কয়লা কেলেঙ্কারির টাকা খাটে আই-প্যাকে এমনটাই দাবি ইডি’র। আই-প্যাক দপ্তরে ইডি হানা এবং মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে মামলা হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। গতকাল শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও সেই মামলার শুনানি হয়নি। এবার এই মামলায় যুক্ত হওয়ার জন্য সুপ্রিম কোর্টে ক্যাভিয়েট ফাইল করলো রাজ্য সরকার। রাজ্যের তরফে সুপ্রিম কোর্টকে জানানো হয়েছে, আইপ্যাক সংক্রান্ত কোনও মামলায় যদি শীর্ষ আদালত শুনানি করে, তবে রাজ্য সরকারের বক্তব্য না শুনে যেন কোনও একতরফা নির্দেশ জারি না করা হয়।
মামলা আই-প্যাক এবং ইডির মধ্যে তৃণমূলও মামলা করেছে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে। সেই মামলায় রাজ্য সরকার কেন যুক্ত হতে চাইলো তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই শুরু করেছে। প্রশ্ন থাকছেই তাহলে রাজ্য সরকারের টাকায় কি মামলা লড়বে তৃণমূল এবং আই-প্যাক?
শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের বেঞ্চে ছিল আই-প্যাকের দপ্তরে ইডি হানা এবং তাতে মুখ্যমন্ত্রীর বাধা দেওয়া সংক্রান্ত মামলার শুনানি। নির্ধারিত সময় শুনানি শুরু হলেও এজলাসে অতিরিক্ত ভিড় থাকায় তা বাতিল হয়ে যায়। হাইকোর্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে আগামী ১৪ জানুয়ারি এই মামলার শুনানি হবে।
বৃহস্পতিবার সকালে আই-প্যাকের মালিক প্রতীক জৈন এবং সেক্টর ৫ এ তাদের অফিসে হানা দেয় ইডি। কয়লা পাচার মামলার তদন্তের সূত্র ধরে এই হানা বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারি সংস্থা। কিন্তু দেখা যায় ইডি প্রতীকের বাড়ি গেলে সেখানে কলকাতা এবং বিধাননগর পুলিশের দুই কমিশনার ও বিশাল বাহিনী নিয়ে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী নিজে। প্রতীকের বাড়ি ঢুকে বিভিন্ন ফাইল, ল্যাপটপ, হার্ড ডিস্ক নিয়ে বেড়িয়ে আসেন এবং তা তৃণমূলের নামে রেজিস্টার করা একটি গাড়িতে তোলেন। তারপর সেখান থেকে যান আই-প্যাকের অফিসে। সেখানেও একই চিত্র দেখা যায়। বিবৃতি দিয়ে ইডি’র পক্ষ থেকে জানানো হয় যে মুখ্যমন্ত্রী তার সাংবিধানিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাদের থেকে ফাইল সহ একাধিক নথি ছিনিয়ে নিয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় ইডি। দায়ের হয়েছে মামলা, তাতে যুক্ত করা হয়েছে মমতাকে। পাল্টা আই-প্যাকের দপ্তরে ইডি হানা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে তৃণমূল তাতে যুক্ত করা হয়েছে ইডি এবং আই-প্যাককে।
মমতা দাবি করেছেন আই-প্যাকের অফিস একটি রাজনৈতিক দপ্তর, তাদের সোশাল মিডিয়া সেলের অফিস। সেখানে তাদের দলের প্রার্থী তালিকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন রিপোর্ট রয়েছে যা ইডিকে ব্যবহার করে সড়িয়ে ফেলা হচ্ছিল।
তবে এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী এবং ইডি’র ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তিনি সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেন, ‘সরকারি কাজে বাধা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বেআইনি কাজ করেছে। তার সাথে সঙ্গ দিয়েছে কলকাতার পুলিশ কমিশনার, বিধাননগরের পুলিশ কমিশনারেট এবং রাজ্য পুলিশের ডিজিপি। এই সবার বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী চোরাই কাজ করছে।’
তিনি বলেন, ‘মমতা বেআইনি কাজ করছে। প্রতীক জৈন একজন নাগরিক, ব্যবসায়ী। আইপ্যাকের মালিকানা কার? বেনামে অভিষেকের।’
সেলিমের কথায়, ‘কোন জায়গায় তল্লাসি হলে জায়গা ঘিরে রাখা হয়। সেখানে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হয় না। কলকাতা বিধাননগরে কমিশনার ঘটনাস্থলে কেন গেলো? এটা বেআইনি কাজ। রেইড চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী পুলিশ নিজের হাতে ফাইল নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। তৃণমূলের তথ্য বলছে। তাহলে বোঝা গেলো দল ঠিক করে না তাদের কে প্রার্থী হবে। কেন কোন প্রস্তুতি না নিয়ে বাহিনী না নিয়ে তল্লাশি করা হলো না? বাহিনী থাকলে মমতা, পুলিশ ঢুকতে পারত না। যেই গাড়িতে সব তথ্য তোলা হয়েছে সেই গাড়ি তৃণমূলের নামে রেজিষ্টার। সরকারি এজেন্সির তল্লাশি করছে তখন পুলিশ, মুখ্যমন্ত্রী ফাইল বার করে তৃণমূলের গাড়িতে তুলছে। দলের হয়ে কাজ করছে পুলিশ। তল্লাশি চলাকালীন এই ভূমিকা আইনত অপরাধ। আমাদের দেখতে হবে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে কোন অভিযোগ দায়ের হয়েছে কি না?’
Supreme Court I-PAC
আই-প্যাক মামলায় পার্টি হতে চেয়ে ‘ক্যাভিয়েট’ ফাইল রাজ্য সরকারের
×
Comments :0