I-PAC SUPREME COURT

কলকাতা হাইকোর্টে আই-প্যাক শুনানিতে বিশৃঙ্খলা নিয়ে ক্ষোভ সুপ্রিম কোর্টের

জাতীয় রাজ্য

পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর মধ্যে চলা আইনি লড়াই এবার এক নজিরবিহীন মোড় নিল। কলকাতা হাইকোর্টে শুনানির সময় তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়ে আজ তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করলো দেশের শীর্ষ আদালত। বিচারপতি প্রশান্ত মিশ্র এবং বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, হাইকোর্টের ভেতরের এই অবস্থা দেখে তারা ‘অত্যন্ত বিচলিত’। আদালত এই বিষয়টিকে একটি ‘গুরুতর বিষয়’ হিসেবে গণ্য করে নোটিশ জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
শুনানি চলাকালীন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা ৯ জানুয়ারির ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানান যে, একদল আইনজীবী যাদের এই মামলার সঙ্গে কোন সম্পর্ক নেই তারা এজলাসে ঢুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। এর ফলে বিচারপতি শুনানি স্থগিত করতে বাধ্য হন। তুষার মেহতা একে "মবতন্ত্র" বলে অভিহিত করেন এবং অভিযোগ করেন যে, তৃণমূলের আইনী সেল হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজের মাধ্যমে আইনজীবীদের জড়ো করেছিল।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষুব্ধ বিচারপতিরা প্রশ্ন করেন, ‘হাইকোর্ট কি যন্তর মন্তরে পরিণত হয়েছে?’ আদালত সাফ জানিয়ে দেয় যে, আবেগের বশবর্তী হয়ে বারবার এমন বিশৃঙ্খলা কোন ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে সরাসরি ‘তথ্য চুরির’ অভিযোগ আনেন। তিনি দাবি করেন, আই-প্যাকের মালিক প্রতীক জৈনের আবাসন থেকে মুখ্যমন্ত্রী ব্যক্তিগত ভাবে তথ্য সরিয়ে নিয়েছেন। মেহতা বলেন, ‘এই ধরনের কাজ রাজ্য পুলিশ অফিসারদের অপরাধে মদত দিতে উৎসাহিত করবে।’ তিনি অবিলম্বে পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ ডিজি রাজীব কুমার এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের সাসপেন্ড করার দাবি জানান।
তৃণমূল নেত্রীর পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বাল ইডির অভিযানের সময় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের পর কয়লা কেলেঙ্কারি মামলায় কোন অগ্রগতি হয়নি। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের মুখে এখন ইডি কেন সক্রিয় হলো?’
সিব্বালের দাবি, আই-প্যাকের কাছে নির্বাচনের রণকৌশল এবং প্রার্থী তালিকা সংক্রান্ত অত্যন্ত গোপনীয় তথ্য থাকে। ইডি সেই তথ্য হাতিয়ে নিলে নিরপেক্ষ নির্বাচন করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। তিনি যুক্তি দেন, সেই গোপনীয়তা রক্ষা করতেই মুখ্যমন্ত্রী সেখানে গিয়েছিলেন।
রাজ্য সরকার এবং ডিজিপির পক্ষে অভিষেক মনু সিংভি সওয়াল করলেও আদালত নমনীয় হয়নি। সিংভি দাবি করেন যে, ৯ জানুয়ারির ঘটনাটি আবেগতাড়িত ছিল এবং পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। কিন্তু বেঞ্চ পাল্টা জবাবে বলে, ‘আবেগ বারবার হাতের বাইরে চলে যেতে পারে না।’ আদালত আরও বলে যে, যদি ইডির নির্বাচনী তথ্য বাজেয়াপ্ত করার উদ্দেশ্য থাকত, তবে তারা তা করতে পারত, কিন্তু তারা তা করেনি।

Comments :0

Login to leave a comment