Black Bear

ভাল্লুক উদ্ধারে চাঞ্চল্য ডুয়ার্সের চা বাগান এলাকায়

জেলা

ডুয়ার্সের চা বাগানের জনবসতি এলাকা থেকে উদ্ধার হল ভাল্লুক। বুধবার মালবাজার মহকুমার মাটিয়ালি ব্লকের সামসিং চা বাগানের বড় পিপল লাইন এলাকা থেকে ভাল্লুকটিকে উদ্ধার করা হয়। বন কর্মীরা ভাল্লুকটিকে উদ্ধার করে নেওরা ভ্যালি জাতীয় উদ্যানে নিয়ে যায়। এদিন সকালে স্থানীয়রা  ভাল্লুকটিকে জনবসতি এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখে। চা বাগান এলাকায় ভাল্লুকর খবর চাউর হতেই আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। খবর দেওয়া হয় বন দপ্তরে। নেওড়া রেঞ্জ,কুমানি রেঞ্জ সহ খুনিয়া স্কোয়াডের বন কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌছায়। ততক্ষণে ভাল্লুকটি ওই এলাকায় একটি বাড়ির উঠোনের পাশে ঝোপের মধ্যে আশ্রয় নেয়। বন কর্মীরা এলাকায় এসে ভাল্লুকের আশ্রয়স্থলের চারিদিক জাল দিয়ে ঘিরে ফেলে। পরে সেটিকে উদ্ধার করে খাঁচা বন্দি করে নিয়ে যাওয়া হয়। 
পাহাড়ে প্রবল তুষারপাত ও তীব্র শীতের জেরে খাদ্যসংকট তৈরি হওয়ায় লোকালয়ে নেমে আসছে বন্যপ্রাণী এমনই ইঙ্গিত মিলেছে। এদিন সকালে চা বাগানে কাজ করতে গিয়ে শ্রমিকরা প্রথম ভালুকটিকে দেখতে পান। মুহূর্তে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। নিরাপত্তার স্বার্থে চা বাগানের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। খবর ছড়িয়ে পড়তেই আশপাশের গ্রাম থেকে বহু মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় জমান। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত বনদপ্তরকে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে খুনিয়া রেঞ্জের বনকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। রেঞ্জ অফিসার সঞ্জয় দে জানান, পাহাড়ের উঁচু এলাকায় তুষারপাতের ফলে খাদ্যের অভাব দেখা দেওয়ায় ভুটান সীমান্তবর্তী পাহাড়ি অঞ্চল থেকে ওই মাঝবয়সী হিমালয়ান ব্ল্যাক বিয়ারটি লোকালয়ে নেমে এসেছে বলে প্রাথমিক অনুমান। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর কোনওরকম আঘাত ছাড়াই ভালুকটিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন বনকর্মীরা।
বনদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া ভালুকটিকে আপাতত পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রাথমিক চিকিৎসার পর তার শারীরিক অবস্থা ও আচরণ স্বাভাবিক থাকলে লাটাগুড়ি বা পার্শ্ববর্তী নেওড়া ভ্যালির গভীর জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আবেদন জানিয়েছে বনদপ্তর।

Comments :0

Login to leave a comment