অনিল কুন্ডু: কলকাতা
নাজিরাবাদে বিধ্বংসী অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ২০ জন। সোমবার ভোররাতে আনন্দপুরের কাছে নাজিরাবাদ এলাকায় একটি খাদ্য ডেলিভারি সংস্থার গুদামে প্রথমে আগুন লাগে। বিধ্বংসী আগুন পাশের ডেকোরেটার্সের গুদামে ছড়িয়ে পড়ে। পরপর ২টি গুদামে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ঘটনাস্থলে আসে দমকলের ১২টি ইঞ্জিন। দমকল কর্মীদের সারা দিনের প্রচেষ্টায় এদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত ৭ জনের অগ্নিদগ্ধ দেহ উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এদিকে ওই দুটি গুদামে থাকা শ্রমিকদের পরিবার পরিজনেরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে এসেছেন। এখনো কোন খোঁজ না পাওয়ায় কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তাঁরা। অগ্নিকান্ডের ঘটনায় এখনো পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন ২০ জন। ইতিমধ্যে পুলিশের কাছে তাঁদের পরিবার পরিজনরা নিখোঁজ ডায়েরিও করেছেন।
এদিকে দীর্ঘ সময় ধরে দমকল কর্মীরা বিধ্বংসী আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও গুদামের ভিতরে দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে থাকে। ভোর রাতে বিধ্বংসী আগুন দেখে স্থানীয় মানুষেরা ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। তাঁরাই দমকল ও পুলিশে খবর দেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের কথায়, গুদামের ভিতরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হওয়ায় আগুন ভয়াবহ রূপ নেয় ও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। গুদামের পাশে থাকা মেস ও বাড়ি গুলি থেকে লোকজনদের সরিয়ে দেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কলকাতার আনন্দপুরের সংলগ্ন হলেও নাজিরাবাদ এলাকাটি নরেন্দ্রপুর থানার অধীনে। এদিন বিধ্বংসী অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ঘটনাস্থলে আসেন বিদ্যুৎমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও সোনারপুর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক ফিরদৌসী বেগম। তাঁরা ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবার পরিজনদের সঙ্গে দেখা করে ফিরে গিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, মৃতদের সংখ্যা আরো অনেক বাড়বে। গুদাম দুটিতে বাইরে থেকে তালা বন্ধ থাকায় ভিতরে আগুন লাগলেও কেউ বেরোতে পারেননি। বিধ্বংসী আগুনে গুদামের ভিতরেই তাঁরা দগ্ধ হয়েছেন বলে আশঙ্কা করেছেন স্থানীয় মানুষেরা।
এদিন ঘটনাস্থলে আসেন বারুইপুর পুলিশ জেলার পদস্থ আধিকারিকরা। পুলিশের এক আধিকারিক এদিন সন্ধ্যায় জানান, আগুন লাগার কারণ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি পুরো বিষয়টি নজরে রাখা হয়েছে। তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
Comments :0