননি। বিএলও’দের অভিযোগ, একবার ভোটারদের কাছ থেকে নথি নেওয়ার পর তার নামে শুনানির নোটিস এসেছে। ফলে দ্বিতীয় দফায় ফের নোটিস দিয়ে নথি সংগ্রহ করা সম্ভব নয়। তার থেকেও বড় কথা ভোটাররা আর বিএলও’দের ভরসা রাখতে পারছে না। আর নথি নেওয়ার পরও চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় সেই ভোটারের নাম না থাকলে সব দায় চাপবে বিএলওদের ওপর। আমরা তাই নোটিস পাওয়া সব ভোটারকেই শুনানি কেন্দ্রে হাজির হতে বলছি।
বিপুল সংখ্যায় শুনানির নোটিস আসার ঘটনায় বিব্রত নির্বাচন কমিশনের সিইও দপ্তরের আধিকারিকরাও। তাঁদের অভিযোগ, ‘‘ কমিশনের নয়াদিল্লির অফিস থেকে সফটওয়্যার মারফত নোটিস জেনারেট হয়ে চলে আসছে। প্রযুক্তি ব্যবহার করে নোটিস তৈরি হওয়ার আর বাস্তব মাটিতে তার কী প্রভাব সেটা নিয়ে কমিশনের আইটি কর্তৃপক্ষের ধারণা নেই।’’
কিন্তু নোটিস পাঠিয়ে শুনানি শেষ হওয়ার পরও কাজ শেষ হওয়ার পথে কাঁটা থেকেই যাচ্ছে। সেটা শুনানিতে ভোটারদের কাছ থেকে প্রাপ্ত নথি কমিশনের অ্যাপে আপলোড করার। রাজ্যে আনম্যাপড হয়ে থাকা ৩২ লক্ষ ভোটারের শুনানির কাজ শেষ। সেই ভোটারদের কাছ থেকে নথি সংগ্রহ করার পর আপলোডের কাজই শেষ হয়নি। ফলে দ্রুততার সঙ্গে ৯৪ লক্ষ ভোটারের শুনানির কাজ শেষ হলেও নথি আপলোড করার কাজ নিয়ে আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

Comments :0

Login to leave a comment