editorial

ভারতবাসী কি ট্রাম্পের খাসতালুকের প্রজা

সম্পাদকীয় বিভাগ

দ্বিতীয়বারের জন্য রাষ্ট্রপতি হিসাবে শপথ নেবার পরই ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডাকে দখলে নিয়ে আমেরিকার ৫১তম প্রদেশ বানানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু সেই বাসনা তার পূরণ হয়নি। এখন ভারতের সঙ্গে, বিশেষ করে গত কয়েক মাস ধরে তিনি যে আচরণ করে চলেছেন তাতে মনে হচ্ছে তিনি বোধ হয় ভারতকেই আমেরিকার ৫১তম প্রদেশ ভাবতে শুরু করেছেন। তা না এভাবে দিনের পর দিন ভারতকে অপমান, অবজ্ঞা করার, ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে এভাবে মশকরা করার দুঃসাহস দেখাতেন না। তার কথাবার্তা শুনে মনে হয় ভারত একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশই নয়। তাই ভারত সম্পর্কে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে যখন যা খুশি তিনি বলতেই পারেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্পর্কে যা খুশি মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে ভাসিয়ে দিতে পারেন। আর যথারীতি ট্রাম্পের ধারণাকে বিশ্বাসযোগ্য করতে মোদী সরকার সেসব নীরবে হজম করে যাবেন। কোনোরকম প্রতিবাদ বা বিরোধিতার ধারে কাছেও যাবে না। যেন হুজুরের আদেশ পালন করে যাচ্ছে নিঃশব্দে নিষ্ঠার সঙ্গে। তাহলে কি সত্যি সত্যি ধরে নিতে হবে ট্রাম্পের মরজি মতোই চলছে মোদীর ভারত? ট্রাম্প তাহলে কি ভারতের জনগণকে তার খাসতালুকের প্রজা ভাবছেন? মোদী সরকার কি ভারতকে শেষ পর্যন্ত এই জায়গায় নামাতে চান? ৫৬ ইঞ্চির ছাতি কি চুপসে গিয়ে ট্রাম্পের কাছে নতজানু হয়ে দর্শন প্রার্থনা করছে?
কয়েকদিন আগে ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেছিলেন রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ না করলে ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক আরও বাড়িয়ে দেবেন। মোদী সব সময় ট্রাম্পকে তাঁর প্রিয় বন্ধু বলতে পছন্দ করেন। বন্ধুকে ভোটে জেতাতে আমেরিকায় গিয়ে প্রচারও করেন। মোদীকে প্রশংসা করেই যেকোনও দেশের থেকে বেশি শুল্ক চাপিয়েছেন ভারতের পণ্যে। রাশিয়া থেকে তেল কেনে চীনও। অথচ চীনের পণ্যে চাপানো শুল্ক তিনি ছেঁটে ফেলেছেন। আর হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন ভারতকে। বলেছেন তার কথায় ভারত রাশিয়ার তেল কেনা কমিয়েছে। কিন্তু পুরো বন্ধ না হলে আরও শুল্ক চাপবে। এটাও বলেছেন মোদীর উচিত ছিল তাকে খুশি রাখা। কিন্তু তা করেননি। সর্বশেষ বলেছেন ভারত আমেরিকা থেকে ৬৮টি অ্যাপাচে হেলিকপ্টার কেনার বরাত দিয়েছিল। পাঁচ বছরে একটাও সরবরাহ হয়নি। একদিন মোদী নাকি ট্রাম্পকে ফোন করে অনুনয়-বিনয় করে বলেছিলেন, স্যার আমি কি দয়া করে আপনার দর্শন পেতে পারি! আসলে মোটা শুল্ক চাপিয়ে আমেরিকার অনেক লাভ হচ্ছে।
ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন মোদীরা বুঝেছেন তাকে খুশি রাখা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তাই ভারতের বিরুদ্ধে কোনও আপত্তিকর, অপমানজনক পদক্ষেপও মোদী সরকার নীরব থাকে। প্রতিবাদ, বিরোধিতা করে না। ট্রাম্পের নির্দেশ মেনে রাশিয়া থেকে তেল কেনা কমিয়ে আমেরিকা থেকে তেল-গ্যাস কেনা বাড়িয়ে দিয়েছে। আমেরিকা থেকে অস্ত্র কেনাও বেড়েছে। ভেনেজুয়েলার উপর হিংস্র-বর্বর হামলার পরও কোনও নিন্দা করার সাহস দেখায়নি। পহেলগামের পর পাক-ভারত যুদ্ধ বন্ধ করতে ভারত বাধ্য হয়েছে ট্রাম্পের বাণিজ্য বন্ধের হুমকিতে। অর্থাৎ আমেরিকার তথা ট্রাম্পের হুকুম তামিল করাই মোদী সরকারের কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Comments :0

Login to leave a comment