HIV Positive Mother Death

এইচআইভি আক্রান্ত মায়ের মৃত্যু, শেষকৃত্যের অপেক্ষায় ১০ বছরের শিশু

জাতীয়

উত্তর প্রদেশের এটা জেলার জয়থ্রা থানা এলাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় এইচআইভি আক্রান্ত এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে তার ১০ বছরের ছেলেই ছিল তার একমাত্র ভরসা। পুলিশের মতে, নাগলা ধীরাজ গ্রামের বাসিন্দা প্রয়াত সুরেন্দ্রের স্ত্রী নীলমকে চিকিৎসার জন্য এটার বীরাঙ্গনা অবন্তীবাই মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়েছিল, যেখানে চিকিৎসার সময় তার মৃত্যু হয়। ঘৃণায় সংক্রমণের ভয়ে এগিয়ে আসেননি প্রতিবেশী বা আত্মীয়রা কেউ। মায়ের মৃত্যুর পর, তার ১০ বছরের ছেলে মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে আসে এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। শিশুটি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তার মায়ের পাশেই ছিল। একজন এইচআইভি পজিটিভ মহিলার মৃত্যুর পর, তার পরিবারের সদস্যরা বা তার বাবা-মা কেউই শেষকৃত্যের জন্য আসেননি। সবাই তাদের ফোন বন্ধ করে দিয়েছে।
জয়থ্রা থানার ইনচার্জ রিতেশ ঠাকুর জানিয়েছেন, নীলম প্রায় এক মাস ধরে গুরুতর অসুস্থতার সাথে লড়াই করছিলেন। চিকিৎসার জন্য তিনি ফারুখাবাদে তাঁর বাবা-মায়ের বাড়িতে ছিলেন। তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি হলে, তিনি প্রায় পাঁচ দিন আগে তাঁর জন্মস্থান জয়থ্রা ফিরে আসেন, যেখান থেকে তাঁকে এটার মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়েছিল। বুধবার চিকিৎসার সময় তিনি মারা যান। সেই সময় হাসপাতালে নীলমের সাথে কেবল তাঁর ১০ বছরের ছেলে উপস্থিত ছিল। তার মায়ের মৃত্যুর পর, শিশুটি সম্পূর্ণ একা হয়ে পড়ে। হাসপাতাল প্রশাসন জয়থ্রা থানায় খবর দেয়, এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।
মৃতার ৮ বছরের ছেলে পুলিশ এবং সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে যে তার ১৫ বছর বয়সী এক বোন রাখি ফারুখাবাদ জেলার নারায়ণপুর গ্রামে থাকত। তার কোনও আত্মীয়ের ফোন নম্বর ছিল না, তাই সে কারও সাথে যোগাযোগ করতে পারেনি। ময়নাতদন্তের বাড়িতে পৌঁছে ছেলেটি বলে, সে নিজেই তার মায়ের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে এসেছিল কারণ তাকে অন্য কে সহায়তা করার মতো ছিল না। পুলিশ জানিয়েছে যে নীলমের স্বামী সুরেন্দ্র প্রায় আট মাস আগে মারা গেছেন। তিনিও এইচআইভি পজিটিভ ছিলেন। নীলম নিজেও একজন এইচআইভি রোগী ছিলেন।
হাসপাতালের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডাঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ জানিয়েছেন, মহিলা এবং তাঁর স্বামী উভয়ই এইচআইভি সংক্রমিত ছিলেন। রিতেশ ঠাকুর আরও জানিয়েছেন, পরিবারের সদস্যদের জানিয়ে শেষকৃত্যের জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরিবারের সদস্য ও  অনান্যদের উপস্থিতিতে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে। বাবা মায়ের মৃত্যুর পর শিশুটি এখন অনাথ। অসহায় শিশুটিকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে এসেছে পুলিশ।

Comments :0

Login to leave a comment