শিলিগুড়ি মহকুমার নকশালবাড়ি চা বাগানে বোনাসের দাবিতে সোমবার বিক্ষোভ দেখালেন শ্রমিকেরা। ৪৮ঘন্টা ধরে কাজ বন্ধ রেখে বিক্ষোভে সামিল হলেন নকশালবাড়ি চা বাগানের শ্রমিকরা। রবিবারও তাঁরা বাগানের কাজে যোগ দেননি। এদিনও কাজ বন্ধ রেখেছেন। চা শ্রমিকদের নির্দিষ্ট দাবি এবছরের ২০ শতাংশ বোনাস ও গত বছরের বাকি থাকা ৩ শতাংশ মিলিয়ে মোট ২৩ শতাংশ বোনাস এক কিস্তিতে দিতে হবে। ৫ অক্টোবরের মধ্যে চা শ্রমিকদের পুজো বোনাস মিটিয়ে দেবার জন্য মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু সোমবার পর্যন্ত বোনাস না মেলায় শ্রমিকদের মধ্যে বোনাসের দাবিতে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দেয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম হলেও শ্রমিকরা বোনাস পাননি। অবিলম্বে ২০ শতাংশ বোনাস দিতে হবে এই দাবিতে শ্রমিকরা ৪৮ঘন্টা ধরে কাজ বন্ধ রেখে বিক্ষোভে সামিল হয়।
বাগানের শ্রমিকদের অভিযোগ, গত বছরের ৩ শতাংশ পুজো বোনাস এখনও বকেয়া। এবছরের ২০ শতাংশ বোনাস দিতেও টালবাহানা করছে বাগান কর্তৃপক্ষ। সারা বছর কাজ করার পর পুজো বোনাস পাওয়াটা তাদের ন্যায্য দাবি। কিন্তু প্রতিবছর পুজো বোনাস নিয়ে কর্তৃপক্ষ টালবাহানা করে। চা শ্রমিকরা অভিযোগ করে বলেন, যেহেতু অর্গানিক পদ্ধতিতে চা চাষ হয় নকশালবাড়ি চা বাগান। সেই কারণে বছরের প্রতিটি দিন খেটে কাজ করতে হয় এই বাগানের শ্রকিদের। বাগান মালিক ব্রিটিশ সরকারের মনোভাব নিয়ে চলছে। প্রাপ্য বোনাসের দাবিতে চা বাগানে শ্রমিক অসন্তোষ ক্রমশ বাড়ছে। বকেয়া বোনাস মিটিয়ে দেওয়া সহ এবছরের ২০ শতাংশ পুজো বোনাসের দাবিতে কাজ বন্ধ রেখে ধারাবাহিকভাবে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন বিক্ষোভে সামিল হওয়া বাগিচা শ্রমিকেরা।
এদিনের বিক্ষোভ প্রসঙ্গে জয়েন্ট ফোরামের পক্ষে গৌতম ঘোষ বলেন, ‘‘একেই গত বছরের বোনাস বকেয়া রয়েছে। সরকারের নির্দেশের পরেও মালিকপক্ষ বলছে এখন ১০ শতাংশ ও পরে আরও ১০শতংশ বোনাস দেবে। বাগান শ্রমিকদের পাশে রয়েছি। ন্যায্য বোনাসের দাবিতে বিক্ষোভ আন্দোলন চলছে। এই দাবিতে মঙ্গলবার বিডিও অফিসে স্মারকলিপি জমা দেওয়া ও বিক্ষোভ প্রদর্শন কর্মসূচিতে সামিল হবেন নকশালবাড়ি চা বাগানের শ্রমিকেরা।’’
Tea Workers Protest
বোনাসের দাবিতে বিক্ষোভ নকশালবাড়ি চা শ্রমিকদের
নকশালবাড়ি চা বাগানে শ্রমিক বিক্ষোভ। ছবি রাজু ভট্টাচার্য
×
Comments :0