‘কাজ চাই, কাজ চাই দুটি হাতে কাজ চাই’ বুধবার বাঁকুড়া শহর কৃষক, খেতমজুর, শ্রমিকদের এই শ্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠল। এদিন কৃষক সভা, খেতমজুর ইউনিয়ন, সিআইটিইউ ও বস্তি ফেডারেশনের পক্ষ থেকে এদিন বাঁকুড়া জেলাশাসকের কাছে একাধিক দাবী সামনে রেখে ডেপুটেশন দেওয়া হল। দাবীগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল রেগার কাজ কবে চালু হবে? এখন চাষের কাজ শেষ হয়ে গেছে। খেতমজুররা কোথায় কাজ পাবেন? যাবেন কোথায়? পরিযায়ি শ্রমিক হিসাবে যে কাজে যাবেন সেখানেও কাজ নেই। থাকলেও মজুরি অনেক কমিয়ে দিয়েছে ভিন রাজ্যে। তার সঙ্গে চলছে বাংলা বলার জন্য দৈহিক ও মানসিক আক্রমন। সরকার পরিযায়ী শ্রমিকদের নাম নথি ভুক্ত করার কথা বললেও সেখানে রয়েছে একাধিক জটিলতা। এই সব জটিলতা কাটিয়েও যাঁরা নাম নথি ভুক্ত করেছেন তাঁরা কেউই সরকার ঘোষিত ৫ হাজার টাকা করে কোনও ভাতাই পাননি এখনও। ফলে গ্রাম, শহরের পরিযায়ী শ্রমিক হিসাবে কাজ করতে যাওয়া যুবকদের পরিবারে এক চরম সংকট নেমে এসেছে।
কৃষকরা সরকারি মান্ডিতে ধান বিক্রি করতে পারছেন না। মাত্র ১৫ কুইন্টাল ধান কেনার কথা বলা হলেও শাসকদলের লোকজন আগে থেকেই বহু মানুষের নাম অনলাইনে ঢুকিয়ে দিয়েছে ফলে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকরা। বাধ্য হয়েই আড়ৎদারের কাছে আত্মসমর্পন করতে হচ্ছে। আড়ৎদার সেই ধান সরকারি মান্ডিতে দিয়ে বেশি টাকা সরকারি মূল্য পাচ্ছে। এই অবস্থার পরিবর্তন চাওয়া হয়েছে। বাঁকুড়া জেলার একাধিক কারখানা বন্ধ। যেগুলি চলছে সেখানেও কর্মী সংখ্যা কম। কী করবেন শ্রমিকরা? তাই কারখানা খুলে শ্রমিকদের কাজ দিতে হবে এদিন এই দাবী জোরালো ভাবে তোলা হয়েছে। দাবী তোলা হয়েছে শ্রমকোড বাতিল করতে হবে। পাশাপাশি বস্তি এলাকায় পানীয়জল, সরকারি আবাসনের বাড়ি স্বচ্ছতার সঙ্গে দেওয়ার দাবী তোলা হয় বুধবার বাঁকুড়ায়। এদিন বাঁকুড়া শহরের তামলি বাঁধ থেকে মিছিল শুরু হয়। জেলাশাসকের দপ্তরের সামনে মিছিল এলে পুলিশ মিছিলকে আটকে দেয়। সেখানেই অবস্থান করেন কৃষক, শ্রমিক, খেতমজুর, বস্তিবাসী মানুষজন। সেখানে বক্তব্য রাখেন খেতমজুর নেতা সাগর বাদ্যকার, কৃষক নেতা অজিত পতি, শ্রমিক নেতা অভয় মুখার্জি, সৌমেন্দু মুখার্জি।
Comments :0