বুধবার কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী সমিতির উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের মহিলা শিক্ষা কর্মীদের নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমান সময়ে কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের অধিকার, নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং সংগঠিত আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে রেখে আয়োজিত এই কনভেনশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের বিপুল সংখ্যক মহিলা শিক্ষা কর্মী সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
কনভেনশনের উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী যুক্ত সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম নেত্রী অপর্ণা ব্যানার্জি। সভা পরিচালনার জন্য অসীম পাল, অনিন্দিতা ভট্টাচার্য, চন্দনা বালা এবং পপি দে-কে নিয়ে সভাপতি মণ্ডলী গঠিত হয়।
উদ্বোধনী বক্তব্যে অপর্ণা ব্যানার্জি বর্তমান সময়ে দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মহিলাদের ওপর ক্রমবর্ধমান নির্যাতন, বৈষম্য, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতা, সমান অধিকারের প্রশ্ন এবং মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার সংগ্রামের প্রয়োজনীয়তার ওপর বিস্তারিত আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষার লড়াইকে আরও শক্তিশালী করতে ঐক্যবদ্ধ ও সংগঠিত হওয়ার বিকল্প নেই।
কনভেনশনের খসড়া প্রতিবেদন পেশ করেন বেবি ঘোষাল। প্রতিবেদনে বর্তমান সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মহিলা শিক্ষা কর্মীদের নানাবিধ সমস্যা, কর্মপরিবেশের সীমাবদ্ধতা, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসম্মত পরিকাঠামো এবং সাংগঠনিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী সমিতির সম্পাদক মনোজ কুমার সিং কনভেনশনের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মহিলা শিক্ষা কর্মীদের অধিকার রক্ষা, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ গড়ে তোলা এবং তাঁদের দাবিদাওয়া আদায়ের লক্ষ্যে একটি শক্তিশালী ঐক্যবদ্ধ মঞ্চ গড়ে তোলা আজ সময়ের দাবি। তিনি আগামী দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল স্তরের মহিলা কর্মীদের আরও বৃহত্তরভাবে সংগঠিত হওয়ার আহ্বান জানান।
প্রতিবেদনের ওপর আটজন মহিলা শিক্ষা কর্মী গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন। আলোচনায় কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যকর পরিকাঠামো, লিঙ্গসমতা, মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ এবং সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির বিষয়গুলি বিশেষ গুরুত্ব পায়। পরবর্তীতে উপস্থিত প্রতিনিধিদের সর্বসম্মতিক্রমে প্রতিবেদনটি গৃহীত হয়।
কনভেনশনে সর্বসম্মতিক্রমে নিম্নলিখিত গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবগুলি গৃহীত হয়—
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে মহিলাদের জন্য পর্যাপ্ত ও স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
মহিলা সাফাই কর্মীদের জন্য পৃথক স্নানাগার (Bathing Facility) ও চেঞ্জিং রুম (Changing Room) নির্মাণ।
বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে স্থাপিত সমস্ত সিসিটিভি ক্যামেরা সচল ও কার্যকর রাখা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল স্তরের মহিলা কর্মীদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও কর্মপরিবেশ উন্নয়নের লক্ষ্যে অন্যান্য প্রয়োজনীয় দাবি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে শীঘ্রই একটি প্রতিনিধি দল (ডেপুটেশন) প্রদান করা হবে।
আগামী আগস্ট মাসে পশ্চিমবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী যুক্ত সংগ্রাম পরিষদ-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিতব্য রাজ্য মহিলা শিক্ষা কর্মী কনভেনশনে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
Comments :0