Beldanga Migrant

পরপর হত্যা শ্রমিকদের, আলাউদ্দিনের খবর পৌঁছাতেই বিক্ষোভ বেলডাঙায়

রাজ্য জেলা

নিহত আলাউদ্দিন শেখের পরিজনদের পাশে মাইগ্রান্ট ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ।

এক মাসেরও কম সময়ে নিহত হয়েছেন মুর্শিদাবদেরই শ্রমিক পরিবারের ৫ সদস্য। কারও বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ হচ্ছে না। এর মধ্যেই পৌঁছেছে আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যুর খবর। ক্ষোভ জনবিস্ফোরণের চেহারা নিয়েছে বেলডাঙায়।
ঝাড়খণ্ডে কাজে যাওয়া আলাউদ্দিন শেখের বাড়ি বেলডাঙার কুমারপুর পঞ্চায়েত এলাকায়। খবর মেলে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে। 
কিন্তু আত্মহত্যার বিবরণ মানতে নারাজ পরিবার। তাঁরা বলছেন পায়ের হাড় ভাঙা ছিল। পিটিয়ে হত্যা করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। জানুয়ারির ৩ তারিখ গিয়েছিলেন কাজে। ১৬ তারিখ মিলেছে হত্যার খবর।
শুক্রবার বিক্ষুব্ধ জনতা বেলডাঙায় জাতীয় সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে। ক্ষোভ থেকে ছড়ায় উত্তেজনা।
ঘটনার খবর পেয়ে আলাউদ্দিন বাড়িতে যান ওয়েস্ট বেঙ্গল মাইগ্রান্ট ওয়ার্কার ইউনিয়নের মুর্শিদাবাদ জেলা সম্পাদক কামাল হোসেন। পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। পরিবার তাঁকে বলেছে, এরাজ্যের সরকার কেবল মুখে কথা বললে হবে না। হত্যার এফআইআর দায়ের করে তদন্ত করতে হবে। 
কামাল হোসেন বলেছেন, ‘‘গত ২৪ ডিসেম্বর থেকে মুর্শিদাবাদের ৫ জনকে খুন করা হয়েছে  বিভিন্ন রাজ্যে। তার মধ্যে পরিযায়ী শ্রমিক পরিবারের পাঁচ বছরের কন্যা নওদার শাহনওয়াজ খাতুনও রয়েছে। সুতির জুয়েল রানাকে হত্যা করা হয়েছে ওড়িশায়। নিহত হয়েছেন সুতিরই ওমাই মাঝি। রানিতলার রেন্টু শেখকে খুন করা হয়েছে কিছুদিন আগেই। জেলার আরও ১৫ জন দুর্ঘটনায় নিহত। হামলায় আহত হয়ে ফিরে আসছেন অনেকে। বাংলাদেশি বলে দেগে দিয়ে উগ্র হিন্দুত্ববাদী শক্তি আক্রমণ করছে। রাজ্য সরকারের নিষ্ক্রিয় ভূমিকায় বাড়ছে ক্ষোভ।’’
সিআইটিইউ অনুমোদিত পরিযায়ী শ্রমিকদের এই সংগঠনের দাবি নিহতদের পরিবারে ১০ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে রাজ্য সরকারকে। রাজ্যে তাঁদের কাজের ব্যবস্থা করতে হবে। নিহতদের পরিবারের কাকে স্থায়ী কাজ দিতে হবে। 
কামাল হোসেন বলেছেন, ‘‘দিতে হবে পরিচিতিপত্র। পরিযায়ীদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে কেন্দ্র এবং রাজ্যের সরকারকে।’’
এর আগে জানুয়ারির ৯ ও ১৪ তারিখ বহরমপুরে জেলা শাসকের দপ্তরে ডেপুটেশন দেয় মাইগ্রান্ট ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন এবং সিপিআই(এম)। পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে এদিনও গিয়েছেন সিপিআই(এম) জেলা সম্পাদক জামির মোল্লা। এদিন পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীও। 
এদিকে কলকাতায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি শান্ত হওয়ার আবেদন জানিয়ে বিজেপি-কে দায়ী করেছেন। ভোটের আগে দাঙ্গা লাগিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন। 
কিন্তু তাঁর প্রশাসন কেন এমন মারাত্মক একের পর এক ঘটনায় সংশ্লিষ্ট রাজ্যের সাধারণ প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে চাপ তৈরি করছে না তা নিয়ে ক্ষোভ যথেষ্ট। তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদরাই বা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রশাসনের ওপর চাপ তৈরি করছে না সে প্রশ্নে সরব বহু শ্রমিক পরিবার। ওয়েস্ট বেঙ্গল মাইগ্রান্ট ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের রাজ্য সম্পাদক আসাদুল্লা গায়েন বলেছেন, ‘‘কাজের নিরাপত্তা জীবিকার নিরাপত্তার দাবিতে লড়াই আরও জোরদার হবে।’’
এদিকে বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার দায় সেরেছেন জেএমএম এবং কংগ্রেস শাসিত ঝাড়খণ্ডের ঘটনা বলে। অথচ তাঁর দল আসীন এমন একের পর এক রাজ্যে বাংলাদেশি বলে হত্যা হয়েছে। অন্য রাজ্যেএ উগ্র হিন্দুত্ববাদীদেরই এমন ঘটনায় যুক্ত থাকতে দেখা গিয়েছে।
আর রাজ্যপাল ভবন থেকে বিক্ষোভকারীদের সকলকে একসঙ্গে সমাজবিরোধী বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে সাংবিধানিক পদে আসীন রাজ্যপাল বাংলার শ্রমিকদের ওপর ভয়াবহ নিপীড়নে দিল্লিতে কী তৎপরতা দেখিয়েছেন, সে ব্যাপারে কিছু বলতে শোনা যায়নি সিভি আনন্দ বোসকে। 
জানা গিয়েছে বেলা সাড়ে তিনটের কিছু পর সড়ক ও রেলপথে অবরোধ ধীরে ধীরে উঠছে।

Comments :0

Login to leave a comment