NATUNPATA | GENERAL KNOWLEDGE | BAGHAJATIN O Dr SURESHPRASAD SARBADHIKARY | TAPAN KUMAR BIRAGAYA | 14 AUGUST 2026 | 4th YEAR

নতুনপাতা | জানা অজানা | বাঘাযতীন ও ডাঃ সুরেশপ্রসাদ সর্বাধিকারী | তপন কুমার বৈরাগ্য | ১৪ আগস্ট ২০২৬ | ৪র্থ বর্ষ

নতুনপাতা/মুক্তধারা

NATUNPATA  GENERAL KNOWLEDGE  BAGHAJATIN O Dr SURESHPRASAD SARBADHIKARY  TAPAN KUMAR BIRAGAYA  14 AUGUST 2026  4th YEAR

নতুনপাতা  

জানা অজানা

বাঘাযতীন ও ডাঃ সুরেশপ্রসাদ সর্বাধিকারী

তপন কুমার বৈরাগ্য

১৪ আগস্ট ২০২৬ | ৪র্থ বর্ষ 

বাঘাযতীন শহিদ হয়েছিলেন ১০ই সেপ্টেম্বর ১৯১৫খ্রিস্টাব্দে। ৯ই সেপ্টেম্বর উড়িষ্যার বালেশ্বরে বুড়িবালাম নদীর উপকন্ঠে 
চার্লস টেগার্ট,কমান্ডার রাদারফোর্ড,জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কিলভি এবং তাঁদের অসংখ্য সামরিক বাহিনীর সাথে
এক অসমযুদ্ধে তিনি গুরুতর আহত হন।ঐদিনই বালাসর হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করা হয়।এই বালাসর হাসপাতালেই
তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ১৮৭৯খ্রিস্টাব্দের৭ই ডিসেম্বর নদীয়া জেলার কুষ্টিয়ার
নিকট কয়াগ্রামে মামার বাড়িতে যতীন্দ্রনাথ জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি খুব সাহসী এবং দূরন্ত ছিলেন।
তাঁর আসল নাম ছিল যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়। যতীন্দ্রনাথ তখন কৈশোরে পা দিয়েছেন।মামাতো ভাই
ফণির সাথে বাঘের অত্যাচার থেকে গ্রামের মানুষকে বাঁচাবার জন্য বাঘ মারতে গেছেন।ফণিবাবুর হাতে ছিলো
বন্দুক কিন্তু যতীনের হাতে ছিল কেবলমাত্র একটা ভোজালি।এই একটা ভোজালি দিয়ে তিনি বাঘটাকে
মেরেছিলেন।সমস্ত দেহ তাঁর ক্ষত-বিক্ষত হয়ে গিয়েছিল। তাঁর বাঁচার আশা প্রায় ছিলই না। তাঁর দুই মামা ললিত কুমার
মুখোপাধ্যায় এবং বসন্ত কুমার মুখোপাধ্যায় তাঁকে চিকিৎসার জন্য কলকাতায় নিয়ে আসেন। তখন কলকাতার সেরা
চিকিৎসক ছিলেন সুরেশপ্রসাদ সর্বাধিকারী। সুরেশপ্রসাদের কাছে তাঁর মামা তাঁকে নিয়ে গেলেন।সুরেশপ্রসাদ যতীনের
চিকিৎসা করতে রাজী হলেন।এই ছেলেটার অসীম সাহসের জন্য তিনি অভিভূত হয়ে গেলেন। তিনি বুঝেছিলেন এই
ছেলেটাই দেশের একদিন সেরা স্বাধীনতা সংগ্রামী হবেন। তাই তাঁকে বাচাতেই হবে। যতীনের তখন জ্ঞান নেই।তিনি প্রথমে 
আপ্রাণ চেষ্টা করলেন তাঁর জ্ঞান ফিরাতে।তাঁতে তিনি সফলও হলেন। তাঁরপর কঠিন অপারেশন।তাঁতেও তিনি সফল হলেন।তাঁর ক্ষতবিক্ষত
দেহকে আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনলেন। একদিন সুরেশপ্রসাদ তাঁকে বললেন--তুমি তো দেখছি
যে সে ছেলে নও।বাঘের সাথে লড়াই করে বাঘ মেরেছো। আজ পর্যন্ত একটা ভোজালি দিয়ে কৈশোরে কেউ বাঘ মারতে
পারেনি।জানি তোমার মতন ছেলেই একদিন দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে পারবে।আজ থেকে তোমার নাম
দিলাম বাঘাযতীন।পরবর্তীতে এই বাঘা যতীন যুগান্তর দলের প্রধান নেতা হন। আর সুরেশপ্রসাদ যিনি যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের
নাম দিয়েছিলেন বাঘাযতীন তিনি ছিলেন একজন স্বাধীনচেতা চিকিৎসক। ১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দে মেডিসিন ও সার্জারিতে
অনার্সসহ এমবি এবং১৮৯১ খ্রিস্টাব্দে এমডি ডিগ্রি লাভ করেন।তিনি প্রমাণ করে দেখান যে ইউরোপীয় ডাক্তারদের
চেয়ে ভারতীয় ডাক্তাররা কোনো অংশে কম নন।তাঁর জ্বলন্ত প্রমাণ মৃত্যুর মুখ থেকে বাঘাযতীনকে ফিরিয়ে আনা।
তিনি ইংরেজদের দাসত্ব কোনোদিন মানেন নি।নিজেই স্বাধীনভাবেই রোগির চিকিৎসা করে গেছেন। তিনি চেয়েছিলেন
দেশীয় চিকিৎসকরা নিজের মর্যাদা সম্বন্ধে সচেতন হোক। বাঘাযতীন যখন বিপ্লবী হিসাবে খ্যাতিলাভ করছেন
তখন তাঁর বুক আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে উঠেছিল। ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দের ১০সেপ্টেম্বর বাঘাযতীন যখন শহিদ হন তখন
তিনি এই শহিদের চরণে শতকোটি প্রণাম জানিয়েছিলেন।

Comments :0

Login to leave a comment