চা শ্রমিকদের চরম জীবনযন্ত্রণা এবং গোটা দেশজুড়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের অধিকার হরণকারী চারটি শ্রম কোড অবিলম্বে বাতিলের দাবিতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশজুড়ে ডাকা সাধারণ ধর্মঘট ও পশ্চিমবঙ্গে শিল্প ধর্মঘটের সমর্থনে মঙ্গলবার চালসায় গণ কনভেনশন হয়। পশ্চিমবঙ্গ টি গার্ডেন এমপ্লয়িস অ্যাসোসিয়েশনের মাঠে আয়োজিত এই কনভেনশনে সভাপতিত্ব করেন শ্রমিক নেতা দেবব্রত নাগ।
কনভেনশনে বক্তারা বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার শ্রম কোডের মাধ্যমে শ্রমিক-কর্মচারীদের বহু অর্জিত অধিকার কেড়ে নিয়েছে। কাজের স্থায়িত্ব, আট ঘণ্টার কাজের নিশ্চয়তা, ন্যূনতম মজুরি, সামাজিক সুরক্ষা ও ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে চা শিল্পে। মালিক পক্ষের জুলুম ও অবহেলা বেড়েছে এবং প্রায় ২০ লক্ষ চা শ্রমিক ও তাঁদের পরিবার আজ চরম সংকটে পড়েছেন।
আলোচনা করতে গিয়ে তিলক ছেত্রী, প্রমোদ সিং, সিকান্দার মাঝি, পবন প্রধান, সুবীর সুব্বাসহ বিভিন্ন চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা বলেন, এই ধর্মঘট কেবল একটি দিনের কর্মসূচি নয়, এটি শ্রমিক শ্রেণির অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার লড়াই। তাই বাগান এলাকা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ধর্মঘটের প্রকৃত কারণ ও দাবিগুলি পৌঁছে দিতে হবে।
জয়েন্ট ফোরামের পক্ষ থেকে জিয়াউল আলম বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকার পরিকল্পিতভাবে শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়ার অধিকার, স্থায়ী কাজের নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা কেড়ে নিচ্ছে। চা শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি, বকেয়া মজুরি প্রদান, পিএফ-ইএসআই চালু করা, স্বাস্থ্য ও আবাসনের অধিকার নিশ্চিত করা এবং বন্ধ বাগান খোলার মতো ন্যায্য দাবিগুলি আজও অমীমাংসিত। এই পরিস্থিতিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনই একমাত্র পথ।” তিনি সকল শ্রমিক-কর্মচারী ও ট্রেড ইউনিয়নকে ১২ ফেব্রুয়ারির ধর্মঘটে সামিল হওয়ার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, গত ২২ ডিসেম্বর ২০২৫-এ জয়েন্ট ফোরামের উদ্যোগে চা বাগান মালিক পক্ষ ও কেন্দ্র-রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিদের কাছে ১১ দফা জরুরি দাবিপত্র পেশ করা হয়েছিল। কিন্তু দাবি মানা না হওয়ায় আন্দোলন আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার কারণে পশ্চিমবঙ্গে পূর্ণ সাধারণ ধর্মঘটের পরিবর্তে শিল্প ধর্মঘট পালিত হবে।
কনভেনশন থেকে গৃহীত কর্মসূচি অনুযায়ী ২২ জানুয়ারির মধ্যে শ্রমিক সভা, ২৪–২৫ জানুয়ারি যৌথ র্যালি ও পথসভা, ২৬ জানুয়ারি সংবিধান ও সামাজিক সুরক্ষার পক্ষে কর্মসূচি, ৩০ জানুয়ারি থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঘরে ঘরে প্রচার, ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে মশাল মিছিল এবং ১২ ফেব্রুয়ারি সর্বত্র পিকেটিং ও মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে।
All India Strike
সর্বভারতীয় ধর্মঘটের সর্বাত্মক প্রচারে নামছেন চা শ্রমিকরা, কনভেনশন চালসায়
চালসায় চা শ্রমিকদের গণকনভেনশনে বক্তব্য রাখছেন জিয়াউল আলম।
×
Comments :0