আবারও কলকাতা উপলব্ধি করল ময়দানের হৃদস্পন্দন। ফুটবলের মক্কায় সবুজ মেরুন জনতার উচ্ছ্বাস। গ্যালারি জুড়ে স্লোগান থেকে শুরু করে ফ্ল্যাগ উড়িয়ে প্রিয় দলকে সমর্থন, টিফো, স্কার্ফ এবং ফুটবলপ্রেমী জনতার উন্মাদনা, এককথায়, ‘কলকাতা ফুটবলের এসেন্স‘। দিনের শেষে ৫-২ ব্যবধানে জয়ী হল মোহনবাগান।
রবিবার মোহনবাগান মাঠে এই মুহূর্তগুলোই বারবার ধরা পড়ল। ময়দানের রাস্তা ধরে যখন মোহনবাগান সমর্থকরা মাঠে প্রবেশ করছেন, তখন সেই চেনা নস্টালজিয়া এবং বাঙালির ফুটবল আবেগের প্রতিচ্ছবি যেন বারবার ফুটে উঠছিল। গ্যালারি জুড়ে ছিল উপচে পড়া ভিড়। এটাই তো কলকাতা ফুটবলের মাহাত্ম্য। আর মাঠে তখন মুখোমুখি মোহনবাগান বনাম ডালহৌসি।
গত ম্যাচে বড় জয়ের ফলে, এমনিতেই সবুজ মেরুনের আত্মবিশ্বাস ছিল তুঙ্গে। কলকাতা লিগের এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে, শুরু থেকেই চাপ বজায় রাখার চেষ্টা করে মোহনবাগান। যেদিকে চোখ যায়, সেদিকেই শুধু সবুজ মেরুন পতাকা। ডিফেন্স, মাঝমাঠ এবং আক্রমণ, এই তিন বিভাগেই সাবলীল ছিল বাস্তব রায়ের ছেলেরা।
গোটা মাঠজুড়ে খেলা শুরু করে মোহনবাগান এবং বরাবর আক্রমণের তীব্রতা বজায় রাখে। গ্যালারিতে সবুজ মেরুন সমর্থকদের গলা ছেড়ে গান, সবুজ মেরুন রংমশাল এবং ড্রামের আওয়াজ, যেন পুরো উৎসবের মেজাজ।
ফার্স্ট হাফের শুরু থেকেই একাধিক সুযোগ তৈরি করে মোহনবাগান। ফল এলো হাতেনাতে, ম্যাচের ২৬ মিনিটেই সুহেলের গোলে এগিয়ে যায় তাঁরা। ক্রমাগত আক্রমণে তখন নাজেহাল ডালহৌসি।
কিছুক্ষণ পর ম্যাচের ৪৩ মিনিটের মাথায়, দুরন্ত রিসিভ এবং প্রথম টাচেই আবারও অনবদ্য গোল সেই সুহেলের। প্রথমার্ধেই মোহনবাগান এগিয়ে যায় ২-০ ব্যবধানে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আবার গোল। পেনাল্টি থেকে সুহেলের গোল এবং সেইসঙ্গে সেরে ফেললেন হ্যাটট্রিক। তারপরেও একাধিক সুযোগ পায় মোহনবাগান। আর তার ফলস্বরূপ, ম্যাচের ৬০ মিনিটে আবার গোল। এবার ফারদিনের গোলে ব্যবধান বাড়ায় বাগান শিবির। এংসনের পরিবর্তে মাঠে এসেই সুপার সাব ফারদিন আলি মোল্লা।
এরপর দুটি পরিবর্তন করেন মোহনবাগান কোচ। রাজ বাসফোরে ও নাওরেমের বদলে মাঠে আসেন রবি রানা এবং উত্তম হাঁসদা। যদিও পড়ে পাওয়া চৌদ্দ আনা, একটি গোল পায় ডালহৌসিও। তবে পাল্টা আক্রমণে বরাবরই ছন্দে ছিল সবুজ মেরুন। তারপর মাঠে নামেন ভিয়ান। দ্বিতীয়ার্ধের শেষ কোয়ার্টারে আবার গোল ফারদিনের। সেইসঙ্গে আরও এগিয়ে গেল সবুজ মেরুন ব্রিগেড। যদিও খেলা শেষের একটু আগে আরও একটি গোল পায় ডালহৌসি।
শেষপর্যন্ত ৫-২ গোলে জয়ী হয় মোহনবাগান। ম্যাচের পর হাসিমুখে আবার সেই উচ্ছ্বাস দেখা যায় বাগান সমর্থকদের মধ্যে।
Comments :0