Festival Book Stall Left Parties

পাশে জনতা, ফ্যাসিবাদী কায়দায় হামলা রুখে হবে বুক স্টল, ঘোষণা বাম নেতৃবৃন্দের

রাজ্য কলকাতা

শুক্রবার মুজফ্‌ফর আহমদ ভবনে সাংবাদিক সম্মেলনে বামপন্থী নেতৃবৃন্দ।

হামলা আক্রমণ সত্ত্বেও জনতা আসছেন বামপন্থীদের বুক স্টলে। ফ্যাসিবাদী কায়দায় আক্রমণ মোকাবিলা করেই বুক স্টল বরাবরের মতোই হবে।
শুক্রবার মুজফ্‌ফর আহমদ ভবনে সাংবাদিক সম্মেলনে এই ঘোষণা করেছেন বামপন্থী দলগুলির নেতৃবৃন্দ। সাংবাদিক সম্মেলনে অংশ নেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম, সিপিআই রাজ্য সম্পাদক স্বপন ব্যানার্জি, ফরওয়ার্ড ব্লক রাজ্য সম্পাদক নরেন চ্যাটার্জি, আরএসপি নেতা দেবাশিস মুখার্জি, সিপিআই(এমএল) লিবারেশনের পলিট ব্যুরো কার্তিক পাল, এসইউসিআই(সি) রাজ্য সম্পাদক চণ্ডীদাস ভট্টাচার্য। 
এদিন বনগাঁর বুক স্টল সংক্রান্ত মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের রায় প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হয়। সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক বলেন যে আদালতের রায় প্রসঙ্গে এখনই মন্তব্য করা হচ্ছে না। তবে বামপন্থী দলগুলির দপ্তরে সারা বছরই বই থাকে। উৎসবের সময় সবাই রাস্তায় নেমে আসে। জনতাও রাস্তায় থাকেন, তাঁদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা হয়।
সেলিম বলেন যে এর আগে হাইকোর্ট যা বলেছে তার আসল অর্থ আইন সকলের জন্য সমান। 
এদিকে বনগাঁর বুকস্টলের মামলায় সিপিআই(এম)’র আইনজীবী শামিম আহমেদ বলেছেন যে রায় কেবল একটি জায়গার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ। সারা রাজ্যের জন্য নয়। বস্তুত শুক্রবার ডিভিশন বেঞ্চ আদালতে রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্ল্বদল ভট্টাচার্যকে প্রশ্ন করেন যে সারা রাজ্যে সব স্টলের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কিনা। তিনিও আদালতে বলেছেন যে এই বিষয়টি কেবল বনগাঁর ওই স্টলের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ। এখানে সিপিআই(এম)’র  কয়েক দশকের স্টল বসতে না দিয়ে হিন্দু জাগরণ মঞ্চ স্টল করে। 
উল্লেখ্য, বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের সিঙ্গল বেঞ্চ বনগাঁয় সিপিআই(এম)-কে বুক স্টলের অনুমতি দেয়। এদিন সেই রায়ে স্থগিতাদেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র বিঠলরাও ঘুগে ও বিচারপতি শব্বর রশিদির বেঞ্চ।   
সেলিম বলেন, রাজ্যে বুক স্টলের ওপর যে হামলা হচ্ছে তা আসলে ফ্যাসিবাদী কায়দায় গণতন্ত্রের ওপর আক্রমণ। বামপন্থীদের দাবি, রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিবকে ব্যবস্থা নিতে হবে। পুলিশ কোথাও সক্রিয় হচ্ছে না। মদত দিচ্ছে হামলাবাজদের। এই হামলাবাজ দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার করতে হবে। 
সেলিম বলেন, মানুষ চেয়েছিলে আইনের শাসন। তার বদলে দুষ্কৃতীরা দাপাচ্ছে। তিনি বলেন, বামপন্থী দলগুলি উৎসবের সময় নতুন এবং পুরনো বই নিয়ে হাজির হই। বই কেনা এবং পড়ার অভ্যাস হয়। মননশীল, যুক্তিবাদী আবহাওয়া গড়ে তুলতে চর্চা হয়। এবার প্রথম থেকে সরকার চেষ্টা করেছে তা বন্ধ করার। মুখ্যমন্ত্রী নিজে বলেছেন কোন বই রাখবে কোনটা রাখবে না, কে স্টল করবে কে করবে না। সরকারের কাজ এটা নয়। সরকারের কাজ আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখা, যানবাহন চলাচল নজর রাখা। তার বদলে অকাজ-কুকাজ করছে। 
কখনো কসবা, কখনো বেহালা, ঢাকুরিয়া, কখনো ভাটপাড়ায় একটার পর একটা বামপন্থীদের বুক স্টল ভাঙার চেষ্টা হচ্ছে।
সেলিম বলেন, বই ছাপা, পড়া বিক্রি কোনও শাসক আটকাতে পারে না। হামলা প্রতিহত করব। বই স্টল হচ্ছে বেশি সংখ্যায়। কিন্তু যারা করছে পুলিশের তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। পুলিশ এবং স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে দাবি জানাচ্ছি।
বামপন্থী দলগুলির আহ্বান, সবাই যাতে নিজের নিজের মত প্রচার করতে পারে তার ব্যবস্থা রাখার দায়িত্ব পুলিশ ও প্রশাসনের।
সেলিম বলেন, আবেদন করব শান্তি-সম্প্রীতি বজায় থাকুক। অর্থনীতির অবস্থা যা তাতে উৎসবের মেজাজ হারিয়েছে। তার ওপর আমাদের যা ঐতিহ্য, ভাষা বা সাজসজ্জা, বাঙালিকে বাঙালির মতো থাকতে দেবে না। 
মানুষের কাছে আবেদন সংঘবদ্ধভাবে আমাদের সম্প্রীতি ঐতিহ্য রক্ষা করুন। 
সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে ছাত্রদের ওপর হামলা হয়েছিল। আক্রান্ত ছাত্রদের বহিষ্কারের চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ। তার তীব্র প্রতিবাদ জানায় বাম দলসমূহ।
দিল্লিতে তিরঙ্গা যাত্রায় ধরপাকড়েরও তীব্র নিন্দা করা হয়েছে। সেলিম বলেন, নতুন প্রজন্ম তিরঙ্গা নিয়ে নেমেছে। তাতেও ওদের আপত্তি। আমাদের সাংবিধানিক বিধি, গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের ওপর আক্রমণ। তার নিন্দা করছি। 
স্বপন ব্যানার্জি বলেন, বাংলার ইতিহাস আছে। বাংলা পিছিয়ে থাকে না। তিনি বলেন, বাংলার ভাবা দরকার, এগিয়ে আসা দরকার। মানুষ কথা বলতে পারবে না, মত প্রকাশ করতে পারবে না, চিন্তার ওপর দখলদারি হচ্ছে। তাই প্রধানমন্ত্রী বলছেন ‘দিমাগী নকশাল’। বামপন্থীরা এই শাসন মেনে নিতে পারে না। 
চণ্ডীদাস ভট্টাচার্য, বুক স্টলের ওপর আক্রমণ আসলে বামপন্থী চিন্তার ওপর আক্রমণ। শোষণ মুক্ত সমাজের ভাবধারার ওপর আক্রমণ। হিটলার, মুসোলিনি একই আক্রমণ করেছিলেন। আজকে যারা বামপন্থী, কমিউনিস্টদের আক্রমণ করছে তারা হিটলার, মুসোলিনির বংশধর। ফ্যাসিবাদ চিন্তার প্রক্রিয়ার ওপরই আক্রমণ করে, চিন্তাশীল সমাজ সে চায় না। 
নরেন চ্যাটার্জি, বাংলায় উৎসব ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালির। বিভিন্ন পত্রপত্রিকা শারদোৎসব উপলক্ষে বই প্রকাশ করেন। বইয়ের স্টল হবে। 
কার্তিক পাল বলেছেন, ঢাকুরিয়ায় আমাদের নেতা বাবুন চ্যাটার্জি বুক স্টল রক্ষা করতে গিয়েছিলেন। তাঁকে নৃশংস আক্রমণ করা হয়েছে। এরা আসলে দুষ্কৃতী। আক্রমণ যত হবে মানুষ তত ঐক্যবদ্ধ হবেন।
উল্লেখ্য, ঢাকুরিয়ায় সিপিআই(এম)’র বুক স্টলের জায়গায় লিবারেশনের স্টলও হচ্ছে পাশাপাশি। 
দেবাশিস মুখার্জি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী যা বলছেন তাতে পদের গরিমা নষ্ট হচ্ছে। দাবি করছি যে পুলিশ মন্ত্রী স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার করতে হবে।


সেলিম বলেন, কে কী খাবে কোথায় খাবে তা কি সরকার বা রাজনৈতিক দল ঠিক করে দিতে পারে? এটা বইয়ের ওপর আক্রমণ কেবল নয়, গণতন্ত্রের ওপর আক্রমণ। বাংলাদেশে স্বাধীন ব্লগার খুন হয়েছেন। আমাদের দেশে গৌরী লঙ্কেশ, গোবিন্দ পানসারেকে খুন করা হয়েছে। বিজ্ঞানমনস্কতা, ন্যায়ের ওপর আক্রমণ। মানুষ প্রতিরোধ করবেন। বিভিন্ন রাজ্যে সাম্প্রদায়িক উস্কানি হচ্ছে। বাংলায় এটা ঐতিহ্য নয়। 
যেখানে আক্রমণ হচ্ছে। সেখানেই প্রতিহত হচ্ছে। ঢাকুরিয়ায় লিবারেশন স্টল আক্রান্ত। সিপিআই(এম)’র জায়গায় দু’টি স্টল হবে। তিনি বলেন, হামলা মানুষ প্রতিহত করছেন। বই কিনছেন। 
সেলিম বলেন, পুজোর আগে আক্রমণ করে রাস্তায় নামতে বাধ্য করছে। দেশে উৎসব হয়, সেখানেও আন্দোলন হচ্ছে। ব্যবস্থা নেওয়া হলে উৎসবের মধ্যে রাস্তায় নামতে বন্ধ হবে বামপন্থীরা। তিনি বলেন, আমরা আক্রান্ত কিন্তু পরিশ্রান্ত না। 
গত চার-পাঁচ মাস যা করেছে তাতে যারা ভোট দিয়েছেন তাঁরাও বলছেন এসবের জন্য ভোট দেইনি।

Comments :0

Login to leave a comment